৩৩ বছর বয়সে অবশেষে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন। তার এই শিরোপাজয়ের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার কাছ থেকে তার পাওয়া এক ‘গোপন’ পরামর্শ। যে এক পরামর্শ আমূলে বদলে দিয়েছিল কেইনকে!
২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ওয়েম্বলিতে ম্যারাডোনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল কেইনের। তখন নতুন স্টেডিয়ামের কাজ শেষ না হওয়ায় ওয়েম্বলিকেই নিজেদের অস্থায়ী হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করত টটেনহাম হটস্পার।
পরদিন ফিফা দ্য বেস্ট পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে লন্ডনে এসেছিলেন ম্যারাডোনা। তখন টটেনহামের কোচ ছিলেন আরেক আর্জেন্টাইন, মরিসিও পচেত্তিনো। ১৯৯৩ সালে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে ম্যারাডোনার সঙ্গে খেলেছিলেন তিনি। সেই সময় দুজন একই কক্ষেও থেকেছেন।
কেইনকে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা?ওয়েম্বলিতে সেদিন পচেত্তিনো টটেনহামের অধিনায়ক হুগো লরিস ও সহ-অধিনায়ক কেইনের সঙ্গে ম্যারাডোনার পরিচয় করিয়ে দেন। কিংবদন্তির সামনে দাঁড়িয়ে দুজনই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন।
সময় ছিল খুব কম। ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে দ্রুত ড্রেসিংরুমে ফিরতে হতো তাদের। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের সেই সাক্ষাৎই কেইনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছিল।
ম্যারাডোনা ইংলিশ স্ট্রাইকারকে বলেছিলেন, গোল করার সময় শটের ধরন বদলানো জরুরি। সব সময় কাছের পোস্ট লক্ষ্য না করে বলের ওপর আড়াআড়ি আঘাত করে দূরের পোস্টেও শট নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।
কেন এমন পরামর্শ? ম্যারাডোনার ব্যাখ্যা ছিল, গোলরক্ষকেরা প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের খেলার ধরন নিয়ে নিয়মিত বিশ্লেষণ করেন। ভিডিও দেখে তারা বোঝার চেষ্টা করেন, কোন পরিস্থিতিতে একজন স্ট্রাইকার সাধারণত কোন দিকে শট নেন। ফলে একই ধরনের শট বারবার নিলে গোলরক্ষকের পক্ষে তা অনুমান করা সহজ হয়ে যায়। তাই শট নেওয়ার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যারাডোনার পরামর্শের পরই কেইনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সসেদিন লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছিলেন কেইন। টটেনহাম জিতেছিল ৪-১ গোলে। ম্যাচের প্রথম ১২ মিনিটের মধ্যেই একটি গোল করেন কেইন, পাশাপাশি সতীর্থ সন হিউং-মিনকে দিয়ে গোলও করান।
হুগো লরিসের লম্বা ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে সনকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন তিনি। পরে দ্বিতীয়ার্ধে নিজের দ্বিতীয় গোলটিও করেন ইংলিশ স্ট্রাইকার।
সেই ম্যাচের পর একাধিকবার গোল্ডেন বুট জিতেছেন হ্যারি কেইন, তার মধ্যে আছে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটও। গেল মৌসুমে আরেকটু হলে ম্যারাডোনার স্বদেশি লিওনেল মেসির রেকর্ডও ভেঙে দিচ্ছিলেন। এমন এক মৌসুমই এবার তাকে এনে দিয়েছে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন, ব্যালন ডি’অর।


