Home Blog Page 21

মাহিলাড়া প্রতিনিধি:
বরিশালের গৌরনদীতে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো “মো: জুয়েল হাওলাদারের স্মৃতিচারণ শর্টপিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট – ২০২৫ (CPL)”। টুর্নামেন্টে মাহিলাড়া শহীদ জিয়া ক্রিকেট একাদশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

শনিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে মাহিলাড়া মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় শহীদ জিয়া ক্রিকেট একাদশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাহিলাড়া ব্লাস্টারসের সঙ্গে। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এই খেলায় শহীদ জিয়া একাদশ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে শিরোপা জয় করে নেয়।

পুরো খেলা মাঠজুড়ে ছিল দর্শকদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও করতালিতে মুখর পরিবেশ। খেলায় ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন শহীদ জিয়া একাদশের অলরাউন্ডার _______ (নাম যুক্ত করা যেতে পারে)।

আয়োজকরা জানান, মরহুম মো: জুয়েল হাওলাদারের স্মৃতিকে স্মরণীয় রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা এবং প্রয়াত জুয়েল হাওলাদারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

খেলোয়াড়, দর্শক ও আয়োজকদের অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত ও স্মরণীয়।

কালকিনিতে খালার বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

মাদারীপুরের কালকিনিতে খালার বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে আরাফাত (৭) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের নয়াচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফাত মাদারীপুর সদর উপজেলার মাদ্রা এলাকার জসিম হাওলাদারের ছেলে। জানা যায়, দুপুরে খালার বাড়িতে বেড়াতে এসে খালের ওপর সাঁকো পার হওয়ার সময় অসাবধানবশত সে পানিতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, আরাফাত ছিল অত্যন্ত চঞ্চল ও প্রাণবন্ত শিশু। হঠাৎ তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

গৌরনদীতে সাইক্লোন সেল্টারের কাজের মান যাচাইয়ে প্রশাসক মোঃ ইব্রাহীমের পরিদর্শন

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
গৌরনদী পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডের বাংলাবাজার এলাকায় নির্মাণাধীন সাইক্লোন সেল্টারের কাজের মান ও অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক জনাব মোঃ ইব্রাহীম।

শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে তিনি সরেজমিনে নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নির্মাণকাজের গুণগত মান, ব্যবহারকৃত নির্মাণ সামগ্রী এবং কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজের মানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, “সরকারের অর্থে জনগণের কল্যাণে নির্মিত এই প্রকল্পের গুণগত মানের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। সাইক্লোন সেল্টার জনগণের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।”

এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলী, পৌরসভার কর্মকর্তাসহ এলাকাবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাবাজার সাইক্লোন সেল্টারটি সম্পূর্ণ হলে এটি দুর্যোগকালে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি স্থানীয়দের জন্য একটি শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রাখবে।

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অবস্থিত রত্নপুর ইউনিয়নের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ, মোহনকাঠির অধ্যক্ষ মো. জগলুল ফারুকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা ও অভিভাবকরা কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর এক অভিভাবক আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনও ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি লিখন বনিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, অধ্যক্ষ জগলুল ফারুক সরকারি বরাদ্দের টিউশন ফি শিক্ষকদের না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া কলেজের পুকুর লিজের টাকা কলেজ ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজে রাখেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কলেজের অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার টাকার কাজের কোনো হিসাব কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। কলেজের ব্যাংক হিসাব থেকে ৬৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে খরচের কোনো হিসাবও দেননি অধ্যক্ষ।

প্রতিবছর কলেজ নবায়নের জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে ২৫-৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করলেও, ব্যয়ের হিসাব দেন মাত্র ১০-১২ হাজার টাকার। বাকি টাকার কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এছাড়া ডিজিটাল ল্যাবের বরাদ্দের টাকারও কোনো হিসাব কলেজে নেই বলে জানা গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অধ্যক্ষ নিয়মিত কলেজে উপস্থিত না থেকে একসাথে ১০-১৫ দিনের হাজিরায় স্বাক্ষর করেন। এমনকি সরকারিভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের নির্দেশনা থাকলেও কলেজে তা পালন করা হয়নি।

এছাড়া কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শ্যামল কান্তি কর গুপ্ত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে অবসরে গেলেও, তার ছাড়পত্র এখনো দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ ওই ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য হিসাব সহকারী মো. সামচুল হকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় প্রভাষক এখনো ছাড়পত্র পাননি।

স্থানীয়দের দাবি, অধ্যক্ষের এসব অনিয়মের দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ভালবাসায় সিক্ত ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান: কীর্তন অনুষ্ঠানে জনতার উচ্ছ্বাস

জনতার উদ্দেশ্যে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান আবেগভরে বলেন,

“আপনাদের আমার প্রতি এত ভালবাসা আগে আমি জানতাম না। দল যদি আমাকে নমিনেশন দেয় এবং আমি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই, তাহলে এই ভালবাসার প্রতিদান আমি কাজের মাধ্যমে আপনাদের ফিরিয়ে দেব। আর আমি যদি এমপি না-ও হতে পারি, তবুও সারা জীবন আপনাদের পাশে ছায়ার মতো থাকব।”

তিনি আরও বলেন,

“আমি যদি না থাকি, আমার সন্তানদের বলে যাব যেন তারা আজীবন এই এলাকার মানুষের পাশে থাকে।”

স্থানীয়দের মধ্যে তার এই বক্তব্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুব সমাজ ও ধর্মপ্রাণ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান ইতোমধ্যে বরিশাল-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন এবং উন্নয়নমুখী, সহনশীল রাজনীতি ও সর্বধর্মের ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

বালুর বস্তার ওপর দাঁড়িয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর সেতু

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল উজিরপুরের সেতুটি এখন আক্ষরিক অর্থে ‘ঝুলন্ত’’। সেতুটির নিচের তিনটি গার্ডারের মধ্যে দুটি গার্ডারেই দেখা দিয়েছে ফাটল। তবে যান চলাচল সচল রাখার জন্য সেতুটির নিচে বালুর বস্তা দিয়ে ঠেকা দিয়ে রেখেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। যা নিয়ে যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক।

স্থানীয়রা বলছেন, যে কোনো মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে। এতে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ঢাকার সঙ্গে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠিসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেল চলাচল করে এই সেতুর ওপর দিয়ে। ফাটল ধরা গার্ডার ও অস্থায়ী বালুর বস্তার সাহায্যে চলা এই যান চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তবে সেতুটির দুই প্রান্তে গতিরোধক স্থাপন করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।

স্থানীয় ভ্যানচালক জুলহাস বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই এই সেতু তৈরি হয়েছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। এখন সেতুর নিচের মাটি সরে গেছে, পাশে বড় গর্ত হয়েছে। ছোট গাড়ি গেলেও সেতু নড়ে ওঠে।

আরেক বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ভারী যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। সেতুটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহে সেতুতে ফাটল দেখা দেওয়ার পর পরিদর্শন করেন সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা। পরে সাময়িকভাবে তারা গার্ডারের নিচে বালুর বস্তা ফেলেন।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী শাহীন খান বলেন, সেতুর দুই পাশের মাটি নদীর স্রোতে ক্ষয় হয়ে গেছে। ফলে গার্ডারে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে যানবাহনের চাপ বহুগুণ বেড়েছে। গার্ডারের অন্তত তিনটি স্থানে বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। আপাতত বালুর বস্তা ফেলে সেতুটি সচল রাখা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু হবে।

এমপিও শিক্ষকদের সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার, সর্বনিম্ন বেতন ৩০

0

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে পে কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংগঠন ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট’র প্রতিনিধিদল। এসময় তারা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার ও সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা করাসহ ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে বেতন কাঠামো নিয়ে পে কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ প্রস্তাব তুলে ধরবেন জোটের প্রতিনিধিরা।

প্রস্তাবে গ্রেড-১ এর কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা করতে অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া গ্রেড-২ এ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, গ্রেড-৩ এ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, গ্রেড-৪ এ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, গ্রেড-৫ এ ৯৫ হাজার টাকা, গ্রেড-৬ এ ৮০ হাজার টাকা, গ্রেড-৭ এ ৭০ হাজার টাকা, গ্রেড-৮ এ ৬২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আর গ্রেড-৯ এ ৫৫ হাজার টাকা, গ্রেড-১০ এ ৫০ হাজার টাকা, গ্রেড-১১ এ ৪৫ হাজার টাকা, গ্রেড-১২ এ ৪০ হাজার টাকা, গ্রেড-১৩ এ ৩৫ হাজার টাকা, গ্রেড-১৪ এ ৩০ হাজার টাকা মূল বেতনের প্রস্তাব দেন এমপিওভুক্ত জোটের প্রতিনিধিরা।

এমপিও শিক্ষকদের প্রস্তাবিত ১০ দফা
১. এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রারম্ভিক বেতন প্রস্তাবিত নবম গ্রেডে দিতে হবে।
২. বাড়িভাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের মতো মূল বেতনের ৪০-৭০ শতাংশ হারে দিতে হবে।
৩. উৎসব ভাতা বা বোনাস মূল বেতনের সমপরিমাণ দিতে হবে।
৪. বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের সমপরিমাণ দিতে হবে।
৫. বিএড আইন বাতিল করতে হবে।
৬. কমিটি প্রথা বিলুপ্ত করতে হবে।
৭. অবসর ফান্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা অবসরের ৬ মাসের মধ্যে দিতে হবে।
৮. শিক্ষক/কর্মচারীদের রেশন সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৯. শ্রান্তি বিনোদন ভাতা ও সুবিধা দিতে হবে।
১০. এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করতে হবে।

সভায় এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদলে ছিলেন অধ্যক্ষ মাইন উদ্দীন, অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী, মো. মতিউর রহমান, মো. হাবিবুল্লাহ রাজু, মো. শান্ত ইসলাম, অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ নুরুল আমিন হেলালী, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. তোফায়েল সরকার, মো. রবিউল ইসলাম, মো. রাসেল মন্ডল ও মো. মাহবুব আলম।

জার্মানির ভিসা আবেদনকারীদের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা

0

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান দূতাবাস ভিসা আবেদনকারীদের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়।

দূতাবাস জানায়, সম্প্রতি কিছু পক্ষ নিজেদের দূতাবাসের পরিচয়ে ভিসা আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে দূতাবাস সবাইকে সতর্ক থেকে প্রেরকের ইমেইল ঠিকানা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। 

পোস্টে বলা হয়, কোনো তথ্য পাঠানোর আগে অনুগ্রহ করে ইমেইল ঠিকানাটি ভালোভাবে যাচাই করুন। যদি নিশ্চিত না হন যে ইমেইলটি সত্যিই দূতাবাস বা কনস্যুলার সার্ভিস পোর্টালের, তাহলে দূতাবাসের ওয়েবসাইটের যোগাযোগ ফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ করুন।  

এছাড়া দূতাবাস আরও জানিয়েছে, কনস্যুলার সার্ভিস পোর্টাল থেকে কেবল স্বয়ংক্রিয় বার্তা পাঠানো হয়, যেখানে নতুন কোনো বার্তা এসেছে কিনা তা জানানো হয়। তবে ইমেইলে ভিসা আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয় না বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ঢাকার জার্মান দূতাবাস সব ভিসা আবেদনকারীকে এমন প্রতারক এজেন্টদের সম্পর্কে সচেতন থাকার অনুরোধ করছে, যারা আবেদন জমা এবং প্রক্রিয়াকরণে সহায়তার দাবি করে। ভিসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সঠিক তথ্যের জন্য দূতাবাস তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট অথবা তাদের অফিসিয়াল পরিষেবা প্রদানকারী ভিএফএস’এর ওয়েবসাইট দেখার অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

কাবিননামায় সই করেছেন, ‘না’ বলার সুযোগ নেই

নির্বাচন আগে নাকি গণভোট—এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৃষ্ট বিভাজনের মধ্যেই জুলাই সনদে বিএনপির সই করা নিয়ে ফের মুখ খুললেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী। গণভোট প্রশ্নে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির ‘না’ সূচক প্রচারের পরিপ্রেক্ষিতে দলটির ‘না বলার সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি অনলাইনে (সোশাল মিডিয়ায়) ‘না’ শব্দ জারি করেছে। বিএনপির ‘না’ বলার কোনো ওয়ে নেই। তারা অলরেডি ‘হ্যাঁ’ বলে দিয়েছেন। তারা বিবাহে রাজিও হয়েছেন, কাবিননামায় সইও করেছেন। এখন তাদের না বলার কোনো অপশন নেই। বিএনপির ভেবেচিন্তে জুলাই সনদে সই করা উচিত ছিল।

রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাজনীতির বর্তমান এবং ভবিষ্যত পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের ‘মুখে এক অন্তরে আরেক’ মন্তব্য করে দলটির উদ্দেশে নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আপার হাউজের যে আনুপাতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (পিআর) সেটা লোয়ার হাউজে নিয়ে এসে আপনারা পুরো জিনিসটাকে নষ্ট করে দিলেন। আপনাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে জাতির সামনে মুখে একটা অন্তরে আরেকটা—এই ধরনের যে আচার-ব্যবহার রয়েছে সেটা স্পষ্ট হচ্ছে।

পাটওয়ারী মনে করেন, গণভোট প্রশ্নে জামায়াত পরবর্তীতে হয়তো বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাবে, হয়তো বলবে ঠিক আছে- ইলেকশনের দিনেই গণভোট হোক।

‘সংস্কার কমিশন সুপারিশমালা দিয়েছে, বল এখন ড. ইউনূসের কোর্টে’—এ মন্তব্য করে এনসিপির এ নেতা বলেন, ড. ইউনূস যেহেতু আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, বলা হয়ে থাকে যে বিদেশি প্লেয়াররা বাংলাদেশের মাঠে খেলতে এলে একটু পিছলায়া যায়, কারণ বাংলাদেশের মাঠটা অনেক বেশি পিছলা। কিন্তু এই পিছলা জায়গায় বেশি তেল মর্দন করেন আমাদের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। উনি পলিটিশিয়ানদের শুধু পিছলা খাওয়াতে এই যে ড্রাফটা (জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা) দিয়েছেন সেটা জাতির সামনে উন্মুক্ত করতে হবে। কারণ, আসিফ নজরুলের ওপর আমাদের সেই আস্থাটা নেই।

পাটওয়ারী বলেন, এই ড্রাফট সুপারিশনামা যখন উনি (আসিফ নজরুল) উন্মোচিত না করে করবেন, উনি সেখানে একটা অসৎ উদ্দেশ্যের আশ্রয় নিতে পারেন। সেজন্য আমরা বলছি, আপনাকে আগে এটা পাবলিশ করতে হবে। পাবলিশ করলে যদি দেখি সুপারিশনামা ঠিক আছে তাহলে আমরা সাইন করে দেব।

এ দিকে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া দেখে আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সনদে স্বাক্ষর করবে না জাতীয় নাগরিক পার্টি।

এর আগে নাসীরুদ্দীন বলেছিলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার দাবিতে এনসিপি তখন স্বাক্ষর থেকে বিরত ছিল। আমরা শুরু থেকেই বলেছি, আইনি ভিত্তি ছাড়া কোনো সনদে স্বাক্ষর সম্ভব নয়। তাই বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া দেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব—এটাই ছিল আমাদের প্রাথমিক অবস্থান।

তিনি বলেন, সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যমত কমিশন সরকারের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা সুপারিশ করার পর এনসিপি তাদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করেছে।

প্রতিবেদনে কমিশনের দুটি স্বতন্ত্র বাস্তবায়ন রূপরেখার কথা উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘একটি সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কারের জন্য এবং অন্যটি সংবিধান-বহির্ভূত সংস্কারের জন্য প্রজ্ঞাপন ও অধ্যাদেশের খসড়া আকারে দেওয়া হয়েছে।

আসিফ নজরুলকে নিয়েও দুদিন আগে বিস্ফোরক বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা হতে চেয়েছিলেন আসিফ নজরুল। এখন তার কোর্টে বল গিয়েছে, দেখা যাক তিনি কেমন খেলতে পারেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার উপদেষ্টাদের নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার দাবি, ঘোষণা অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আহতদেরও রাখতে হবে। ওই দিন এনসিপি সনদে সই করবে বলেও জানান তিনি।

উজিরপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী “উজিরপুর নৌকা বাইচ ২০২৫”

0

উজিরপুর প্রতিনিধিঃ
গ্রামবাংলার প্রাণের ঐতিহ্য ও উৎসবের রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনতে বরিশালের উজিরপুরে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “উজিরপুর নৌকা বাইচ ২০২৫” প্রতিযোগিতা। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল ৩টায় উপজেলার শিকারপুর সরকারি শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজের সামনের সন্ধ্যা নদীতে ঢাকঢোলের আওয়াজে শুরু হবে এই জমজমাট প্রতিযোগিতা।

নৌকা বাইচের উদ্বোধন হবে শিকারপুর কলেজ ঘাট থেকে, আর প্রতিযোগিতার শেষ হবে সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম.এ জলিল সেতু পর্যন্ত। ঐতিহ্যের এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জনাব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বরিশাল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জনাব মোঃ শরিফ উদ্দীন, পুলিশ সুপার, বরিশাল, এবং আসমা ফেরদৌসি, পরিচালক, জনশিক্ষা বিভাগ, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর।
আয়োজনের সভাপতিত্ব করবেন মোঃ আলী সুজা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উজিরপুর।

এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা যৌথভাবে আয়োজন করছে উজিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থা আভাস (AVAS)। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, ইউনেস্কো সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে, এ আয়োজনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।

এ বছর প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে মোট ৬টি বাচারি নৌকা, যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাস, সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ব্যক্তিত্বদের নামে—
#শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক, #কবি জীবনানন্দ দাশ, #সেক্টর কমান্ডার মেজর এম.এ জলিল, #বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, #কবি সুফিয়া কামাল, এবং #জুলাই শহীদ।

গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলার অভিজ্ঞ নৌকাবাইচ প্রতিযোগীরা— কালিপদ তালুকদার, লাজারেজ ফলিয়া, কিরণ মৃধা, সঞ্জয় রায়, শংকর বাড়ৈ ও সৈকত রায়—নিজ নিজ দল ও নৌকা নিয়ে অংশ নিচ্ছেন এই প্রতিযোগিতায়।

প্রতিযোগিতা শেষে সেক্টর কমান্ডার মেজর এম.এ জলিল সেতুর ইচলাদী প্রান্তে অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সেখানে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে চ্যাম্পিয়ন, ১ম রানারআপ ও ২য় রানারআপ পুরস্কার, পাশাপাশি থাকবে বিশেষ সম্মাননা পদক।

নৌকা বাইচকে ঘিরে ইতোমধ্যেই উজিরপুরজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। নদীর তীরে চলছে সাজসজ্জার প্রস্তুতি, দোকানপাটে জমেছে ভিড়, আর গ্রামের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এক রোমাঞ্চকর দিনের। নদীর পাড়ে জমবে হাজারো দর্শকের মিলনমেলা—গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, আনন্দ আর ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠবে “উজিরপুর নৌকা বাইচ ২০২৫”।