নাটোরের গুরুদাসপুরে দুর্বৃত্তদের হামলার ১২ দিন পর আহত ছাত্রদল নেতা মো. শাকিল ইসলাম (৩০) মারা গেছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে আজ মঙ্গলবার নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আব্দুল আজিজের ছেলে মো. নুরুজ্জামান মিন্টুকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নিহত শাকিল ইসলাম উপজেলার চাচকৈড় কাচারিপাড়া এলাকার রবিউল করিমের ছেলে এবং গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব।
গুরুদাসপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রিয়াজুল হাসানসংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিলের মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ অক্টোবর উপজেলার চাচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরিহিত একদল দুর্বৃত্ত শাকিলের ওপর হামলা চালায়। অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে তারা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ৮-১০ জনকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আজ নুরুজ্জামান মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মিন্টু উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
নাটোর ডিবি পুলিশের ওসি মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তের স্বার্থে মিন্টুকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কোনো সূত্র পাওয়া গেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও নিহত শাকিলের পরিবারের অভিযোগ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এমপির দুই ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু ও তার ছোট ভাই মাহমুদুজ্জামানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জের ধরে শাকিলকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, ‘দুই ছেলের বিরোধ একান্তই পারিবারিক বিষয়। শাকিল হত্যার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
শাকিল হত্যার সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
আব্দুল আজিজ আরও বলেন, ‘হত্যাকারী আমার নিজের ছেলে হলেও আমি তার শাস্তি চাই। পুলিশ যখন মিন্টুকে আটক করতে আসে, তখন আমি সহযোগিতা করেছি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলে নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমি তার জামিনের আবেদন করব না।
এদিকে ছাত্রদল নেতা শাকিলের মৃত্যুর খবরে গুরুদাসপুরে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান ব্যাপারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্রদলের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন শাকিল। আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হোক।



