যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাশের হারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যশোর জেলা। অন্যদিকে, সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে নড়াইল জেলা। এ বছর বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে যশোরে পাশের হার ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আর নড়াইলে পাশের হার মাত্র ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মতিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বোর্ডের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর যশোর বোর্ডে পাশের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ পাশের হার নিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে যশোর। ৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ পাশের হার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনা জেলা। চুয়াডাঙ্গায় পাশের হার ৪৬ দশমিক ১৩ শতাংশ, কুষ্টিয়ায় ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং সাতক্ষীরায় ৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
এ ছাড়া ঝিনাইদহে পাশের হার ৪১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, মেহেরপুরে ৪০ দশমিক ৭৬ শতাংশ, বাগেরহাটে ৩৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ, মাগুরায় ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং নড়াইলে ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
গত বছর নড়াইল জেলা পাশের হারে সপ্তম অবস্থানে ছিল। এবার জেলাটি বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে সর্বশেষ অবস্থানে নেমে এসেছে। বাগেরহাটেও পাশের হার কমেছে। গত বছর জেলাটিতে পাশের হার ছিল ৪১ দশমিক ৮৫ শতাংশ, এবার তা কমে হয়েছে ৩৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এ বছর পাশ করতে পারেনি। অন্যদিকে, শতভাগ পাশের সাফল্য পেয়েছে মাত্র তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শনিবার প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।
শতভাগ ফেল করা ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল সাতক্ষীরার এ কে ফজলুল হক এমসিএ কলেজে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাশ করতে পারেনি। নড়াইলের লোহাগড়ার মাকরাইল করিম খালেক সোলাইমান ইনস্টিটিউট থেকে ৪৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েও সবাই ফেল করেছে।
এ ছাড়া খুলনার কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৭ জন, ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ থেকে ১৯ জন, মাগুরার বুজরুক শ্রীকুন্ডি কলেজ থেকে ১৫ জন এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাশ করতে পারেনি।
শূন্য পাশের তালিকায় আরও রয়েছে খুলনার ইনডিপেনডেন্স আইডিয়াল কলেজে ১১ জন, যশোরের মণিরামপুরের সবুজ পল্লী কলেজে ৭ জন, কুষ্টিয়ার হাজি নুরুল ইসলাম কলেজে ৮ জন, খুলনার মডেল মহিলা কলেজে ৩ জন, সাতক্ষীরার ইসলামিয়া মহিলা কলেজে ৩ জন, মাগুরার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২ জন, খুলনার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দিরে ৩ জন, কুষ্টিয়ার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজে ১ জন, মেহেরপুরের মোরকা জাগরণ কলেজে ১ জন এবং খুলনার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস থেকে ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাশ করতে পারেনি।
অন্যদিকে, যশোর শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ পাশের কৃতিত্ব অর্জন করেছে মাত্র তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এর মধ্যে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই পাশ করেছে। খুলনার খালিশপুরের নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬১ জন এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাশের সাফল্য অর্জন করেছে।



