দুই বছর বয়সে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে শ্রবণ, দৃষ্টিশক্তি, কথা বলা ও স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে যায় আমির হোসেন বেপারির।
নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন দুর্গম চরে। অভাবের সংসারে ছয় সন্তানকে নিয়ে কোনোমতে দিন কাটে রতন বেপারি ও কাঞ্চন মালার। তাদের ১৪ বছরের ছেলে আমির হোসেন বেপারি। দুই বছর বয়সে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে শ্রবণ, দৃষ্টিশক্তি, কথা বলা ও স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পরিবার। অর্থাভাবে এখন বন্ধ হওয়ার পথে তার চিকিৎসা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার আলাওয়ালপুর ইউনিয়নের চর জালালপুরে পাটখড়ি ও টিনের বেড়ায় ঘেরা জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস পরিবারটির। অন্যের জমিতে তৈরি ঘরটিই তাদের একমাত্র আশ্রয়। কৃষিকাজ করে চলে সংসার। আমির খাওয়া, গোসলসহ দৈনন্দিন সব কাজে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। সার্বক্ষণিক তার দেখাশোনা করতে হয় মা কাঞ্চন মালাকে।
কাঞ্চন মালা বলেন, ছেলেকে একা রেখে কোথাও যেতে পারি না। একবার মাঠে কাজ করতে গিয়ে ফিরে দেখি, পড়ে গিয়ে আমিরের হাত ভেঙেছে। অনেক কষ্টে তার চিকিৎসা করিয়েছি। এখন ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো টাকা নেই। ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে তিনি সবার সহযোগিতা চান।
আমিরের বাবা রতন বেপারি বলেন, ছোটবেলা থেকেই ছেলেকে ঢাকার শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়েছি। পাবনার হাসপাতালেও কয়েকবার চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু ছেলের অবস্থার উন্নতি হয়নি। অভাবের কারণে এখন আর চিকিৎসা করাতে পারছি না।
পরিবারের দাবি, আমিরের নামে প্রতিবন্ধী কার্ড থাকলেও গত পাঁচ মাস ধরে কোনো ভাতা পাননি তারা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের।
দুর্গম চর থেকে হাসপাতালে যাতায়াত ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা পরিবারটির জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ছেলের চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিত্তবান ব্যক্তি ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন অসহায় বাবা-মা।
এ বিষয়ে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুটির বিষয়ে বাদিকদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় তার নাম রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার ও গোসাইরহাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।



