রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

ভোলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, ব্যাহত হচ্ছে সেবা

ভোলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, ব্যাহত হচ্ছে সেবা...

স
সুমিত রয়· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ পিএমসর্বশেষ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
ভোলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, ব্যাহত হচ্ছে সেবা

ভোলায় চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধের ব্যয় বহন করতে না পেরে চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছেন অনেক হতদরিদ্র মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও ওষুধ পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।

নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে পরিচালিত এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প থেকে এ পর্যন্ত ভোলা সদর উপজেলা ও পৌরসভার ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তাদের মতে, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে পারতেন না, তাদের জন্য এ উদ্যোগ আশার আলো হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ভোলা জেলা শাখা ও মেডিকেল ক্যাম্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘সবার জন্য, সুস্থ জীবন’ প্রতিপাদ্যে গত ১১ সেপ্টেম্বর ভোলা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এ কর্মসূচি শুরু হয়।

গাইনি, শিশু ও মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকেরা ক্যাম্পে সেবা দেন। পঞ্চম ধাপের শেষ ক্যাম্পটি শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে শেষ হয়। ওই দিন সকাল থেকে ভোলা পৌরসভার দুটি স্থান এবং উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে একযোগে ক্যাম্প পরিচালিত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা বরিশালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় দ্বীপজেলার বাসিন্দাদের।

এ পরিস্থিতির সুযোগে ভোলা সদর থেকে চরফ্যাশন পর্যন্ত শতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি ক্লিনিক গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

তাদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু জায়গায় রোগীদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে। ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো আর্থিকভাবে আরও চাপে পড়ছে। সামর্থ্য না থাকায় অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছেন না।

ভোলা পৌরসভার উকিলপাড়ার শান্ত নীড় মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা দুই সন্তানের মা ময়ফুল ও তার প্রতিবেশী হুমায়রা বলেন, তাদের স্বামীরা দিনমজুর। একদিন কাজ করতে না পারলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগলেও অর্থাভাবে ভোলা বা বরিশালে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানো সম্ভব হয়নি।

তারা বলেন, ‘মঞ্জু মিয়ার বড় ছেলে আমাদের জন্য বাড়ির কাছে বড় ডাক্তার ও ওষুধ পাঠিয়েছেন শুনে এসেছি। নারী চিকিৎসককে নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়েছি। তিনি ওষুধ লিখে দিয়েছেন। পাশের কক্ষ থেকে বিনামূল্যে ওষুধও পেয়েছি। এতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। এভাবে নিয়মিত সেবা পেলে আর এত চিন্তা থাকত না।

শিবপুর ইউনিয়নের ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধ রফিউদ্দিন, সামসুল হক ও মোফাজ্জল বলেন, বয়সের কারণে তারা নানা রোগে ভুগছেন। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ভোলা শহরে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সম্ভব হয় না। সংসারের সীমিত আয়ে ওষুধ কেনাও কঠিন। বাড়ির পাশে ক্যাম্প হওয়ায় তারা সহজেই সেখানে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়েছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক মঞ্জুর আলম ও মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, ভোলার অনেক বিত্তবান মানুষ অসুস্থ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা কিংবা বিদেশে যান। অথচ সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পেতে সমস্যায় পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে তথ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সাধারণ মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করেন।

ভোলা জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন ও সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহ বলেন, দলের চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ তাঁর বাবা মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর মতোই সাধারণ মানুষের চাহিদা বোঝেন। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সেই জনসম্পৃক্ততারই প্রমাণ।

তারা জানান, এর আগে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক নারী ও অসহায় মানুষ অর্থাভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা থেকে বঞ্চিত হতেন। তথ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় পাঁচ ধাপে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে। শুরুতে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এর চেয়ে বেশি মানুষ সেবা নিয়েছেন।

বিজেপি নেতারা আরও জানান, পর্যায়ক্রমে এ মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
স

সুমিত রয়

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ