মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
২০শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

আন্তর্জাতিক

কানাডার কুইবেক নির্বাচনে বিচ্ছিন্নতাবাদী দল কিউবেকোইস পার্টির জয়, স্বাধীনতার প্রশ্ন ফের মুখ্য

কুইবেকোইস পার্টি (পিকিউ) কানাডার ফরাসি‑ভাষী প্রদেশ কুইবেকের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন জয়লাভ করেছে, ফলে তাদের নেতা পল সাঁ-পিয়ের প্লামানদো প্রদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন এবং স্বাধীনতার জন্য তৃতীয় গণভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফলে কুইবেকের স্বাধীনতার প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে, কারণ ২০২২ সালের নির্বাচনে মাত্র তিনটি আসন পাওয়া দলটি এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা আট বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা কোয়ালিশন অ্যাভেনির কুইবেক (সিএকিউ) সরকারের পতনকে নিশ্চিত করেছে।

ফ
ফাতেমা খানম· আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ এএমসর্বশেষ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
কানাডার কুইবেক নির্বাচনে বিচ্ছিন্নতাবাদী দল কিউবেকোইস পার্টির জয়, স্বাধীনতার প্রশ্ন ফের মুখ্য

কানাডার ফরাসি‑ভাষী প্রদেশ কুইবেকের নির্বাচনে বিচ্ছিন্নতাবাদী কুইবেকোইস পার্টি (পিকিউ) সবচেয়ে বেশি আসন জয়লাভ করেছে, ফলে তাদের নেতা পল সাঁ-পিয়ের প্লামানদো প্রদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। দলটি নির্বাচনী প্রচারে প্লামানদো প্রথম মেয়াদেই কুইবেকের স্বাধীনতার বিষয়ে তৃতীয় গণভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার আগে তিনি এই ভোটের আয়োজন করবেন না বলে জানান। ১২৭ আসনের কুইবেক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৬৪টি আসন প্রয়োজন হয়; পিকিউ এই সংখ্যা পেয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে দলটিকে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে হবে।

২০২২ সালের নির্বাচনে পিকিউ মাত্র তিনটি আসন পেয়েছিল, আর এবারের ফলাফলে কুইবেকে আট বছর ক্ষমতায় থাকা কোয়ালিশন অ্যাভেনির কুইবেক (সিএকিউ) সরকারেরও অবসান ঘটেছে। সিএকিউ হল একটি জাতীয়তাবাদী দল, যদিও তারা স্বাধীনতার পক্ষে নয়। পিকিউর এই জয় কুইবেকের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে এবং প্রদেশের ভবিষ্যৎ স্বাধীনতা ইস্যুকে আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যানিয়েল বেলার আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, এই জয় কুইবেকের বহুদলীয় রাজনীতির ফল; স্বাধীনতার পক্ষে জনসমর্থনে বড় উত্থানের প্রতিফলন নয়। বেলার উল্লেখ করেন যে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ, যা ১৯৮০ ও ১৯৯৫ সালের গণভোটের ফলাফলের কাছাকাছি।

কুইবেকে ১৯৮০ ও ১৯৯৫ সালে স্বাধীনতার বিষয়ে দুটি গণভোট হয়েছিল। দুবারই ভোটাররা কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, যা প্রমাণ করে যে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমত জয়েন করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পিকিউর জয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন, জনমতের ঢেউয়ের নয়, এবং প্রদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও গভীর আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

প্লামানদো সরকার গঠনের পরামর্শদাতা ও বিশ্লেষকরা জানান, পিকিউর সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া সত্ত্বেও সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে হবে, যা কুইবেকের রাজনীতিতে নতুন সমঝোতা ও আলোচনার যুগ শুরু করবে। এই নির্বাচনের ফলাফল কানাডা-কুইবেক সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য স্বাধীনতা ইস্যুর ভবিষ্যৎকে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যা দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ফ

ফাতেমা খানম

আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা

আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ