বরিশালের হিজলা উপজেলায় ২২ দিনের ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বৃহস্পতিবার মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত আক্তার হাওলাদার (৪০) উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চর মেমানিয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছেন হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইলিয়াস সিকদার।
আক্তারের পরিবারের অভিযোগ, এলাকায় টহলরত নৌ পুলিশের অভিযানের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
তবে নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড দাবি করেছে, তারা ওই এলাকায় কোনো অভিযান চালায়নি।
বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে হিজলা উপজেলার ওরাকুল ঘাটের কাছে মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
ইউএনও ইলিয়াস বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের কাছ থেকে জেনেছি, আক্তার হাওলাদারসহ কয়েকজন স্থানীয় জেলে নদীতে মাছ ধরছিলেন। এ সময় টহলরত নদী পুলিশের সদস্যরা অন্য একটি নৌকা থেকে এক জেলেকে ধরে নিয়ে যান। একপর্যায়ে পুলিশ শটগান দিয়ে গুলি চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নৌকার মাঝি আবদুল ব্যাপারী আহত হন এবং আক্তার হাওলাদার নিহত হন।
তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদপুরের কাছাকাছি ওই জায়গাটি দুর্গম। সেখানে ঠিক কী ঘটেছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বরিশাল নৌ পুলিশ সুপার (এসপি) নজমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ওই এলাকায় তারা কোনো অভিযান চালাননি এবং কোনো গুলিও ছোড়েননি।
চাঁদপুর নৌ পুলিশের এসপি সৈয়দ মুশফিকুর রহমানও সেখানে কোনো অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘কীভাবে কেউ গুলিবিদ্ধ হলেন, তা আমরা জানি না।
ভোলা ও বরিশাল কোস্টগার্ডও ওই এলাকায় কোনো অভিযান চালানোর কথা অস্বীকার করেছে।
এদিকে আক্তারের সহযোগী হজরত আলী বলেন, ‘ভোরে গুরুতর আহত অবস্থায় আক্তারকে হিজলা ঘাটে নিয়ে আসা হলে আমরা তাকে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সকাল ৯টার দিকে সেখানে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অনিক বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ৭টার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আক্তারকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে তার অবস্থা ছিল অর্ধমৃত। তার মুখ, বুক ও হাতে অসংখ্য ছররা গুলির ক্ষত ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে অক্সিজেন, স্যালাইন ও ইনজেকশন দিই এবং বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই। তবে সেখানে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। কয়েক ঘণ্টা পর তাকে আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে পরীক্ষা করে মৃত পাই। এরপর তার মৃত্যুসনদ দিই।
ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়া প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল ব্যাপারী বলেন, ‘গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলে আমরা নৌকা নিয়ে তীরের দিকে রওনা হই। হঠাৎ নৌ পুলিশ আমাদের নৌকা লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। ঘটনাস্থলেই আক্তার লুটিয়ে পড়েন।



