বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে এবার আদালতে মামলা করেছেন এক কর্মচারী।
বিপিসির অধীন প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (এসএওসিএল) কর্মচারী ও সিবিএ সভাপতি কায়সার হামিদ বাদী হয়ে মঙ্গলবার এ মামলা দায়ের করেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুল মনসুরের আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। আগামী বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সমন ফেরতের ধার্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার ফাইলিং আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহেদুল ইসলাম বলেন, সাধারণত আসামিকে মামলা দায়েরের এক মাসের মধ্যে আদালতে হাজির হতে হয়। মামলা প্রমাণের মতো যথেষ্ট নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করায় আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারি করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিবাদী মোরশেদ হোসাইন আজাদ চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বয়স ও অভিজ্ঞতার সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি চাকরি বাগিয়ে নেন। পরবর্তী সময়ে তিনি এসএওসিএলে নির্বাহী হিসেবে কর্মরত থাকাকালে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সঙ্গে যুক্ত সিবিএ নেতাদের নানাভাবে হয়রানি ও চাকরিচ্যুত করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিপিসিতে কর্মরত থাকাকালে জ্বালানি তেলের এলসি খোলা ও মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে বিনিময় হারের তারতম্যের কারণে প্রতিষ্ঠানের ৩৬৩ কোটি টাকার বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যা তার কারণেই সংঘটিত হয়। এছাড়া তিনি জ্বালানি তেল বিপণন ও ক্রয়ের ক্ষেত্রেও নানা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিবিএ সভাপতি কায়সার হামিদ বলেন, প্রথমত জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ওই কর্মকর্তা চাকরি নিয়েছেন, তার ওপর প্রতিষ্ঠানের শত শত কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন। এসএওসিএলে থাকাকালে জাতীয়তাবাদী ঘরানার শ্রমিক-কর্মচারীদের তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি ও চাকরিচ্যুত করেছেন। অথচ সেই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে আবারও এসএওসিএলে প্রধান নির্বাহী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, যা সাধারণ কর্মচারীরা মেনে নিতে পারছেন না। তাই শ্রমিক ও কোম্পানির স্বার্থ রক্ষার্থেই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মামলা করেছি।



