ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত পরিবারের সবাইকে সেবা করে বাঁচিয়ে তুলে নিজে আক্রান্ত হয়ে ওপারে চলে গেল তরুণ অর্জুন বণিক। চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে এই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের হাদিফকিরহাট এলাকার এই যুবক বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে ফেরার পর রাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাশ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতেই সৎকার করা হয়।
মৃত যুবক অর্জুন বণিক (২৬) হাদিফকিরহাটের অরুপ বণিকের ছেলে। পরিবার থেকে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ জ্বরে ভোগার পর অসুস্থ শরীর নিয়ে ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার বিকালে বাড়িতে ফেরেন তিনি। রাত ১০টার দিকে হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে গেলে দ্রুত ডাক্তার নিয়ে এলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। রাত ১২টার দিকে পারিবারিক শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
অর্জুন বণিকের বাবা অরুপ বণিক অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, দুই সপ্তাহ আগে পরিবারের সবাই ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন। তাই পরিবারের সদস্যদের সেবা করতে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন অর্জুন। সবাই একটু সুস্থ হতেই অর্জুন ঢাকায় ফিরে যায়। ঢাকায় ফেরার পর অর্জুনেরও জ্বর আসে। শরীর ব্যথাসহ ডেঙ্গুর সব লক্ষণ ছিল তখন অর্জুনেরও।
কিশোর বয়স থেকেই এলাকায় নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিল অর্জুন। মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকতে ভালোবাসত সে। বই পাঠের মাধ্যমে মানুষের ইতিবাচক পরিবর্তন হয়, এমন ভাবনা থেকেই সে বই ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে নিজেকে যুক্ত করেছিল।
অরুপ বণিক আরও বলেন, ও সবাইকে সেবা করে রক্ষা করেছে। কিন্তু ওকে কে দেখবে, তাই তাকে বারবার ঢাকা থেকে বাড়ি আসার তাগাদা দিয়েছি; কিন্তু ছেলে আমার কথা শোনেনি। আর কুলিয়ে উঠতে না পেরে বৃহস্পতিবার বিকালে বাড়ি এসেছিল। বাস থেকে নামার পর জড়িয়ে ধরে কোনোমতে ওকে বাড়িতে নিয়ে আসি। ঘরে আসার এক ঘণ্টার মধ্যেই তার অবস্থার আরও অবনতি হয় এবং অবশেষে ওপারে পাড়ি জমায়।
অর্জুন বই পড়ত এবং অনলাইনে বই ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিল। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে বইপাড়ার অনেকেই ছুটে আসেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি নানা ধরনের বই বিক্রি করত অর্জুন। আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সে বই বিক্রির কাজ চালিয়ে গেছে। এটিকেই জীবিকা হিসেবে নিয়েছিল সে। অর্জুনের এভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মানতে পারছেন না স্বজনরা।






