চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলীর পূজা মণ্ডপে ষষ্ঠী থেকেই ভিড় সরছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘুরছে ঐতিহাসিক বাণী মন্দিরের ছবি ও ভিডিও।
প্রতিদিন দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন আয়োজকেরা। কেবল পূজা মণ্ডপে দীর্ঘ লাইন নয়, আশপাশের সড়কেও সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
বাণী মন্দিরে এবারে ৫৮তম দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। সেবাখোলা ও বৈকুণ্ঠধাম পূজা উদযাপন পরিষদ থিম রেখেছে ‘রিপু রজনী’। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য—মানুষের এই ছয়টি রিপু বা অন্তর্দ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে আধ্যাত্মিক সংগ্রামই থিমের মূল ভাবনা।
এই আয়োজনকে ব্যতিক্রম করে তুলেছে মাটির পরিবর্তে প্রতিমা তৈরিতে মেটালের ব্যবহার। আয়োজকরা জানান, এই ভাবনার পেছনে রয়েছেন অপটিমিস্টিক দে। আর দেবীর প্রতিমায় কারুকাজ করেছেন শিল্পী কার্তিক পাল। এর সঙ্গে ‘কৈলাশ লাইটিং’ এর ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম কুয়াশা ও নীল লেজার আলোর মণ্ডপে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক আবহ।
বাণী মন্দিরের সেবাখোলা ও বৈকুণ্ঠধাম পূজা উদযাপন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা জুয়েল শীল বলেন, ‘আমরা সমসাময়িক শিল্প ও প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি গভীর দার্শনিক বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছি।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। তাদের ব্যাপক সাড়া ৫৮তম বার্ষিকী উদযাপনকে স্মরণীয় করে তুলেছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন।
মণ্ডপে প্রবেশ করতে ঘণ্টা পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলেও আগ্রহের যেন কমতি নেই দর্শনার্থীদের।
সপ্তমীর রাতে মণ্ডপে আসেন সোমা দে। তিনি বলেন, ‘সপ্তমীর রাতে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তবেই মণ্ডপে ঢোকার সুযোগ পেয়েছি।
দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে পর্যাপ্ত প্রশাসনিক সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকেরা।
জুয়েল শীল বলেন, দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো মানুষ এলেও তাদের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ বিভাগের কাছে ২০ জন সদস্য চাওয়া হয়েছিল। বর্তমানে মণ্ডপে দুজন পুলিশ সদস্য ও পাঁচজন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এত মানুষের ভিড় সামলাতে এই জনবল যথেষ্ট নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বেচ্ছাসেবকেরা চেষ্টা করছেন।
জানতে চাইলে সিএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম জোন) আলমগীর হোসেন বলেন, তাদের থিমের কারণে জনসমাগম বেশি হচ্ছে। কিন্তু কলকাতায় পূজামণ্ডপে ভিড়ের চাপে মানুষ মারা যাওয়ার পর সরকার থেকে নিষেধ করা হয়েছে কোনো ধরনের থিম-শো না করে পূজার ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার জন্য। আয়োজকেরা তা শুনছেন না। তারা শুধু বার বার আমাদেরকে ফোন করে পুলিশ ফোর্স বাড়াতে বলছে। গতকাল তারা ফোন করার পর সেখানে আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছিলাম।
চট্টগ্রামে এবার মহানগরী ও জেলার ১৬টি উপজেলায় মোট দুই হাজার ৫৬৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, এবার নতুন করে প্রায় ৪০০টি পূজামণ্ডপ যুক্ত হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২ হাজার আনসার সদস্য ও পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, গুজব, অপপ্রচার ও সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের ভ্রাম্যমাণ টহল ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতা চলছে।



