বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

প্রেমিকার সঙ্গে দ্বন্দ্বে সাস্ট শিক্ষার্থীর বিষপানে মৃত্যু

প্রেমিকার সঙ্গে দ্বন্দ্বে সাস্ট শিক্ষার্থীর বিষপানে মৃত্যু...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৮ এএমসর্বশেষ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৮ এএম
প্রেমিকার সঙ্গে দ্বন্দ্বে সাস্ট শিক্ষার্থীর বিষপানে মৃত্যু

মোবাইল ফোনে প্রেমিকার সঙ্গে কথোপকথনে দ্বন্দ্বে সিলেট শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রিতে অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বাঁধন রাতুল (১৯) বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে হাসপাতালে ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চিকিৎসাধীন তার অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের নইমুদ্দিন পল্টুর ছেলে ও সিলেট শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি ২য় বর্ষের ১ম সেমিস্টারের ছাত্র।

মঙ্গলবার বাদ আসর সিলেট শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানালা শেষে তার গ্রামের বাড়ি দর্শনার ঈশ্বরচন্দ্রপুরে লাশ নিয়ে বাড়িতে ফিরেছে তার বন্ধুরা। এই ছাত্রের মৃত্যুতে দর্শনা পৌর শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শাহরিয়ার বাঁধন রাতুলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহরিয়ার বাঁধন রাতুল অংকুর কেজি স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি পায়। বৃত্তি পেয়ে কেরু উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসিতে গোল্ডেন এ পাস এবং দর্শনা সরকারি কলেজ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে এইচএসসি পাশ করেছে। শিক্ষাবৃত্তিতে সিলেট শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রিত ভর্তি হয়। সে দর্শনা পৌর এলাকার শ্যামপুর গ্রামের এক ছাত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

গত ৪ তারিখ রোববার আনুমানিক রাত ১০ টার দিকে শাহরিয়া বাঁধন রাতুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার প্রেমিকার কথোপকথনের একপর্যায়ে ঝগড়া হয়‌। একপর্যায়ে রাতুল ঘাস মারা বিষ পান করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বন্ধুরা টের পেয়ে তাকে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কর্তব্যরত ডাক্তার তার পেট থেকে বিষ উত্তোলনের জন্য প্রক্রিয়া শেষে করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখে। দুদিন পরে তার কিডনির সমস্যায় ডায়ালাইসস করা হয়। একপর্যায়ে তাকে আইসিউতে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ ধরনের ঘটনায় মৃত্যু তার বন্ধুরাও কোনোভাবেই মানতে পারছে না। পরিবার পক্ষ থেকে ওই মেয়ের নামে কোন অভিযোগ নেই মর্মে তার ময়নাতদন্ত না করার জন্য আবেদন করা হয়।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন অধীনস্থ জালালাবাদ থানার ওসি মোহাম্মদ শামসুল হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শাহরিয়ার বাঁধনের মা মোছা. শাহিনা আক্তার তার ছেলের মৃত্যুতে কোন অভিযোগ করেন নাই এবং তার ছেলেকে পোস্টমর্টেম না করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তার মায়ের আবেদন মঞ্জুর করে ময়নাতদন্ত না করে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ