রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

ভাঙা সড়কে ‘ছোট পুকুর’

ভাঙা সড়কে ‘ছোট পুকুর’...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ পিএমসর্বশেষ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
ভাঙা সড়কে ‘ছোট পুকুর’

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক ভাটিখাইন-ধাউর ডেঙ্গা। এই সড়কের একটি পুরোনো কালভার্ট ভেঙে ফেলার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি পুনর্নির্মাণের কাজ। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ।

সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ওই সড়কে রবি ঘোষের দোকানের সামনে অবস্থিত পুরোনো কালভার্টটি অপসারণ করার ফলে সড়কের মাঝখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে পূর্ণ হয়ে গর্তটি বর্তমানে একটি ছোট পুকুরের রূপ নিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কালভার্ট অপসারণের পর রাতে কিছু অসাধু ব্যক্তি ওই স্থান থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় গর্তটি আরও বড় আকার ধারণ করেছে। সড়কে এই গর্তের কারণে দীর্ঘদিন ধরে রিকশাসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, ফলে পথচারীদের হেঁটে ওই অংশটি পার হতে হচ্ছে।

পরিস্থিতির সুরাহা করতে প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় রিকশাচালকেরা নিজেদের উদ্যোগে কাঠ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করেন। এখন এর ওপর দিয়ে রিকশা ও সাইকেল টেনে পার করা হয়।

স্থানীয় রিকশাচালক মোহাম্মদ নবী বলেন, ‘পুরোনো কালভার্ট ভেঙে ফেলার পর আমাদের দীর্ঘদিন বেকার বসে থাকতে হয়েছে। কিন্তু পেট তো চালাতে হবে। পরিবারের মুখে খাবার তুলতে আমরা রিকশাচালকরা মিলে কাঠের সাঁকোটি বানিয়েছি। এর ওপর দিয়ে কোনোমতে রিকশা টেনে নেওয়া যায়। তখন যাত্রীরা নেমে হেঁটে সাঁকো পার হন এবং ওপারে গিয়ে আবার ওঠেন। এভাবেই চলছে।

আরেক রিকশাচালক বাবুল দে জানান, সাঁকোটি দিয়ে কেবল রিকশা ও সাইকেল টেনে নেওয়া সম্ভব, কোনো যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করতে পারে না।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজীব দে বলেন, ভাটিখাইন, গুয়াতলী, আলমদার পাড়া, ধাউর ডেঙ্গা ও ছনহরা গ্রামের বহু মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। কাজের এই দীর্ঘসূত্রতায় তারা বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন। কোনো গুরুতর রোগীর জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হলে প্রায় চার কিলোমিটার পথ ঘুরে বিকল্প সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

ছনহরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রশীদ দৌলতী সাংবাদিকদের জানান, নতুন কালভার্ট নির্মাণের জন্য ছয় মাস আগে পুরোনোটি ভেঙে ফেলা হলেও ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখেই সাইট ফেলে গেছেন।

তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কয়েকবার কাজটি দ্রুত শেষ করার অনুরোধ করেছি, কিন্তু সুফল মেলেনি। আমরা বলেছি, বর্তমান ঠিকাদার কাজ করতে না চাইলে টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে আহ্বান করা হোক। কিন্তু ইউএনও আমলে নিচ্ছেন না।

যোগাযোগ করা হলে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়। তিনি বলেন, ‘প্রকল্প কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাওন ভূঁইয়া জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ ও ১৪ ফুট প্রশস্ত এই বক্স কালভার্ট নির্মাণের টেন্ডার হয়েছিল, যার মেয়াদ ছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জুন ও জুলাই মাসে দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যার কারণে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল, কারণ বাঁধ দিলে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হতো।

ঠিকাদার আবেদ আমেরী কাজের বিলম্বের পেছনে পরিবেশগত ও প্রশাসনিক জটিলতার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘পটিয়ায় পাঁচটি বক্স কালভার্ট নির্মাণের সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে আমি কাজ পেলেও ওয়ার্ক অর্ডার পাই ২০২৬ সালে। এরইমধ্যে অন্য চারটি শেষ করেছি।

‘এই কালভার্টের সিসি বেজ তৈরির প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যা হয়, ফলে জুনের ডেডলাইনের আগে ঢালাই করা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রণালয়ে ১ বছরের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে আমি ইচ্ছেকৃতভাবে কাজ বন্ধ রাখিনি। চট্টগ্রামে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় ঢালাই করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি থামলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে শেষ করব,’ বলেন তিনি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ