সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

‘শিশুকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পুড়ে মারা যান তারা’

‘শিশুকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পুড়ে মারা যান তারা’...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৫ পিএমসর্বশেষ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৫ পিএম
‘শিশুকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পুড়ে মারা যান তারা’

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে এক নারী, এক শিশু ও এক পুরুষের মরদেহ ছিল। নারীটি শিশুকে বুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলেন। আর পুরুষটি নিজের শরীর দিয়ে তাদের দুজনকে আগুন থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন বলে মনে হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা অভিযানে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য।

তবে ডিএনএ পরীক্ষার পরই কেবল তাদের পরিচয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

দোলন আচার্য বলেন, ‘শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিলাম। এরপর কয়েকজন এসে আমাদের জানান, রিসোর্টের ভেতরে আরও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন।

তিনি বলেন, রিসোর্টের দোতলার একটি কক্ষ থেকে প্রথমে পাঁচটি পুড়ে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। পরে পাশের একটি কক্ষের বাথরুমে এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া যায়। তিনতলার একটি বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় আরও চারটি মরদেহ।

ওই তিনজনের মরদেহের অবস্থা বর্ণনা করে দোলন বলেন, ‘এক নারীকে দেখে মনে হয়েছে, তিনি একটি শিশুকে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলেন, আর একজন পুরুষ নিজের শরীর দিয়ে তাদের দুজনকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনজনের মরদেহ এত বেশি পুড়ে গেছে যে প্রায় চেনার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তাদের পাশেই ছিল আরেক নারীর মরদেহ।

দোলন আচার্য বলেন, ভবনটির নির্মাণশৈলীতে অগ্নিনিরাপত্তার বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। এর কলামগুলো কংক্রিটের তৈরি হলেও বিম ছিল কাঠের। দেয়াল ও সিঁড়িতেও ব্যবহার করা হয়েছে কাঠ-বাঁশ।

শুধু বাথরুমগুলো কংক্রিটের তৈরি ছিল এবং সেগুলোতে টাইলস লাগানো হয়েছিল। দোলনের ধারণা, আগুন থেকে বাঁচতে কয়েকজন সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

ওই রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে সাত বছর বয়সী রুজাইনা ইনায়া ও তিন বছরের সুনাইনা ইহানা। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে তুহিন, তানজি ও তাদের এক সন্তান রয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ