লাগাতার অবরোধে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক উপত্যকায় জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ পঞ্চম দিনেও (চতুর্থ পর্যায়ের অংশ) কঠোরভাবে পালিত হয়েছে।
এদিন সকাল থেকে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন আন্দোলনকারীরা। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে ৫ দফা দাবিতে এ অবরোধ চলছে।
জানা যায়, চলমান অবরোধ ও নিরাপত্তার সংকটের কারণে বাঘাইহাট এলাকায় অবস্থিত বনানী বন বিহারের ঐতিহ্যবাহী কঠিন চীবর দানোৎসব এ বছর বাতিল করা হয়েছে।
পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, সাজেকে এমন থমথমে ও অবরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে ধর্মীয় উৎসব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিহারটিতে শুক্র-শনিবার কঠিন চীবর দানোৎসব আয়োজন করা হলেও শেষ মুহূর্তের আগে তা বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে গত ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অবরোধের চতুর্থ পর্যায় চলছে। তবে কৃষিপণ্য ও শিক্ষার্থীদের যানের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং গণমাধ্যমকর্মীদের গাড়ি এ অবরোধের আওতা থেকে শিথিল রাখা হয়েছে। টানা দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাজেক উপত্যকায় খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
অন্যদিকে অবরোধকারীদের পাঁচ দফার মধ্যে চারটি দাবি প্রশাসন মেনে নিলেও সাজেক থেকে সন্তু লারমা গ্রুপের (জেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের অপসারণের দাবি নিয়ে এখনো প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সমঝোতা হয়নি। তবে সাজেকে সাম্প্রতিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সহায়তার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে মন্ত্রণালয়টির সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একটি সুপারিশমালা পেশ করা হয়, যেখানে পাহাড়ি জনপদের সামগ্রিক শান্তি ও জনজীবন স্বাভাবিক করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
তবে নিরাপত্তার কারণে সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ভ্রমণে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান।
অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির কারণে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে সব ধরনের সাধারণ ও বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। পরে গত ১ নভেম্বর মাত্র একদিনের জন্য অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হলেও, গত ২ নভেম্বর থেকে ফের চতুর্থ দফায় অবরোধ শুরু হয়। শুক্রবার আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, সাজেক উপত্যকা বর্তমানে সম্পূর্ণ পর্যটকশূন্য। রিসোর্ট ও কটেজগুলো খালি পড়ে থাকায় প্রতিদিন কোটি টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে এবং পরিবহণ শ্রমিক ও চালকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক সতর্কতায় রয়েছে। তবে চলমান এ কঠোর অবরোধের জেরে সাজেক সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।






