বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন, আপনাকে ‘টার্গেট’ করছে ডাকাতচক্র

ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন, আপনাকে ‘টার্গেট’ করছে ডাকাতচক্র...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৯ পিএমসর্বশেষ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৯ পিএম
ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন, আপনাকে ‘টার্গেট’ করছে ডাকাতচক্র

আপনি ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলছেন, ব্যাংকের ভেতরে বসেই আপনাকে ফলো করছে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র। ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাইরে বের হওয়ার পর ব্যাংকের ভেতর থেকে সেই খবর পৌঁছে যায় অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরা ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের কাছে।

তারা প্রাইভেটকার নিয়ে আপনাকে অনুসরণ করতে শুরু করবে। সুযোগ বুঝে আপনার গতিরোধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আপনাকে প্রাইভেটকারে তোলার চেষ্টা করবে। তুলতে না পারলেও সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যাবে ডাকাত দলের সদস্যরা।

সম্প্রতি সাভারের হেমায়েতপুরে আইএফআইসি ব্যাংকের শাখা থেকে ২৬ লাখ টাকা তুলেন এক ব্যবসায়ীর কর্মচারী। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফেরার পথে তার কাছ থেকে ওই টাকা লুট করেন র‍্যাবের পোশাক পরা কয়েকজন। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শুরু করে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও ব্যাংকের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ডিবি পুলিশের সদস্যরা সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করেন। পরে সেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, এই ডাকাত চক্রের মোট সদস্য ৮ জন। একজন ব্যাংকের ভেতরে ও দুইজন ব্যাংকের বাইরে রাস্তায় অবস্থান করেন। আরও পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে একটি মাইক্রোবাস বা প্রাইভেটকারে থাকেন।

তারা গ্রাহকের টাকা লুটে সরাসরি জড়িত। মূলত এই ডাকাত চক্র একেক সময় দেশের একেকটি ব্যাংককে টার্গেট করে। ব্যাংকের ভেতরে নজরদারি করেন তারা। মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলনকারী গ্রাহকদের টার্গেট করে লুট করা হয়। চক্রের মূল হোতাসহ সব সদস্যের বাড়িই মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

ডিবি পুলিশ এখন পর্যন্ত সাভারে ২৬ লাখ টাকা লুটসহ এ ধরনের মোট তিনটি ঘটনায় চক্রটির সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচ সদস্যকে শনাক্ত করা গেলেও তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এই ডাকাত চক্রের কার্যক্রম নিয়েসংবাদমাধ্যমকে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে ব্যবসার প্রয়োজনে সাভারের হেমায়েতপুরে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ২৬ লাখ টাকা তোলেন আর কে এন্টারপ্রাইজের কর্মচারী মো. ইসরাফিল হক (৩৮)।

ওসি বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বের হয়ে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক পার হওয়ার সময় প্রাইভেটকারে এসে র‍্যাবের পরিচয় দিয়ে তার গতিরোধ করা হয়। তাকে প্রাইভেটকারে তোলার চেষ্টা করা হয়। ব্যর্থ হয়ে তার হাতে থাকা ২৬ লাখ টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চলে যায় প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচজন।

তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনায় আর কে এন্টারপ্রাইজের মালিক রেজাউল করিম পরদিন সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ। তদন্তে ব্যাংকের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, টাকা উত্তোলনকারী ইসরাফিলকে ব্যাংকের ভেতরে নজরদারি করছিলেন এক ব্যক্তি। ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি ফোনে কারও সঙ্গে বারবার কথা বলছিলেন। এই সূত্রটি গুরুত্ব দিয়ে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্তের কাজ শুরু করা হয়।

‘তদন্তে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি মাদারীপুরের কালকিনি থানার আলীপুর গ্রামের উজ্জ্বল সরদার (৩২)। উজ্জ্বলের কললিস্ট পর্যালোচনা করে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় মাদারীপুরের রাজৈর থানার টেকেরহাট এলাকা থেকে উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা জুয়েল সিকদার (৩৮) ও তামিম হাওলাদারকেও (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। এ দুইজনও আমাদের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন’, বলেন তিনি।

ওসি বলেন, তাদের গ্রেপ্তারে তথ্যপ্রযুক্তিগতভাবে আমাদের সহায়তা করেন এসআরবি-৪-এর নবীনগর ক্যাম্পের সদস্যরা। এছাড়া অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করেন এসআরবি মাদারীপুর জেলার সদস্যরা।

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গ্রেপ্তার ৩ জন জিজ্ঞাসাবাদে ২৬ লাখ টাকা লুটে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। ওইদিন ব্যাংকের ভেতর থেকে উজ্জ্বল বাইরে অবস্থানরত জুয়েল সিকদার ও তামিম হাওলাদারকে ফোনে তথ্য দিচ্ছিলেন। ইসরাফিল টাকা নিয়ে ব্যাংক থেকে বের হওয়ার পর ফলো করতে থাকেন জুয়েল ও তামিম। পরে প্রাইভেটকার নিয়ে অপেক্ষারত পাঁচজনকে ফোনে তথ্য সরবরাহ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা টাকা লুট করে পালিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে চক্রের আট সদস্য ওই রাতে ঢাকার রাইফেল স্কয়ারে একত্রিত হন ও টাকা ভাগাভাগি করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনই চক্রের মূলহোতাসহ বাকি পাঁচজনের বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। সবার বাড়িই মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।

ওসি আরও বলেন, গত ৩০ আগস্ট নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একটি ব্যাংক থেকে এক গ্রাহক ১২ লাখ টাকা তুলে বাসায় ফিরছিলেন। পথে এই চক্রটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে টাকাগুলো লুট করে। এছাড়া গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা এলাকায় একটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বাসায় ফেরার পথে এক গ্রাহকের সাত লাখ টাকা একই কায়দায় লুট করে চক্রটি।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার তিনজন জানিয়েছেন, এই চক্রটি মূলত ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলনকারী গ্রাহকদের টার্গেট করে টাকা লুট করে থাকে। কোম্পানীগঞ্জ ও ভাঙ্গার ঘটনা দুটিতে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলা দুটিতেও তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। ইতোমধ্যে উজ্জ্বল তিনটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গ্রাহকদের উদ্দেশে ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলনের সময় গ্রাহকদের একা ব্যাংকে যাওয়া উচিত নয়। পুলিশের সহায়তা নিয়ে যাওয়া উচিত। মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলনের সময় কোনো গ্রাহক যদি পুলিশের সহায়তা চান, তাহলে এ ক্ষেত্রে পুলিশ সহায়তা করে। টাকা উত্তোলন কিংবা বহনের সময় গ্রাহকের সঙ্গে পুলিশ থাকলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যাবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ