বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
২৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুদিন ঘরবন্দি থেকে থানায় ভুক্তভোগী

স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুদিন ঘরবন্দি থেকে থানায় ভুক্তভোগী...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৪ পিএমসর্বশেষ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৪ পিএম
স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুদিন ঘরবন্দি থেকে থানায় ভুক্তভোগী

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে পাশের ঘরে আটকে রেখে এক গার্মেন্টসকর্মীকে (২০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের হুমকির কারণে দুদিন ঘরবন্দি থাকার পর স্বজনদের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থানায় গিয়ে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীর ছদ্মনাম লিলি। তিনি শেরপুর জেলার বাসিন্দা। শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের হানু মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজ করেন। স্বামীকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেন তিনি।

লিলি জানান, গত ছয় মাস ধরে হানু মার্কেট এলাকার হারুনের বাসায় ভাড়া থাকেন তারা। সম্প্রতি এলাকায় চুরির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে গত সোমবার বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। বাড়ির মালিক হারুন অর রশিদকে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া পরিশোধ করে মালামাল সরানোর কাজ শুরু করেন তারা।

এ সময় স্থানীয় দুই যুবক ফারুক ও নয়ন বাসায় এসে তার স্বামীকে জোর করে ডেকে নিয়ে যান। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও স্বামী ফিরে না আসায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যার পর স্বামী বাড়ি ফেরেন।

লিলির অভিযোগ, রাত সাড়ে ৮টার কিছুক্ষণ পর ফারুক ও নয়ন আরও দুজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের ঘরে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর তাদের আচরণ বদলে যায়। তারা তার স্বামীকে মারধর করে পাশের একটি ঘরে আটকে রাখেন।

লিলি বলেন, ফারুক তাকে জানান, তার স্বামীর কাছে টাকা পাওনা থাকায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর তার কথামতো কাজ করলে দুজনকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন ফারুক। এতে রাজি না হওয়ায় ফারুক, নয়ন ও অপর এক ব্যক্তি তার হাত বেঁধে ফেলেন। গলায় ধারালো ছুরি ধরে এবং দুই পা দুই দিকে বেঁধে রেখে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী বলেন, তিনি বারবার তাদের কাছে বাবা ও ভাই বলে আকুতি-মিনতি করলেও তারা শোনেননি। চারজন মিলে তার ওপর নির্যাতন চালান। তাদের ভয়ে আশপাশের কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি।

লিলির অভিযোগ, ঘটনার পরও অভিযুক্তরা তাদের বাড়ির আশপাশে নজরদারি করছিলেন। তাদের ভয়ে তিনি থানায় যাওয়ার সাহস পাননি। পরে স্বজনদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের সহযোগিতায় থানায় এসে বিচার চাইতে পেরেছেন তিনি।

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, তাকে পাশের ঘরে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় তাকে বলা হয়, তার স্ত্রী টাকা আনতে গেছেন। অভিযুক্তরা পালাক্রমে তাকে নির্যাতন করেন। তবে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করা হচ্ছে, তা তাকে জানানো হয়নি।

তিনি জানান, সবকিছু শেষ হওয়ার পর তাকে স্ত্রীর কাছে যেতে দেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের বিষয়টি বুঝতে পারেন। বিচার চাইতে বের হতে চাইলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ভয়ে তারা বের হতে পারেননি। পরে কৌশলে বের হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে আত্মীয়স্বজনকে খবর দিলে তাদের সহযোগিতায় থানায় আসেন।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই থানার পুলিশ পরিদর্শককে (তদন্ত) প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ