রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

খেলাধুলা

টেস্টে বাংলাদেশের রেকর্ড ২৪২*, অন্য সব দেশের কত?

টেস্টে বাংলাদেশের রেকর্ড ২৪২*, অন্য সব দেশের কত?...

ম
মোহাম্মদ আলী· ক্রীড়া সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ পিএমসর্বশেষ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
টেস্টে বাংলাদেশের রেকর্ড ২৪২*, অন্য সব দেশের কত?

তাওহিদ হৃদয় গতকাল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়েছেন। মুশফিকুর রহিমকে টপকে বাংলাদেশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা খেলে ফেলেছেন। তার অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংস এখন উঠে গেছে ইতিহাসের পাতায়।

এই রেকর্ডের পর আপনার মনে এখন প্রশ্ন আসতেই পারে যে কোন দলের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস কত, সেটা করেছিলেন কে। সে প্রশ্নের জবাব মিলবে এই তালিকায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ব্রায়ান লারা, ৪০০ক্যারিবিয়ানদের তো বটেই, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি আছে ব্রায়ান লারার দখলে। ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যান্টিগায় এই রেকর্ড গড়েন লারা। প্রায় ২২ বছর হয়ে গেলেও সেই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি কেউই।

অস্ট্রেলিয়া: ম্যাথিউ হেইডেন, ৩৮০অজিদের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ম্যাথিউ হেইডেনের। আধ বছরের জন্য এই রেকর্ডটা ক্রিকেট ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল। ২০০৩ সালের অক্টোবরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েন হেইডেন। টপকে যান ১৯৯৪ সালে ব্রায়ান লারার করা ৩৭৫ রানের রেকর্ড। তবে সেই রেকর্ড আবার লারাই নিজের করে নেন তার ঠিক ৬ মাস পরে।

শ্রীলঙ্কা: মাহেলা জয়াবর্ধনে ৩৭৪২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই রেকর্ডটা গড়েছিলেন সাবেক শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে। ১৪ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ব্যাট করতে এসে তিনি জুটি গড়েছিলেন কুমার সাঙ্গাকারার সঙ্গে, তাদের এই জুটি শেষমেশ ভেঙেছে ৬৩৮ রানে। ক্রিকেট ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ রানের জুটি এটি। শেষমেশ তিনি আন্দ্রে নেলের শিকার হয়ে আউট হন বিশ্বরেকর্ড থেকে ২৬ রানের দূরত্বে থেকে। তবে এটি এখনও শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস হিসেবে টিকে আছে ২ দশক।

দক্ষিণ আফ্রিকা: উইয়ান মুল্ডার, ৩৬৭*ব্রায়ান লারার ৪০০ রানের রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন উইয়ান মুল্ডার। তবে এরপরই তিনি করলেন অবিশ্বাস্য এক কাণ্ড। ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ছিলেন তিনি নিজে। ঠিক তখন তিনি ইনিংস ঘোষণা করে দেন। এরপর তিনি জানান, লারার লেগ্যাসির প্রতি সম্মান রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বিশ্বরেকর্ড না হলেও দক্ষিণ আফ্রিকান রেকর্ড ঠিকই হয়ে গেছে তার।

ইংল্যান্ড: লেন হাটন, ৩৬৪এই তালিকার সবচেয়ে পুরোনো অন্তর্ভুক্তি এটি। ১৯৩৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই রেকর্ডটি গড়েছিলেন লেন হাটন। এরপর থেকে গ্রাহাম গুচ, অ্যান্ডি স্যান্ডহাম, জন এডরিচ থেকে শুরু করে হালের হ্যারি ব্রুকরা ট্রিপল সেঞ্চুরি করে এই রেকর্ডকে হুমকির মুখে ফেলেছেন, তবে ভাঙতে পারেননি। তাই ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস হিসেবে এই রেকর্ড টিকে গেছে প্রায় ৮৮ বছর, কবে আবার ভাঙে কে জানে?

পাকিস্তান: হানিফ মোহাম্মদ, ৩৩৭লেন হটনের মতো না হলেও হানিফ মোহাম্মদের ৩৩৭ রানের রেকর্ডটির বয়স কম নয়। ১৯৫৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্রিজটাউনে এই ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এরপর থেকে শুধু ২ জন ট্রিপল সেঞ্চুরি করে চ্যালেঞ্জ জানাতে পেরেছেন এই ইনিংসকে। তারা হলেন– ইনজামাম উল হক, ২০০২ সালে ৩২৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, অন্যজন ইউনিস খান, ২০০৯ সালে পাকিস্তান ক্রিকেটকে নাড়িয়ে দেওয়া শ্রীলঙ্কার টিম বাসে গোলাগুলির ঘটনার আগের মাসে এই লঙ্কানদের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৩১৩ রানের ইনিংস।

হানিফ মোহাম্মদে ফেরা যাক। এই ইনিংস পাকিস্তানের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। তবে বিশ্ব ক্রিকেটেও এর বাড়তি মাহাত্ম্য আছে। ৯৭০ মিনিটের এই ইনিংসের চেয়ে লম্বা আর একটি ইনিংসও দেখেনি ক্রিকেট। তার ওপর ম্যাচের তৃতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস হিসেবে প্রায় ৬৮ বছর ধরে টিকে আছে এই রেকর্ড।

ভারত: বীরেন্দর শেবাগ, ৩১৯ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা বীরেন্দর শেবাগই খেলেছিলেন। প্রথম ভারতীয় হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০০৩ সালে পাকিস্তান সফরে। তবে তার ৫ বছর পর নিজেরই রেকর্ডটাকে নতুন করে লিখেন তিনি। ২৯৭ বলে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে দ্রুততম ত্রিশতকের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তার সেই ৩১৯ রানের ইনিংস এখনও টেস্টে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রানের নজির।

নিউজিল্যান্ড: ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, ৩০২টেস্টে সবচেয়ে বড় রানের রেকর্ডে কে করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আক্রমণাত্মক কারো ওপর বাজি ধরাই শ্রেয়। নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটাও ম্যাককালামই একদিন খেলবেন, এমন ভাবনাও হয়তো কোনো নিউজিল্যান্ড ভক্তের মনে ছিল। কিন্তু তিনি যে মেজাজে এই ইনিংস খেলেছিলেন, তা সবার ভাবনাকে ওলটপালট করে দিতে বাধ্য। তিনি তার ৩০২ রানের রেকর্ড গড়েছিলেন ৫৫৯ বলে।

প্রথম ও একমাত্র নিউজিল্যান্ড ব্যাটার হিসেবে তিনি করেছিলেন ট্রিপল সেঞ্চুরি। সেটাই এখনও নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড হয়ে আছে।

জিম্বাবুয়ে: ডেভ হটন, ২৬৬১৯৯৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বুলাওয়েতে এই রেকর্ড গড়েন ডেভ হটন। সেই রেকর্ডটা প্রায় ৩২ বছর টিকে গেছে। এরপর জিম্বাবুয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি দেখেছে আর ৩টি। তবে তবে হটনের ২৬৬কে পার করতে পারেননি অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, গাই হুইটাল আর গ্র্যান্ট ফ্লাওয়াররা।

আফগানিস্তান: হাশমতউল্লাহ শাহিদি, ২৪৬২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হাশমতউল্লাহ শাহিদি ২৪৬ রানের ইনিংস খেলেন। এটিই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে যেকোনো আফগান ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। ২০২৪ সালের ২৬-৩০ ডিসেম্বর জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদি এই ঐতিহাসিক মহাকাব্যিক ইনিংসটি খেলেন।

টেস্টে আফগানরা ডাবল সেঞ্চুরির দেখাই পেয়েছে ৩ বার। তার মধ্যে দুবারই শাহিদি গড়েছেন এই কীর্তি। অন্য কীর্তিটি রহমত শাহর। তিনি আবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই ম্যাচেই খেলেছিলেন ২৩৪ রানের ইনিংস।

বাংলাদেশ: তাওহিদ হৃদয়, ২৪২*তালিকার সবশেষ সংযোজন তিনি। এই গেল দিন তাওহিদ হৃদয় গড়েছেন ইতিহাস। ২৪২ রানে অপরাজিত থেকেছেন। তিনি এই রেকর্ড গড়ার পথে ভেঙে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিমের করা ২১৯ রানের রেকর্ডটি। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েছিলেন মুশফিক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গতকাল এই রেকর্ড ভাঙেন তাওহিদ।

আয়ারল্যান্ড: কেভিন ও ব্রায়েন, ১১৮নামের পাশে সংখ্যাটা দেখে চমকে উঠতেই পারেন। তবে বিষয়টা সত্যই। টেস্টে আয়ারল্যান্ড কখনো ডাবল সেঞ্চুরি দেখেনি। সেঞ্চুরিই দেখেছে মোটে ৪ বার। তার মধ্যে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা আইরিশরা দেখেছে তাদের অভিষেক টেস্টেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই ম্যাচে কেভিন ও ব্রায়েনের ১১৮ রানের ‘ইতিহাস’ এরপর আর ভাঙতে পারেননি কোনো আইরিশই।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মোহাম্মদ আলী

ক্রীড়া সংবাদদাতা

খেলাধুলা বিভাগের বিশেষ সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ