চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে আরও নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার পরীক্ষা করে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টার রোলে নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব অভিযোগের পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত ২৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ের এসএসসি নির্বাচনি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকিকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে যান কমিটির প্রধান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কম্পিউটারে সংরক্ষিত নথি যাচাই করতে গিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের বাইরেও নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।
অভিযোগ রয়েছে, শাহজামাল দীর্ঘদিন ধরে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টার রোলে লোক নিয়োগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি অফিস সহায়ক পদে কর্মরত থাকলেও কম্পিউটার অপারেটর পদে বেতন তুলতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তার ব্যক্তিগত কম্পিউটারে মাস্টার রোলে নিয়োগসংক্রান্ত নথি পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কারা নিয়োগ পেয়েছেন, কত টাকার লেনদেন হয়েছে এবং কার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ ছাড়া কম্পিউটারে শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসবের সঙ্গে ভর্তি-বাণিজ্য বা অন্য কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবার রাত ১০টার দিকে তদন্ত কমিটির প্রধান বিদ্যালয়ে গিয়ে নথিপত্র ও অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন। পরে রাতে শাহজামালকে সদর থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি থানা হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে জালিয়াতির নানা তথ্য পাওয়া গেছে।
সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আটক শাহজামালের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।



