বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

আন্তর্জাতিক

কেনিয়ায় ইবোলায় মৃত্যু, আফ্রিকাজুড়ে নতুন শঙ্কা

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে কেনিয়ায় পৌঁছানো ইবোলা ভাইরাসে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা সীমান্ত পেরিয়ে রোগটি আরো দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ফ
ফাতেমা খানম· আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:২৫ পিএমসর্বশেষ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:২৫ পিএম
কেনিয়ায় ইবোলায় মৃত্যু, আফ্রিকাজুড়ে নতুন শঙ্কা

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগীর মৃত্যু ঘটেছে, যা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (ডিআরসি) থেকে উগান্ডা হয়ে সমতলপথে দেশটিতে পৌঁছেছে। দুই দেশের বিমানবন্দরে তাপমাত্রা পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পরও রোগীকে শনাক্ত করা যায়নি, যা উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা এবং কেনিয়ার সীমান্ত নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কেনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদেন দুয়ালে জানিয়েছেন, রোগী প্রায় এক মাস আগে ডিআরসিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং গত ২ অক্টোবর সড়কপথে ডিআরসির বেনি হয়ে উগান্ডার রাজধানী কামপালায় যান। পরদিন বিমানে নাইরোবি পৌঁছান। নাইরোবি বিমানবন্দরে নামার পর এক আত্মীয় ও এক বন্ধু তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তাকে দ্রুত আলাদা করা হয় এবং পরীক্ষায় ইবোলা শনাক্ত হয়। চিকিৎসা চললেও সোমবার তিনি মারা যান এবং মঙ্গলবার নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার দাফন করা হয়।

কেনি�য়ার কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তার সংস্পর্শে আসা ২৮ জনকে শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে বিমানের ২৩ যাত্রী ও চার কর্মীকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এনতেব্বে বিমানবন্দরে পরীক্ষার সময় ওই ব্যক্তির তাপমাত্রা স্বাভাবিক ছিল, আর কেনিয়ার কর্মকর্তাদের ধারণা, নাইরোবিতে পরীক্ষার সময় তিনি উপসর্গ আড়াল করতে ওষুধ খেয়ে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্তাধীন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, কেনিয়া এখন ঝুঁকিপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে আরো লক্ষ্যভিত্তিক পরীক্ষা চালাচ্ছে এবং রোগ শনাক্তে নজরদারি জোরদার করছে, একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্ত করে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। এবারকার প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্দিবুগিও ইবোলা ভাইরাস, যার কোনো টিকা নেই। চলতি বছর ডিআরসিতে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবে ৮ হাজার ৩০০ জনের সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে, মারা গেছেন অন্তত ৪ হাজার ১৪৮ জন। পরে ভাইরাসটি সীমান্ত পেরিয়ে উগান্ডায়ও যায়, সেখানে প্রায় ২০ জন আক্রান্ত হওয়ার পর জুলাইয়ে দেশটিকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করা হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেলেনবশ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞানী উলফগ্যাং প্রেইজার এবং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জ্যাঁ বিসিমওয়া নাচেঙ্গার ভাষায়, ভাইরাসটি যে গতিতে ছড়াচ্ছে, তাতে সীমান্ত পেরিয়ে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা অব্যাহত থাকতে পারে। রোগীর সংখ্যা ও সংক্রমণের গতি অনেক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভাইরাস কোনো দেশের সীমান্ত মানে না, তাই ইবোলা নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক সহযোগিতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ফ

ফাতেমা খানম

আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা

আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ