কলির ইচ্ছা অনুযায়ী ৩০২ নম্বর কক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
দুই হাতের আঙুল নেই। তাই হাতে কলম ধরে লেখার সুযোগও নেই। কিন্তু পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ আর মনের জোরে থেমে থাকেনি কলি রানী। ডান পা দিয়ে লিখেই চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। রংপুরের কাউনিয়া কলেজের এই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন এখন উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হওয়া।
কলি রানীর বাড়ি কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামে। সে প্রয়াত মনোরঞ্জন রায়ের মেয়ে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট কলি। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারায় সে। এরপর মা রূপালী রানীর স্নেহ ও সাহস নিয়ে এগিয়ে চলেছে তার জীবন।
মা রূপালী রানী জানান, জন্ম থেকেই কলির দুই হাতের আঙুল নেই। তবে এ শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনো তার পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পরিবারের সহযোগিতা, সহপাঠীদের আন্তরিকতা ও শিক্ষকদের উৎসাহে নিজের চেষ্টায় আজ সে এই সাফল্য পেয়েছে।
পড়াশোনার পাশাপাশি কলির রয়েছে নানা প্রতিভা। ডান পা দিয়ে সে সহজেই মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার চালাতে পারে। গান গাইতেও ভালোবাসে সে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে পেয়েছে পুরস্কার ও প্রশংসা।
কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কলি সবার সঙ্গে বসে পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। তার ইচ্ছা অনুযায়ী ৩০২ নম্বর কক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। স্বাচ্ছন্দ্যে সব পরীক্ষা শেষ করে সে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।
কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আজম বলেন, কলি রানী পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৩.৫০ পেয়েছে। তার এ ফলাফলে আমরা খুবই খুশি।
এর আগে পা দিয়ে লিখেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে কলি। এবার এইচএসসিতেও সাফল্য পেয়েছে সে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কলি জানায়, উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হতে চায় সে। দেশ ও মানুষের সেবা করাই তার স্বপ্ন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না, তা প্রমাণ করতে চায় কলি।
উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও স্বপ্ন পূরণে সবার আশীর্বাদ ও সহযোগিতা চেয়েছে কলি ও তার পরিবার।



