রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় অবস্থিত নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে আজ শনিবার বিকেলে আবারো হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠেছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে ওই আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর ও লুটপাট হয়।
নিউগিনি প্রপার্টিজের মালিক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, হামলাকারীরা প্রথমে প্রকল্পের প্রবেশপথের গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকেন এবং নিরাপত্তা কর্মী ও অন্যান্য শ্রমিকদের ওপর হামলা চালান।
তিনি বলেন, 'তারা গেট ভেঙে প্রকল্পের ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকে তারা আমাদের লোকদের মারধর করেন। প্রকল্পের ভেতরে একটি খামার আছে, সেখানেও তারা ভাঙচুর চালান। আমার বোন সেখানে ছিল, হামলাকারীরা তার অলঙ্কার ছিনিয়ে নেন।'
নাজিম দাবি করেন, হামলাকারীরা সেই একই গোষ্ঠীর লোক যারা এর আগে এই আবাসন প্রকল্পে হামলা চালিয়েছিলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার রুহুল কবির খান সাংবাদিকদের জানান, আজকের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ১০ থেকে ১২ জনকে আটক করেছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে একদল লোক নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে অতর্কিত হামলা চালায়, গুলি ছোড়ে এবং বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে।
হামলাকারীরা সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিও, কোম্পানির অফিস এবং একটি নির্মাণাধীন ভবনের ক্ষতিসাধন করেন। এ ছাড়া নির্মাণ শ্রমিকদের মারধর এবং মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের অভিযোগ ওঠে।
পরে নিউগিনি প্রপার্টিজ ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, হাউজিং কোম্পানির সঙ্গে ওই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার জমি সংক্রান্ত বিরোধই সেপ্টেম্বর মাসের ওই হামলার মূল কারণ ছিল।
গত ১৭ অক্টোবর নাজিম ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজন তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
জিডি অনুযায়ী, ইসিবি চত্বরের কাছে সিটি কাবাব অ্যান্ড ক্যাফের পেছনে শাহরিয়ার মাহমুদ, আবুল কাশেম, বাবুল এবং আরো একজন তাকে গালিগালাজ করেন এবং হত্যার হুমকি দেন।






