আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন এবং আর কোনো বিক্ষোভে অংশ নেবেন না বলে মুম্বাই হাইকোর্টকে লিখিত অঙ্গীকার দিয়েছেন মিস্টার পারফেকশনিস্টখ্যাত অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নে অভিনেতা ইমরান খান। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে কাউকে বিক্ষোভে অংশ নিতে উৎসাহিত কিংবা প্ররোচিত করবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। এমনকি ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন এ অভিনেতা। আদালতে দেওয়া লিখিত প্রতিশ্রুতিতে ইমরান বলেন, ভবিষ্যতে তিনি কোনো বিক্ষোভে অংশ নেবেন না। এর পাশাপাশি অন্য কাউকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বিক্ষোভে অংশ নিতে প্রভাবিত কিংবা প্ররোচিতও করবেন না।
সোমবার (২ নভেম্বর) শুনানিতে আদালতের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে লিখিত বক্তব্য জমা দেন ইমরান খান। সেখানে তিনি জানান, দক্ষিণ মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে বিক্ষোভস্থলে গিয়েছিলেন মানুষের চলাচলে বাধা এবং তাদের কণ্ঠস্বর দমনের কারণ বুঝতে। কোনো দাবি জানানো কিংবা বিক্ষোভকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য তার কখনো ছিল না। ৪২ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন তিনি। এই সময়ে আইন মেনে চলেছেন এবং দেশটির আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেছেন। ওসিআই কার্ডধারী হলেও ভারতের প্রতি তার ভালোবাসা ও সম্মান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এ অভিনেতা।
ইমরান খান আরও জানান, ভারতে কর দিয়েছেন এবং কর্মসংস্থান তৈরিতেও অবদান রেখেছেন। ভারতে বিয়ে করেছেন, এই সংসারে তার একটি মেয়েও রয়েছে। তার পরিবারের বিস্তৃত অংশের সদস্যরাও ভারতীয়। পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন— দুটিই ভারতের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত বলে আদালতকে জানান তিনি।
এ অভিনেতা বলেন, ‘১০ অক্টোবর গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়— আমার কোনো দাবি জানানোর উদ্দেশ্য ছিল না। আমি কখনো কোনো দাবি জানাইনি এবং স্পষ্ট করেই বলেছি— দাবি জানানোর মতো কেউ আমি নই।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠি ও বিচারপতি অদ্বৈত এম শেঠনার বেঞ্চ প্রশ্ন তোলেন, এসআইআর কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাবিত না হয়েও কেন ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওসিআই কার্ডধারীরা ভারতের নাগরিকদের সমান সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করেন না। তাই নাগরিকদের মতো এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অধিকারও তাদের নেই।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান খান। এরপর তার ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভারতের বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন কার্যালয় (এফআরআরও) তাকে দেশ ছাড়ার নোটিশও দেয়। ওই নোটিশের বিরুদ্ধে মুম্বাই হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।
ইমরানের বিরুদ্ধে এফআরআরওর জারি করা দেশছাড়ার নোটিশ আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রেখেছেন মুম্বাই হাইকোর্ট। এই সময়ের মধ্যে তাকে আইন মেনে ভারতে অবস্থান করতে এবং কোনো ধরনের বিক্ষোভ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অংশ না নিতে বলা হয়েছে।






