বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

আন্তর্জাতিক

লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো নিয়ে নিতে পারে ইরান, বললেন ট্রাম্প

লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো নিয়ে নিতে পারে ইরান, বললেন ট্রাম্প...

ফ
ফাতেমা খানম· আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪১ এএমসর্বশেষ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪১ এএম
লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো নিয়ে নিতে পারে ইরান, বললেন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো শহরকে ইরানের হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমসহ দুই শহরের মেয়র ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘বেপরোয়া’, ‘বিপজ্জনক’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে নিন্দা করেছেন।

সোমবার রাতে নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। সেখানে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ‘বড় জয়’ প্রত্যাশার কথা জানান তিনি। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখার জন্য এই মূল্য পরিশোধ করা ‘ছোট ব্যাপার’।

এরপর তিনি বলেন, ‘তারা একটি শহর ধ্বংস করে দিতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেসকে ধ্বংস করতে দিন। সান দিয়েগোকেও ধ্বংস করতে দিন।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সময় সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা করতালি দেন। পরে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে’।

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানান ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ট্রাম্প এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ন্যাশনাল গার্ড ও মেরিন সেনা পাঠিয়ে রাজ্যটি দখলের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। এখন তিনি বিদেশি শত্রুদের লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো ‘ধ্বংস করে দিতে’ বলছেন।

নিউজম ট্রাম্পকে ‘বিভ্রান্ত ও বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, দুই শহরের ১ কোটির বেশি মার্কিন নাগরিকের ওপর হামলার পক্ষে প্রেসিডেন্ট কথা বলছেন। তার ভাষায়, ‘এটি স্বাভাবিক নয়। এর কোনোটিই স্বাভাবিক নয়।

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাসও ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখা, তাদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া বা মার্কিন নাগরিকদের ওপর হামলাকে উৎসাহিত করা নয়। ট্রাম্পের মন্তব্য ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন হুমকি’, যা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটির নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সান দিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়াও ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধে সান দিয়েগো কোনো ‘সহযোগী ক্ষতি’ নয় এবং শহরের বাসিন্দারা কোনোভাবেই বিসর্জনযোগ্য নন। ট্রাম্পের ‘বেপরোয়া যুদ্ধের বক্তব্য’ থেকে সান দিয়েগোকে দূরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম বৃহত্তম শহর সান দিয়েগোতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো রয়েছে।

ট্রাম্পের প্রায় দেড় ঘণ্টার দীর্ঘ ও এলোমেলো বক্তব্যের ওই অংশ নিয়ে অনলাইনেও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প কি নীল বা ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত দুটি শহরকে নিয়ে কৌতুক করেছিলেন, নাকি ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্য সম্পর্কে কোনো গোপন তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করেছেন।

কিছু রক্ষণশীল কর্মী অবশ্য দাবি করেছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যের অর্থ ভিন্ন হতে পারে। তাদের মতে, তিনি ‘ছোট মূল্য’ বলতে জ্বালানির উচ্চমূল্য বোঝাচ্ছিলেন; ইরানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শহর ধ্বংস করার সক্ষমতার কথা বলছিলেন না।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, বর্তমানে ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা নেই।

তবে ট্রাম্প অতীতেও ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করে আসছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দিলে তা মার্কিন শহরগুলোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। নিজের সর্বশেষ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, যা ‘শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

নেব্রাস্কায় ট্রাম্পের এই বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যটির সিনেট নির্বাচন প্রত্যাশার তুলনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠায় রিপাবলিকানদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সমাবেশে ট্রাম্প নিজেকে ‘দারুণ অবস্থায়’ আছেন বলে দাবি করেন এবং নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় সমর্থকদের এমনভাবে ভোট দিতে বলেন, যেন ব্যালটে তার নিজের নামও রয়েছে।

অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী স্টিভ হিলটন নির্বাচনে চমক দেখানোর চেষ্টা করছেন। এমন সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্য রাজ্যটিতে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর প্রার্থী জেভিয়ার বেসেরাও ট্রাম্পের মন্তব্যের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো কাউন্টিতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ক্যালিফোর্নিয়াবাসী বসবাস করেন। তাদের জীবন কোনোভাবেই ‘ছোট মূল্য’ নয় এবং তাদের জীবন নিয়ে প্রেসিডেন্টের এ ধরনের মন্তব্য কোনো কৌতুকের বিষয়ও হতে পারে না।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ফ

ফাতেমা খানম

আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা

আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ