Home Blog Page 23

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে অনুপ্রেরণা — মো. নাইম হোসেন খানের উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত

0

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কালের ধারা 

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ পালরদী ও বানুয়াশরী এলাকায় গড়ে উঠেছে এক অনন্য উদ্যোগ। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন মো. নাইম হোসেন খান। নিজের দুইটি কারখানার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিচ্ছেন এবং তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করছেন।

মো. নাইম হোসেন খান জানান, তার কারখানাগুলোতে কয়েল পাখি ও পোষা প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল তৈরি করা হয়। পাশাপাশি, সখের কৃষি ও প্রাণীপ্রেমীদের জন্য তিনি লেয়ার মুরগির ডিম উৎপাদন খাঁচা স্বল্প মূল্যে সরবরাহ করছেন।

তিনি বলেন, “ছাত্র ও যুবকদের জন্য আমার এই উদ্যোগ অর্থনৈতিক কষ্ট লাঘবে সহায়ক হবে। তরুণরা চাইলে নিজেরাই ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে পারে। এতে তারা যেমন স্বাবলম্বী হবে, তেমনি সমাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

মাদকবিরোধী সচেতনতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পশুপাখি পালন শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানসিক প্রশান্তিও দেয়। এতে তরুণরা সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারে।”

স্থানীয়রা জানান, মো. নাইম হোসেন খানের এই কার্যক্রম এলাকায় নতুন উদ্যম সৃষ্টি করেছে। অনেক তরুণ এখন তার পরামর্শে ছোট ছোট উদ্যোগ নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

পিঙ্গলাকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক খন্দকার নুরুল হক আর নেই

0

গৌরনদী প্রতিনিধি : 

পিঙ্গলাকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক খোন্দকার নুরুল হকের ইন্তেকাল

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক হাজী খোন্দকার নুরুল হক আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।

আজ মঙ্গলবার বাদ এশা কালনা খোন্দকারবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রয়াত হাজী খোন্দকার নুরুল হক ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সদস্য ও উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আশরাফুল আলম জুয়েল এর পিতা।

অত্র অঞ্চলের বিশিষ্ট এই শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জনাব জহির উদ্দিন স্বপন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন।

তিনি বলেন, “খোন্দকার নুরুল হক ছিলেন একজন আদর্শবান শিক্ষক, নিবেদিত প্রাণ সমাজসেবক এবং মানবিক গুণে সমৃদ্ধ ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষাঙ্গন ও সমাজ হারালো এক গুণী মানুষকে।”


🕊️ আল্লাহ তায়ালা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন, আমিন।

তারেক রহমানের বক্তব্যে অশ্রুসিক্ত মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

0

দশ সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষ করেছে বিএনপি। সোমবার রাতে ঢাকা বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়। এই মতবিনিময় সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আবেগঘন বক্তব্যে অশ্রুসিক্ত হন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার মাও মৃত্যুর মুখোমুখি ছিল। ইচ্ছে করলে মাকে আমি নিয়ে আসতে পারতাম। কিন্তু মাও তো আসেনি আপনাদেরকে ছেড়ে। ৬ বার সে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছে। মৃত্যুর মুখোমুখি সত্ত্বেও মা আপনাদের ছেড়ে আসেননি। সেই মাকে সামনে রেখে আপনারা এক থাকবেন। যিনি আপনাদের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন। যে মাকে আমি নিয়ে আসতে পারতাম, কিন্তু সেই মা-ই আপনাদের ছেড়ে আসেননি।’

‘যে মা তার চল্লিশ বছরের বাড়ি হারিয়েছে। শেখ হাসিনা মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। যে মা তার সন্তানকে হারিয়েছে। মা বুঝে সন্তান হারানোর ব্যথা। সেই মায়ের সবকিছুর মূলেই ছিল এদেশের জনগণ। সবকিছুর মূলেই ছিল একটি গণতন্ত্রিক রাষ্ট্র। ইচ্ছে করলেই তো মা এ ব্যাপারে আপোষ করতে পারতেন। কিন্তু মা কোন আপসে যাননি। তার লক্ষ্যই ছিল ঐক্যবদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি জাতি গঠন করা। সেখানে কত ত্যাগ না স্বীকার করেছেন মা।’

‘একই সাথে গণতন্ত্রের জন্য কতো লোক শাহাদাত বরণ করেছে। কত লোক জেল খেটেছে, কত লোকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মা যদি আপোষ করতেন তাহলে এত কষ্ট মার করতে হত না।’

সূত্র জানায়, এই বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় উপস্থিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আদালতের একটি ঘটনাকে উদাহরণ টেনে বলেন, ‘এক সন্তানকে নিয়ে দুই মায়ের দাবি ছিল। বিচারক তখন বললেন সন্তান যখন আপনাদের দুজনেরই, কেউ কারও দাবী মানবেন না, তাহলে আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আপনাদের সন্তানকে দুই ভাগে ভাগ করে দুই মাকে দিয়ে দিব। তখন যিনি আসল মা সে বললেন, না। সন্তানকে ভাগ করার দরকার নেই উনাকেই (অন্য আরেক দাবিদার) দিয়ে দেন। কিন্তু যতদিন বেঁচে থাকি আমার সন্তানকে আমি দূর থেকে দেখবো। অর্থাৎ আসল মা-ই সে যিনি সন্তানকে ভাগ হতে দেন নি। ঠিক এই ভূমিকাটা আমি আপনাদের (মনোনয়নপ্রত্যাশী) কাছ থেকে চাই। প্রার্থীরা যদি সেই ভূমিকা অর্জন করেন তাহলে আপনাদের নেতৃত্বেই এগিয়ে যাবে বিএনপি। একজন প্রার্থীকে সবাই সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করব।’

রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে মতবিনিময় সভা চলে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত। সবাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বক্তব্য দেন। ঢাকা বিভাগের মতবিনিময় সবাই উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ।

বরিশালের বিবির পুকুর ঘিরে লোহার গরাদ, উদ্বেগে স্থানীয়রা

0

এ কে কৗ‌শিক, বরিশাল।।

ধান, নদী আর খালের শহর বরিশালের বুকের মাঝখানে শতবর্ষী এক জলাশয় বিবির পুকুর। একসময় এই পুকুর ছিল শহরের প্রাণ। ঝকঝকে স্বচ্ছ পানি, আশপাশে মানুষের আড্ডা, শিশুরা খেলে বেড়ায়, বাতাসে ভেসে বেড়াত জীবন আর ইতিহাসের গন্ধ। আজ সেই পুকুর আর আগের মতো নেই।

পানির গভীরতা কমেছে, স্বচ্ছতা হারিয়েছে, আর ইতিহাসের আলোও যেন ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
সৌন্দর্য ফেরাতে ফোয়ারা বসানোর কাজ চললেও, নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে পুকুরের দক্ষিণ পাশে। গতকাল মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) গভীর রাতে সেখানে বসানো হয়েছে লোহার গরাদ, যেন এক বিশাল খাঁচা। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলার প্রস্তুতিও চলছে নেট দিয়ে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা এই খাঁচায় হারিয়ে যাবে বিবির পুকুরের খোলা আকাশ, মুক্ত সৌন্দর্য। এর আগেও শহরের আরেক প্রান্তে, বেলস পার্ক লেক ঘিরে দেওয়ার উদ্যোগে তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে খবর ছাপা হলে নাগরিকদের মানববন্ধন, চিত্রাঙ্কন আর স্মারকলিপির পর সেই কাজ স্থগিত হয়। তবে এবার যেন সেই পুরনো গল্পই ফিরে আসছে বিবির পুকুরে।

বিবির পুকুর শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি ইতিহাসের ধারক। জানা যায়, খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক উইলিয়াম কেরি ১৮০০ সালের দিকে বরিশালে এসে এক মুসলিম মেয়েকে পর্তুগিজ দস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। নাম রাখেন জিন্নাত বিবি। নিঃসন্তান এই নারী ১৯০৮ সালে নিজের জমিতে এই পুকুর খনন করেন মানুষের উপকারে। সেই থেকে জলাশয়টির নাম, বিবির পুকুর।

প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮৫০ ফুট প্রস্থের এই জলাশয় একসময় কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে দুটি খাল দিয়ে সংযুক্ত ছিল। নদীর জোয়ারে পানি এসে ভরে দিত পুকুর, মাছও আসত। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই খাল আজ বিলুপ্ত, আর পুকুরটিও হয়ে পড়েছে বদ্ধ ও নিস্তরঙ্গ। কয়েক বছর আগে প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন পুকুর ঘিরে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেন। পার্ক, বেঞ্চ, আলোকসজ্জা, ফোয়ারা; সব ছিল সেই পরিকল্পনায়। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে গেছে সেই জৌলুস। পুকুরের দক্ষিণ পাশে অবৈধ দোকান উঠলেও কিছুদিন পর আবার বসানো হয় করপোরেশনের অনুমতিতে।
স্থানীয় কবি ও ইতিহাসবিদ হেনরি স্বপন বলেন, ‘একসময় বিবির পুকুর ছিল আমাদের শহরের গর্ব। এখন সেখানে মাছ চাষ, দোকান, ময়লার গন্ধ— সব মিলিয়ে জীর্ণ অবস্থা। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে যারা আছেন, তারা যেন এই জায়গাটাকেই ভুলে গেছেন। যে শহর নিজের জলাশয় বাঁচাতে পারে না, সে তার ইতিহাসও টিকিয়ে রাখতে পারে না।’ বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাজার কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ভাড়া তুলছিলেন, তাই উচ্ছেদ করা হয়েছে। বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য স্টিকার দেওয়া হচ্ছে, প্রতিদিন ৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ময়লা যাতে পুকুরে না পড়ে, সে জন্যই গ্রিল ও নেট বসানো হচ্ছে। তিনি আরো জানান, পুকুরটি এখন স্থানীয় ব্যবসায়ী কালু সিকদারের ইজারায় রয়েছে এবং সেখানে মাছ চাষ চলছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানান, ফোয়ারার কাজ প্রায় শেষ। কাজ শেষ হলে বিবির পুকুর তার আগের রূপ ফিরে পাবে। নাগরিকরা বলছেন, পুকুরকে ঘিরে গরাদ নয়, প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন আর রক্ষণাবেক্ষণ। নইলে ইতিহাসের সাক্ষী এই বিবির পুকুর শুধু একটি মাছ চাষ প্রকল্পেই রূপ নেবে। সৌন্দর্য নয়, বরং হয়তো এই খাঁচার ভেতর হারিয়ে যাবে তার শেষ নিঃশ্বাসটুকুও।

তেকোটা সদ্ধর্ম বিকাশ বিহারে দুই দিনব্যাপী দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পন্ন

স ম জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে:

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার তেকোটা সদ্ধর্ম বিকাশ বিহার প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। “এসো বুনি বর্তমান, গড়ে তুলি ভবিষ্যৎ” এই প্রতিপাদ্যে আয়োজন করা হয় এ বছরের চীবর দানোৎসব।

২৫ অক্টোবর বিকেলে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া। তিনি বলেন, “মহামানব বুদ্ধ বলেছেন, আত্মদীপ ভব— নিজের ভেতর আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে নিজেকে বিকশিত করাই জীবনের প্রকৃত সাধনা। আমাদের জীবনে অহিংসা, প্রেম, মানবতা ও মৈত্রী চর্চাই হতে হবে আলোর পথ। কুশল কর্ম ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে নিজেদের দীপ্ত করতে হবে, যেন এই আলোর শিখা ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জৈষ্টপুরা শাক্যমুনি বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জিনানন্দ মহাস্থবির। প্রধান ধর্মদেশক ছিলেন বান্দরবানের স্বর্ণজাদির ভদন্ত উ পাঞঞা তিলক মহাথের, দেশক ছিলেন ভদন্ত শুভানন্দ মহাথেরো, উদ্বোধনী ভাষণ দেন তেকোটা সদ্ধর্ম বিকাশ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শরণ সেন মহাথেরো।

বিহার পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বিকাশ বড়ুয়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং সম্পাদকীয় বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক কামনাশীষ বড়ুয়া। বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি সুবীর বড়ুয়া, সহ-সভাপতি শুভাশিস বড়ুয়া, সরিৎ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেবপ্রিয় বড়ুয়া ঝুলন ও অধ্যাপক অরূপ বড়ুয়া। ধর্মীয় প্রার্থনা পরিচালনা করেন সত্যপ্রিয় বড়ুয়া এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রণব বড়ুয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিপলু বড়ুয়া ও সংগীত শিল্পী রুবেল বড়ুয়া।

২৪ অক্টোবর বিকেল ৩টায় রাঙামাটির বেইন শিল্পীদের অংশগ্রহণে চীবর বুনন কার্যক্রম উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দানোৎসবের শুভসূচনা হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হয় বিহার উন্নয়ন সংলাপ, কৃতি শিক্ষার্থী ও ভূমিদাতা সম্মাননা, শ্মশানবন্ধু সম্মাননা এবং বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান।

বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রুবেল বড়ুয়া, যিনি তেকোটা গ্রামের উন্নয়নে অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. প্রীতি প্রসূন বড়ুয়া।

অন্যদের মধ্যে সম্মাননা পেয়েছেন এমবিবিএস ডাক্তার অরুণিমা বড়ুয়া, সাবরেজিস্টার পূর্বাশা বড়ুয়া ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা পার্থিব বড়ুয়া। চীবর বুননে বিশেষ সহযোগিতার জন্য শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয় গৌতম বড়ুয়া ও তার সহধর্মিণী ঝুমকি চৌধুরীকে (ফ্রান্স প্রবাসী)।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জ্যোতি প্রকাশ চৌধুরী বলরাম, শিক্ষক দেশরক্ষিত বড়ুয়া, মৃণাল কান্তি বড়ুয়া ও সৌমিত্র প্রিয় চৌধুরী।
সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ত্রপা চৌধুরী ও মৃত্তিকা চৌধুরী মৈত্রী।

রাত গভীর পর্যন্ত চলে বুদ্ধ কীর্তন, যেখানে তেকোটা গ্রামের তরুণরা মনোজ্ঞ পরিবেশনা উপহার দেন।
আলো, ধর্ম ও মানবতার এই মহোৎসবে তেকোটা পরিণত হয় এক সত্যিকারের ‘দীপাঞ্চলে’। 🌼

যে‌কো‌নো মুহু‌র্তে ঢাকার সা‌থে ব‌রিশা‌ল বি‌চ্ছিন্ন

0

গুরত্বপূর্ণ সেতুর ভরসা এখন বালুর বস্তা ! এই জন ও বহুল গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসের আশঙ্কায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুর নিচের তিনটি গার্ডারের মধ্যে দুটি গার্ডারে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বরিশাল–ঢাকা মহাসড়কের উজিরপুর উপ‌জেলা‌ধীন বামরাইল ।

অবস্থার অবনতি ঠেকাতে সড়ক বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে সেতুর নিচে বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে ঠেকনা দিয়েছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের এই প্রধান সড়ক যোগাযোগ।

এতে মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ সব যানবাহন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গার্ডার ফাটল আর বালুর বস্তার ভরসায় চলছে যান চলাচল—ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

ঝুঁকি বিবেচনায় সেতুর দুই প্রান্তে গতিরোধ বসানো হয়েছে এবং ‘ঝুঁকিপূর্ণ সেতু’ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

স্থানীয়রা জানান, পা‌কিস্তান আম‌লে সেতুটি নির্মিত হয়। এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ভারী যান এই পথে চলছে। তলায় মাটি সরে গিয়ে পাশে বড় গর্ত হয়েছে, এখন ছোট গাড়ি গেলেও সেতু দুলে ওঠে।’

স্থানীয় সূত্র বলছে, পাঁচ দিন আগে সওজ কর্মকর্তারা সেতুটি পরিদর্শন করেন। পরদিনই প্রায় ৪০ জন শ্রমিক নিয়ে শুরু হয় জরুরি সংস্কারকাজ। তারা সেতুর নিচে বালুর বস্তা ফেলে গার্ডারে ঠেকনা দেন।

এতদাঞ্চ‌লের যাত্রী চালক ও প‌রিবহন মা‌লিক‌দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী সংস্কার না করা হলে বরিশাল,ভোলা,বরগুনা পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ছয় জেলার পুরো দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

খুতবায় ইসকন বি‌রোধী বক্তব‌্য দেয়ায় ইমাম‌কে হুম‌কি

0

জুমার নামাজে খুতবার সময় ইসকন নিয়ে মসজিদের ইমাম সাধারণ মুসল্লিদের শান্তি ও সহাবস্থান থাকার আহ্বান জানান। এ কারণে একটি চিরকুটে ইমামকে পরিবারসহ জীবননাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বরিশালের আগৈলঝাড়ার রাজিহার ইউনিয়‌নের বড় বাশাইল ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বড় বাশাইল মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা নাজমুস সাকিব ২৪ অক্টোবর জুমার নামাজের খুতবার সময় দেশে সাম্প্রতিক চলমান বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে খুতবা প্রদান করেন এবং ইসকনের ব্যাপারে সাধারণ মুসল্লিদের শান্তি ও সহাবস্থান থাকার আহ্বান জানান। এ ঘটনার কারণে গতকাল শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তার বসত ঘরের বারান্দায় একটি চিরকুট ফেলে যায়। ওই চিরকুটে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ইমাম ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জীবননাশের হুমকি প্রদান করে। তারা তাকে পরবর্তীতে দেখে নিবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারীতে রেখেছেন মর্মেও হুমকি প্রদান করে। এ কারণে জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে ইমাম হাফেজ মাওলানা নাজমুস সাকিব বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় গতকাল শনিবার দুপুরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম ইমামের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হুমকির ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নর‌সিং‌দি‌তে এন‌সি‌পির সমা‌বেশ

0

এনসিপি ৪৬ নম্বর রাজনৈতিক দল হতে আসে নাই: সারজিস আলম

সাদ্দাম উদ্দিন রাজ নরসিংদী

এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি দেশের রাজনীতিতে ৪৬ নম্বর রাজনৈতিক দল হতে আসে নাই। আমরা হয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে সরকারি দল হিসেবে থাকবো, নয়তো শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে থাকবো। জাতীয় পার্টির মতো পোষা রাজনৈতিক দল হইতে আমরা আসি নাই।

তিনি আরও বলেন, আগামীর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রশ্নে বিএনপি-জামায়াত এককভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবে না, এখানে এনসিপি আবশ্যক।

রোববার (২৬ অক্টোবর) রাতে নরসিংদী জেলা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে আয়োজিত জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সারজিস আলম।

এনসিপির নরসিংদী জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী আওলাদ হোসেন জনির সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) সাইফুল হায়দার, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল আল ফয়সাল, কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল্লাহিল মামুন নিলয় প্রমুখ।

বরিশালে শুরু হয়েছে নির্বাচন ২০২৬-এর প্রচারণা।

0

কালেরধারাঃ বরিশাল গৌরনদী -আগৈলঝাড়া শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর প্রচারণা। বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টাঙিয়েছেন স্বপন সরদার।

মান্না ভাইয়ের সালাম নিন, কল্যাণরাষ্ট্র গড়ার শপথ নিন” এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর প্রচারণা।
গণতন্ত্র মঞ্চের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদীয় আসন ১১৯ (বরিশাল-১) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নাগরিক ঐক্যের নিবেদিতপ্রাণ নেতা তাহের মোঃ স্বপন সরদার।‘কেটলি মার্কায় ভোট দিন’ — এই আহ্বান জানিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই জনসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেছেন। মোঃ স্বপন সরদার বলেন,

মান্না ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণে, উন্নয়ন হবে সবার জন্য  এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন — শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নিবেদিত একজন মানুষ হিসেবে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর রয়েছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি।আগামী নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশা বরিশাল-১ আসনে ‘কেটলি মার্কা’ যেন গণমানুষের জাগরণের প্রতীক হয়ে ওঠে।সবার আহ্বান জানান এবং মান্না ভাইয়ের সালাম নিন,কল্যাণরাষ্ট্র গড়ার শপথ নিন
,নাগরিক ঐক্যের কেটলি মার্কায় ভোট দিন,প্রার্থী:  মোঃ স্বপন সরদার আসন আত্মপ্রকাশ করেন।
গণতন্ত্র মঞ্চ – মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক ও অভিন্ন।

বাবুগঞ্জে বিএনপির নারী সমাবেশে নারীদের ঢলঃ উচ্ছ্বসিত সেলিমা পন্থীরা

বরিশালের বাবুগঞ্জে নারীদের নিয়ে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ নারী সমাবেশ করেছে বিএনপি। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ওই নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান। সমাবেশে রেকর্ড সংখ্যক হাজার হাজার নারীদের ঢল নামায় সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে বিএনপির সেলিমা গ্রুপের জনপ্রিয়তা পরীক্ষা ও নির্বাচনী আগাম শোডাউন হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, এত বিপুল সংখ্যক নারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নারী সমাবেশ ইতিপূর্বে কখনো দেখেনি তারা। এই নারী সমাবেশকে ঘিরে উজ্জীবিত বিএনপির সেলিমা রহমান নিয়ন্ত্রিত ইসরাত হোসেন কচি তালুকদারের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ। নারীদের নিয়ে এই বিশাল শোডাউনে প্রতিপক্ষের চেয়ে নির্বাচনী দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন বেগম সেলিমা রহমান বলে মনে করছেন তার অনুসারী কর্মী-সমর্থকরা।

নারী সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা ছিলেন এক ডাইনী স্বৈরাচারী সরকার প্রধান। জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য নির্বিচারে তিনি গণহত্যা চালিয়েছেন। ডাইনী শেখ হাসিনা সরকারকে জনগণ দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর তারা দেশে খুন, গুম, আয়নাঘর, ধর্ষণ, দুর্নীতি, লুটপাটের রামরাজত্ব কয়েম করেছিল। জনগণের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছিল। এই ডাইনী সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলন এবং সর্বশেষ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। এই আন্দোলনে আমাদের মা-বোন নারীদের অনেক অবদান রয়েছে। দেশকে আবারো গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনতে নারীদের ভূমিকা অপরিসীম। রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফায় শুধু পুরুষ নয়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করারও অঙ্গীকার রয়েছে।’

শনিবার বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত ওই নারী সমাবেশে বেগম সেলিমা রহমান আরো বলেন, ‘একটি দল জান্নাতের টিকেট বিক্রি করছে। তারা মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট আদায় করতে চাইছে। ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা-বোনদের কোরআন শপথ করানো হচ্ছে। ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করছে তারা। কোনো মার্কায় ভোট দিয়ে কেউ জান্নাতে যেতে পারে না। যারা এসব কথা বলে তারা ভন্ড মোনাফেক। এসব প্রতারকদের থেকে মা-বোনদের সতর্ক থাকতে হবে।’

রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা সম্পর্কে নারীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত ওই নারী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ১নং সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ, মুলাদীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি সভাপতি আবদুস সাত্তার খান, বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম ভিপি লিপন এবং জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোঃ আওলাদ হোসেন। সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার।

বাবুগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সহ-সভাপতি কুলসুম বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই নারী সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান রবীন, যুগ্ম-সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহির ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক রিয়াজ হোসেন। নারী সমাবেশে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী কাকলী আক্তার, ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সদস্য হাবিবুর রহমান রিপন মেম্বার, কৃষক দলের সভাপতি আরিফুর রহমান রতন তালুকদার, মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সম্পাদক সেলিম সরদার, শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সম্পাদক মিলন খান, রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সম্পাদক জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সহ-সভাপতি এস এম শফিউল আজম প্রমুখ।

বিএনপির ওই নারী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃতাকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির ১নং সহ-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল, তখন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশ বাঁচাতে লন্ডনে বসে ঐতিহাসিক ৩১ দফা ঘোষণা করেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে যেসকল সংস্কার প্রস্তাব এনেছেন তার প্রায় সবগুলোই তারেক রহমানের ৩১ দফার মধ্যে রয়েছে। বিগত স্বৈরাচারী সরকার শুধু মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়নি, বরং দেশের সমগ্র নির্বাচন ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। ঘোষিত ৩১ দফায় নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার, ভোটাধিকার রক্ষা, আইনের সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের পূর্নাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। তাই ৩১ বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বিনির্মাণ করতে হলে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে অতীতে যেভাবে আমাদের মা-বোনেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, সেভাবে আগামী নির্বাচনেও তারা মূখ্য ভূমিকা পালন করবেন।’ #