বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে মাদরাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত, স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে একীভূত

রাজ্য সরকার মাদরাসা সার্ভিস কমিশন (এমএসসি) বিলুপ্ত করে তা স্কুল সার্ভিস কমিশনের (ডব্লিউবিএসএসসি) সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য বিধানসভায় দুটি পৃথক বিল আনাসহ গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

ফ
ফাতেমা খানম· আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ এএমসর্বশেষ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ এএম
পশ্চিমবঙ্গে মাদরাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত, স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে একীভূত

পশ্চিমবঙ্গ সরকার মাদরাসা সার্ভিস কমিশন (এমএসসি) বিলুপ্ত করার এবং এটিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (ডব্লিউবিএসএসসি) সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দুটি পৃথক বিল বিধানসভায় উত্থাপনের মাধ্যমে এটি কার্যকর করা হবে, যার পরে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দুটি বিল বিধানসভায় পেশ করা হবে। একটি বিল মাদরাসা সার্ভিস কমিশন আইন বাতিলের জন্য, অপরটি স্কুল সার্ভিস কমিশন আইনে সংশোধনী আনবে। বিল দুটি পাস হওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হবে এবং তারপর সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হবে।

পশ্চিমবঙ্গ মাদরাসা সার্ভিস কমিশন ২০০৮ সালের মাদরাসা সার্ভিস কমিশন আইনের অধীনে ২২ অক্টোবর ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর আগে ২০০৭ সালে ৬১৪টি মাদরাসাকে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এসব মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগের কাঠামো নির্ধারণে এই আইন করা হয়। নতুন ব্যবস্থায় সরকারি স্বীকৃত মাদরাসাগুলোর শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে হবে, অর্থাৎ স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগ একই কাঠামোর আওতায় আসবে।

এই নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শিক্ষক নিয়োগকে সহজ করবে বলে রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা মনে করছেন। একই সঙ্গে আলাদা অবকাঠামো পরিচালনার প্রয়োজনও কমবে। তবে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যোগ্যতার শর্ত, বিষয়ভিত্তিক শূন্য পদ এবং পরীক্ষার নিয়ম কী হবে, তা প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনী অনুমোদনের পরই স্পষ্ট হবে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য বিভিন্ন ধরনের স্কুলে শিক্ষক নিয়োগকে একটি কাঠামোর আওতায় আনা।

সম্প্রতি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তর থেকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য সরকারের ‘এক রাজ্য, এক শিক্ষা’ নীতির সঙ্গে এ সিদ্ধান্তও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) অনুযায়ী আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আনা এবং উচ্চশিক্ষা প্রশাসনকে আরো সমন্বিত করা।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের ২২টি জেলা ও কলকাতাজুড়ে চালানো এক জরিপে ২ হাজার ১৩২টি মাদরাসার যথাযথ সরকারি অনুমোদন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ২ হাজার ৩৯৬টি মাদরাসা প্রয়োজনীয় সরকারি বা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। যাচাইয়ের পর রাজ্য সরকার ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। আরো প্রায় ১০০টি মাদরাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ফ

ফাতেমা খানম

আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা

আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ