মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
১২ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

নতুন পে স্কেলে উল্টে যাচ্ছে গ্রেডের ক্রম, কমবে বাড়ি ভাড়া

নতুন পে স্কেলে উল্টে যাচ্ছে গ্রেডের ক্রম, কমবে বাড়ি ভাড়া...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪৮ পিএমসর্বশেষ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪৮ পিএম
নতুন পে স্কেলে উল্টে যাচ্ছে গ্রেডের ক্রম, কমবে বাড়ি ভাড়া

নবম পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে উল্টো চিত্র দেখা দিতে পারে। প্রারম্ভিক মূল বেতনে এগিয়ে থাকা ১১তম গ্রেডের কর্মচারীরা নতুন কাঠামোয় ১২তম গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনায় কম বেতন পেতে পারেন।

একই সঙ্গে পদোন্নতির পর মূল বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতার হার কমে যাওয়ায় কারও কারও মোট আয় কমার আশঙ্কা রয়েছে। অনেকের আবার মূল বেতন বাড়লেও মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা মিলিয়ে মাসিক আয় কমে যেতে পারে।

কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামোয় ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ প্রারম্ভিক বেতনে ১১তম গ্রেড ৭০০ টাকা এগিয়ে। তবে আগের কাঠামোতে পাওয়া বেতন বৃদ্ধির পর নতুন বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ২০১৫ সালের প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। গত ৩০ জুন তার মূল বেতন দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৬৬০ টাকা। আগের কাঠামোয় তার বেতন বেড়েছিল ১১ হাজার ১৬০ টাকা। নতুন কাঠামোর প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে এই বৃদ্ধি যোগ করলে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ১৬০ টাকা। তবে এই অঙ্কের নির্ধারিত ধাপ না থাকায় তার বেতন ৩৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ১২তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ২০১৫ সালের প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ১১ হাজার ৩০০ টাকা। গত ৩০ জুন তার মূল বেতন দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৫৮০ টাকা। আগের কাঠামোয় বেতন বেড়েছিল ১২ হাজার ২৮০ টাকা। নতুন কাঠামোর প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে এই বৃদ্ধি যোগ করলে হয় ৩৬ হাজার ৫৮০ টাকা। পরবর্তী ধাপ অনুযায়ী তার বেতন নির্ধারণ হচ্ছে ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা।

ফলে প্রারম্ভিক বেতনে এগিয়ে থেকেও নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের কর্মচারী ১২তম গ্রেডের কর্মচারীর চেয়ে ৭০০ টাকা কম মূল বেতন পাচ্ছেন।

কর্মচারীদের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর সুবিধা পর্যায়ক্রমে কার্যকর হলেও দুই গ্রেডের বেতনের ব্যবধান বজায় থাকছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৫০ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হলে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন দাঁড়াবে ৩১ হাজার ২৩০ টাকা, আর ১২তম গ্রেডের ৩১ হাজার ৫৯০ টাকা। ব্যবধান হবে ৩৬০ টাকা।

একইভাবে, ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৭৫ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হলে দুই গ্রেডের মূল বেতন হবে যথাক্রমে ৩৫ হাজার ১৫ টাকা ও ৩৫ হাজার ৫৯৫ টাকা। তখন ব্যবধান দাঁড়াবে ৫৮০ টাকা। আর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ সুবিধা কার্যকর হলে ১১তম গ্রেডের বেতন হবে ৪০ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ৪১ হাজার ৬০০ টাকা। তখন ব্যবধান বেড়ে হবে ৮০০ টাকা।

নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়িভাড়া ভাতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কর্মচারীরা। দশম গ্রেডের একজন কর্মচারী ১০ বছর চাকরি পূর্ণ করার পর নবম গ্রেডে পদোন্নতি বা প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেলে তার মূল বেতন ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫১ হাজার টাকা হবে। অর্থাৎ মূল বেতন বাড়বে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

কিন্তু দশম গ্রেডে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা ২৪ হাজার ৮৫০ টাকা হলেও নবম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ হারে তা হবে ২২ হাজার ৯৫০ টাকা। ফলে বাড়িভাড়া ভাতা কমবে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এতে মূল বেতন বাড়লেও মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা মিলিয়ে মাসিক আয় কমে যেতে পারে।

এ ছাড়া উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময় নির্ধারণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন কর্মচারীরা। তাদের আশঙ্কা, চাকরির বয়স ও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়ের ব্যবধানের কারণে জ্যেষ্ঠ ও জুনিয়র কর্মচারীদের বেতনে অসংগতি তৈরি হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জুনিয়র কর্মচারীর বেতন জ্যেষ্ঠ কর্মচারীর চেয়েও বেশি হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কর্মচারীদের দাবি, নতুন বেতনকাঠামোতে এসব অসংগতি দূর করতে বেতন নির্ধারণ ও উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার নিয়ম পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ