Home Blog Page 27

ইতা‌লি মরহুম হা‌সেম ঢালীর শোকসভা মিলাদ মাহ‌ফিল

0

মিনহাজ হোসেন:রোম ইতা‌লি

ইতালি বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি প্রার্থী ঢালী নাসির উদ্দিনের পিতা হাসেম ঢালী সম্প্রতি ইন্তেকাল ক‌রেন। মরহুম হা‌সেম ঢালল রুহের মাগফেরাত কামনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ইতা‌লির রাজধানী রোমের প্রেনেস্তিনা মক্কি মসজিদে দোয়া মাহফিল শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন রোম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির পরিচালনা করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার।

উপস্থিত ছিলেন— ইতালি বিএনপির সাবেক সভাপতি লকিয়ত উল্লাহ, সাবেক সহ-সভাপতি হাসানুজ্জামান, এডভোকেট কামরুজ্জামান, আবুল কালাম, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ তৌহিদ কাদের, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রাইহান মোল্লা, ইতালি যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, বরিশাল বিভাগ জাতীয়তাবাদী ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা মিঞ্জু সরদারসহ মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, মরহুম আবুল হাসেম ঢালী ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেমিক ও সমাজসেবক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তিনি হয়রানির শিকার হন। তার ছেলে ঢালী নাসির উদ্দিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় পরিবারকেও সে সময় নানা চাপ সহ্য করতে হয়েছে। বক্তারা আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

শেষে মরহুম আবুল হাসেম ঢালীর রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

রোমে হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি ঘোষণা

লিটন চৌধুরী, রোম | বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
ইতালির রাজধানী রোমে হেফাজতে ইসলাম ইতালি শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রোমের একটি সম্মেলন কক্ষে সমন্বয়ক কমিটির আয়োজনে এ ঘোষণা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন মুফতি অলি উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক হন মাওলানা সাঈদ তালুকদার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল কাদির সালেহ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. মাওলানা শোয়েব আহমদ — কেন্দ্রীয় সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা গোলাম কিবরিয়া।

রোমের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-খতিব, প্রবাসী আলেম ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন,
“প্রবাসে থেকেও ইসলামি শিক্ষা ও আদর্শ প্রচারে হেফাজতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও দাওয়াতি কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।”

বিশেষ অতিথিরা নতুন নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন,
“হেফাজতে ইসলামের লক্ষ্য শান্তি, ন্যায় ও ইসলামী সমাজ গঠন। প্রবাসের মাটিতে নতুন কমিটি সেই আদর্শ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।”

অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং প্রবাসী মুসলমানদের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।

নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলাম ইতালি শাখা প্রবাসে ইসলামী কার্যক্রম নতুন উদ্যমে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

ডিসি-ইউএনও’র মহতী উদ্যোগঃ জনমদুখিনী সালমা পেলেন শান্তির নীড়

কবি কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল দুখু মিয়া। জাতীয় কবি দুখু মিয়ার শৈশবের দুঃখকষ্টের গল্পটা সবার কমবেশি জানা। তবে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার আরেক দুখু মিয়ার গল্পটা তেমন কেউ জানে না। উপজেলার মানিককাঠী গ্রামের এই দুখু মিয়ার হৃদয়বিদারক করুণ কাহিনী যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। দুঃখ আর দুর্ভাগ্য নিয়ে জন্ম হয়েছিল বলেই নানা তার নাম রেখেছিলেন দুখু মিয়া। মায়ের গর্ভে থাকতেই দুখু মিয়াকে অস্বীকার করে তার বাবা। ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া দুখু মিয়াকে মায়ের গর্ভেই হত্যা করতে বসেছিল গ্রাম্য সালিশ। তবে গ্রাম থেকে পালিয়ে এসে দুখু মিয়াকে প্রাণে বাঁচান মা। পিতৃপরিচয়হীন, ঠিকানাহীন অবস্থায় জন্ম নেওয়া দুখু মিয়ার পিতৃত্ব নির্ধারণে আদালতে চলে দীর্ঘ আইনি লড়াই। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পিতৃত্ব নিশ্চিত করে দুখু মিয়ার জন্মদাতা পিতাকে আদালত যাবজ্জীবন সাজা দিলেও দুখু মিয়া পায়নি সন্তানের অধিকার কিংবা সমাজের স্বীকৃতি। আদালতে জয়ী হলেও সমাজের লাঞ্ছনা আর দারিদ্র্যের কষাঘাতে চিরতরে গ্রামছাড়া হতে হয় দুখু মিয়া এবং তার জনমদুখিনী মাকে। একপর্যায়ে মা-ছেলের কারণে পুরো পরিবারকেই হতে হয় গ্রামছাড়া। নদীর কচুরিপানার মতো ভাসমান জীবন বরণ করতে হয় ৯ সদস্যের একটি পরিবারকে।

সমাজের প্রতি পদে পদে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা নিয়ে দারিদ্র্যের সাথে প্রতি মুহূর্তে লড়াই করা দুখু মিয়া এবং তার যোদ্ধা মা সালমা আক্তারকে স্থায়ী ঠিকানা দিতে অবশেষে উদ্যোগ নেন বরিশাল জেলা প্রশাসক। তিনি বাবুগঞ্জের ইউএনওকে সাথে নিয়ে দুখু মিয়ার জন্য যৌথভাবে কেনেন একখন্ড জমি। অতঃপর সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুদানে সেখানে নির্মাণ করা হয় একটি বসতঘর। সেই বসতঘরের নাম রাখা হয় শান্তির নীড়। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বরিশাল বিমানবন্দর মোড় এলাকায় সালমা ও তার দুখু মিয়ার স্বপ্নের ঠিকানা সেই শান্তির নীড়ের চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। একইসাথে সালমাকে দেওয়া হয় দুখু মিয়ার ভরনপোষণে সরকারি ১৬ লাখ টাকা অনুদানের শেষ কিস্তির ১ লাখ ৮২ হাজার টাকার চেক। এসময় সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ.কে.এম আক্তারুজ্জামান তালুকদার, সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ, সেইন্ট বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর কবির, বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন ডলি, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল হোসেন, বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি ও সুজন সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত ২০০৩ সালের ৯ আগস্ট মানিককাঠী গ্রামের সালাম সরদারের ছেলে গিয়াস উদ্দিন প্রতিবেশি চাচার বাড়িতে গিয়ে চাচাতো বোন চতুর্দশী সালমা আক্তারকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। এতে গর্ভবতী হয়ে পড়েন সালমা। ঘটনা জানাজানি হলে সরাসরি অস্বীকার করেন অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন। বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন তৎকালীন রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সিকদার। তিনি গর্ভবতী সালমাকে মেনে নিয়ে গিয়াসকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার রায় দিয়ে সালিশ রোয়েদাদ দেন। এদিকে ওই সালিশ অগ্রাহ্য এবং সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে সালমাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন গিয়াস উদ্দিন ও তার পরিবার। সালমাকে দুশ্চরিত্রা আখ্যা দিয়ে স্থানীয় সমাজপতিদের নির্দেশে গর্ভপাত করানোর জন্য সালমা ও তার মাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। একপর্যায়ে সালমা আক্তার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এসব ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে ওঠে প্রশাসন। পরে প্রশাসনের সহায়তায় আদালতের মাধ্যমে বাবুগঞ্জ থানায় একটি নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন সালমা আক্তার।

মামলা দায়েরের পরে পুলিশ গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিনকে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়াসের প্রভাবশালী মামারা মারপিট করে ৭ ভাইবোনসহ সালমার পরিবারকেও মানিককাঠী গ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন। পরে গর্ভবতী সালমাকে নিয়ে তার ৯ সদস্যের পরিবার এসে আশ্রয় নেয় উত্তর রহমতপুর গ্রামের আলী হোসেনের ইটভাটায়। সেখানে মাটি কাটার কাজ নেন সালমা ও তার মা রেনু রেগম। ইটভাটা মালিক আলী হোসেনের দয়াকরে থাকতে দেওয়া একটি খুপরি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করে সালমার পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে ২০০৪ সালের ৯ জুন ভাগ্যবিড়ম্বিত সালমার কোলে জন্ম নেয় ফুটফুটে শিশু দুখু মিয়া। জন্মই যার আজন্ম পাপ; সেই হতভাগ্য নিষ্পাপ শিশুটির নাম রাখা হয় দুখু মিয়া। এক সাগর দুঃখ বুকে নিয়ে নাতির নাম দুখু মিয়া রাখেন সালমার বাবা কালাম সরদার। এদিকে দুখু মিয়া জন্মের ৪ মাস পরে ২০০৪ সালের ৭ অক্টোবর জামিনে ছাড়া পান অভিযুক্ত জন্মদাতা গিয়াস উদ্দিন। জামিনে এসে নিজের ঔরসজাত সন্তানকে অন্যের জারজ সন্তান আখ্যা দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালান তিনি। পরে সালমা ও দুখু মিয়ার নিরাপত্তার বিবেচনায় তাদের সেইভ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এদিকে মামলার একমাত্র অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন তার সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে আদালতের নির্দেশে সালমার সন্তান দুখু মিয়া এবং গিয়াস উদ্দিনের রক্ত এবং মুখের লালার নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে পাঠান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাবুগঞ্জ থানার এসআই আলতাফ হোসেন। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে গিয়াস এবং দুখু মিয়ার ডিএনএ প্রোফাইল ম্যাচ করায় গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপরে অভিযুক্ত গিয়াসের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের পরে বিচারের জন্য ২০০৮ সালে আলোচিত এই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এদিকে প্রায় ২ বছর সেইভ হোমের সরকারি নিরাপত্তা হেফাজতে থাকার পরে রহমতপুর বিমানবন্দর মোড়ে দুলাল সরদারের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে দুখু মিয়াকে নিয়ে আশ্রয় পান সালমা আক্তার।

এদিকে সালমার ট্রলি চালক দরিদ্র পিতা কালাম সরদার স্ট্রোকজনিত কারণে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে বিছানায় পড়লে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটতে থাকে তাদের পরিবারের। নিরুপায় হয়ে আড়াই বছরের দুখু মিয়াকে সালমা তার মায়ের কাছে রেখে ২০০৬ সালে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমান ঢাকায়। সেখানে রানা প্লাজার পাশের একটি গার্মেন্টসে মাসিক ২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি নেন সালমা। দুই শিফট ডিউটি আর দিনরাত ওভারটাইম করে ৬ হাজার টাকা বেতন পেয়ে ৫ হাজার টাকাই পাঠিয়ে দিতেন মায়ের কাছে। ওই সামান্য টাকা দিয়েই সালমার ছোট ৬ ভাইবোন আর দুখু মিয়ার খরচ চলতো। সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে বিভিন্ন বাড়িতে বুয়ার কাজ নেন সালমার মা রেনু বেগম। এদিকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত সালমার বাবার মৃত্যু হলে দুখু মিয়াসহ ৯ সদস্যের পরিবার নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েন রেনু বেগম। তবুও দুই মা-মেয়ে মিলে বেঁচে থাকার যুদ্ধে হার না মানা যোদ্ধা হয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন।

সালমার দায়ের করা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পরে রাষ্ট্রপক্ষের ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১১ সালের ২৪ মার্চ রায় ঘোষণা করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আনিছুর রহমান খান। রায়ে মামলার একমাত্র আসামি গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের কারণেই সন্তান জন্মদানের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন বিচারক। একইসঙ্গে দুখু মিয়ার বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরনপোষণের যাবতীয় ব্যয় রাষ্ট্রকে বহন করার আদেশ জারি করেন। আদালতের ওই রায়ের পরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে দুখু মিয়ার ভরনপোষণের জন্য প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১ লাখ টাকা করে এ পর্যন্ত ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এই টাকা দিয়েই দুখু মিয়াকে লেখাপড়া করান তার মা সালমা আক্তার। বর্তমানে দুখু মিয়া সরকারি আবুল কালাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

এদিকে সালমার ৫ ভাইয়ের মধ্যে ৩ ভাই বিয়ে করে বাড়িতে বউ আনলে সালমার সাথে তাদের মতবিরোধ তৈরি হয়। ভাইয়ের বউরা সালমার জন্য সমাজে মুখ দেখাতে পারে না, ইত্যাদি নানান অজুহাতে তাকে বাড়িছাড়া করার পায়তারা শুরু করে। ভাইদের সাথে একই সংসারে থাকার কারণে দুখু মিয়ার ভরনপোষণের জন্য সরকার থেকে দেওয়া অনুদানের টাকাও ভোগ করতে পারছিলেন না হতভাগিনী সালমা আক্তার। অনুদানের শেষ কিস্তির টাকার চেক আনতে গেলে কথা প্রসঙ্গে এসব হৃদয়বিদারক ঘটনা জানতে পারেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। সালমার কাছে তার জীবনের গত ২২ বছরের বিভীষিকাময় ঘটনার আদ্যোপান্ত শুনে তিনি বিস্মিত এবং বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

এরপরেই সালমা ও তার দুখু মিয়ার জন্য একটি স্থায়ী ঠিকানা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক। সালমার বর্তমান ঠিকানার আশেপাশে একখণ্ড জমি খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন বাবুগঞ্জের ইউএনওকে। পরে বরিশাল বিমানবন্দর মোড় এলাকার রহমতপুর মৌজায় ২ শতক খাসজমির সাথে স্থানীয় দীপক মজুমদারের কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ১ শতক জমি কেনা হয়। জেলা প্রশাসকের সাথে জমি কেনায় যৌথভাবে অংশগ্রহণ করেন বাবুগঞ্জের ইউএনও ফারুক আহমেদ। এছাড়াও এনজিওর পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা অনুদান দেন সেইন্ট বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর কবির। পরবর্তীতে সালমার নামে দলিল করা প্রায় ৩ শতাংশ জমির ওপরে বসতঘর নির্মাণের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ আনেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

নদীভাঙনে ভিটামাটিহীন/ক্ষতিগ্রস্ত এবং বস্তিবাসীদের জন্য গৃহনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ওই ৩ লাখ টাকার সাথে বসতঘরের জমিতে ইউএনওর সৌজন্যে বালু ভরাটসহ প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সালমা এবং তার দুখু মিয়ার জন্য নির্মিত হয় স্বপ্নের ঠিকানা শান্তির নীড়। বৃহস্পতিবার বিকেলে শান্তির নীড়ের চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে সালমার হাতে হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। এসময় তিনি সালমার হাতে দুখু মিয়ার ভরনপোষণে সরকারি অনুদানের শেষ কিস্তির ১ লাখ ৮২ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। ফিতা কাটার মাধ্যমে বসতঘরের উদ্বোধন ও চাবি হস্তান্তরকালে সেখানে দোয়া-মোনাজাত এবং মিষ্টি বিতরণ করা হয়। দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম ও খানপুরা আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আ.জ.ম সামসুল আলম।

প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৩ শতাংশ জমিসহ বসতঘর পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন সালমা আক্তার। নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ধর্ষিতা হয়ে বিচার চাইতে গিয়ে সমাজচ্যুত হয়েছি। গ্রামছাড়া হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি। আমাকে চরিত্রহীনা অপবাদ দিয়ে আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। মামলা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছি। না খেয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করেছি। দুমুঠো ভাতের জন্য যখন যে কাজ পেয়েছি তাই করেছি। দুখু মিয়াকে সাথে নিয়ে গত ২২টি বছর জীবনের অবর্ণনীয় কষ্ট দুর্ভোগ সহ্য করেছি। অবশেষে আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন। ডিসি এবং ইউএনও স্যারের মাধ্যমে আজ আমি একটা স্থায়ী ঠিকানা পেলাম। আমার দুখু মিয়াকে নিয়ে মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই পেলাম। এই ঘর আমার কাছে স্বপ্নের ঠিকানা বলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন সালমা আক্তার।’

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘নির্যাতিতা সালমাকে একটি স্থায়ী ঠিকানা গড়ে দেওয়ার মহতী কাজে সম্পৃক্ত হতে পেরে আনন্দ লাগছে। জেলা প্রশাসক মহোদয় এই কাজে আমাকে সম্পৃক্ত করেছেন এবং কিছু অবদান রাখার সুযোগ করে দিয়েছেন এজন্য তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সালমা আক্তার এবং তার দুখু মিয়া সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচবে। তাদের সহযোগিতা করার জন্য বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে।’

বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভাগ্যবিড়ম্বিত অসহায় সালমা আক্তার আজ মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই পেয়েছে। তার সন্তান দুখু মিয়ার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছে একটা এনজিও। মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে এ পর্যন্ত দুখু মিয়ার ভরনপোষণে ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তার চাকরির বিষয়টা আমাদের সবার বিবেচনায় থাকবে। আমাদের সমাজে পিছিয়ে পড়া দুঃস্থ-অসহায় নির্যাতিত মানুষদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করা আমাদের সকলের নৈতিক এবং সামাজিক দায়িত্ব। এই কাজটি যখন সম্মিলিতভাবে করা হয় তখন সমাজে একটা ভালো উদাহরণ তৈরি হয়। আমরা যদি দায়িত্ব নিয়ে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অসহায় মানুষের জন্য কাজ করতে পারি তাহলে ভবিষ্যতে আমরা একটা সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ করতে পারবো।’ #

প্রেমে ব্যর্থতা, এক যুগ ধরে শেকলবন্দি মামুন! চিকিৎসার অভাবে নিভে যাচ্ছে জীবনের আলো

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রেমিকার বিয়ের আঘাত সইতে না পেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মামুন। সেই থেকে কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। এখন ৩৫ বছর বয়সী মামুন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের মোসলেম ব্যাপারীর ঘরে শেকলবন্দি অবস্থায় কাটাচ্ছেন তাঁর দিন। অর্থাভাবে থমকে গেছে চিকিৎসা, নিভু নিভু হয়ে যাচ্ছে এক তরুণের জীবনের প্রদীপ।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় সহপাঠীর সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন মামুন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। এক সময় হারিয়ে ফেলেন মানসিক ভারসাম্য।

মামুনের মা সোনা বানু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

ছেলে আমার খুব মেধাবী ছিল। প্রেমিকার বিয়ের পর থেকেই সব কিছু পাল্টে যায়। প্রায় আট বছর এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়িয়েছে। একবার হারিয়ে গিয়ে বাগেরহাট থেকে তাকে উদ্ধার করি। এরপর থেকে বাধ্য হয়ে শেকলে বেঁধে রাখি, যাতে আর হারিয়ে না যায়।”

 

প্রায় ১২ বছর ধরে এভাবেই শেকলবন্দি জীবন কাটছে মামুনের। পরিবারের সামান্য আয়-রোজগারে নিয়মিত চিকিৎসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধীরে ধীরে আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে মামুনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা।

বাবা মোসলেম ব্যাপারী বলেন,অর্থের অভাবে ছেলের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক থাকলে ওকে আটকে রাখার প্রয়োজন হতো না। এখন শুধু চাই, কেউ যেন ছেলের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়—সে যেন আবার আগের মতো হাসতে পারে।”

 

গ্রামের মানুষজনও বলছেন, মামুনের চিকিৎসা করালে হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব। তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শেকলে বাঁধা এক তরুণের জীবনের এই গল্প শুধু দুঃখের নয়, বরং সমাজের দায়িত্ববোধের প্রশ্নও জাগিয়ে দেয়। মামুনের মতো আরও অনেক মানুষ আমাদের আশেপাশে হয়তো অপেক্ষা করছে একটুখানি সহানুভূতি আর সাহায্যের হাতের জন্য।

বিজ্ঞান কুইজে তৌকির মাহমুদের সাফল্য

0

কালের ধারা নিউজ ডেস্কঃ

বিটিভি কর্তৃক আয়োজিত বিজ্ঞানভিত্তিক কুইজ অনুষ্ঠান “বিজ্ঞান: সাধারণ অসাধারণ”-এর দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে। এ পর্বে গৌরনদী উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী তৌকির মাহমুদ তৃপ্ত সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়ে আলোচনায় এসেছে।

তৌকির মাহমুদ তৃপ্ত গৌরনদী সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও গৃহিণী  ‌মোস: সুফিয়া আক্তার-এর ছেলে। তিনি একই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং শৈশব থেকেই বিজ্ঞান বিষয়ে গভীর আগ্রহী ছিলেন।

তৃপ্তের এই অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, “তৃপ্ত আমাদের গর্ব। তার সাফল্য আগামী প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চায় আরও উৎসাহী করবে।”

বিটিভির এই অনুষ্ঠানটি বিজ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বিকাশে তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগামী পর্বগুলোতেও তৌকির মাহমুদের আরও ভালো করার প্রত্যাশা করেছেন সবাই।

রূপগঞ্জে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে ফুটপাত দখলমুক্তে যৌথ উচ্ছেদ অভিযান

0

রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় ফুটপাত ও মহা সড়ক দখলমুক্ত করতে যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে ভুলতা গোলচত্বর থেকে গোলাকান্দাইল গোলচত্বর পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানটি নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জয় এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল আলম।

অভিযানে গাউছিয়া মার্কেট সংলগ্ন প্রধান সড়কের দুই পাশের শতাধিক অবৈধ অস্থায়ী দোকান, ভাসমান স্টল এবং নির্মাণসামগ্রী উচ্ছেদ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব দোকান ফুটপাত ও সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে রাখায় পথচারী এবং যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল। এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েক বার অভিযান পরিচালনা করা হলেও কয়েক ঘণ্টা পর আবার সড়কে দোকানপাট বসে সড়ক দখল করতে দেখা গেছে ।
পুনরায় আগের ন্যায় আজকে অভিযান পরিচালনা করার পর কতক্ষন দখল মুক্ত থাকে তা নিয়ে উদ্ভেগ জনসাধারণের মনে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেল) ফরিদ আল সোহান,রূপগঞ্জ থানার (ওসি তদন্ত) মোকতার হোসেন,ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোখলেসুর রহমান, ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোফাকখেরসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, পুলিশ প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন,সড়ক ও ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য। কেউ যদি এটি দখল করে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা করে, তা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ইতোমধ্যেই পাঁচবার অভিযান পরিচালনা করেছি। ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে কেউ দোকান বা সড়ক দখল করতে চাইলে জেল জরিমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় পথচারী ও ব্যবসায়ীদের অনেকেই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, নিয়মিত এই ধরনের অভিযান হলে ফুটপাত ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং জনদুর্ভোগ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

তবে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, আগের মতোই কয়েক ঘণ্টা পর দখলদাররা পুনরায় ফুটপাতে দোকান বসাবে কিনা তা এখন দেখার বিষয়। সড়ক ও ফুটপাত কতদিন দখলমুক্ত থাকবে, সে অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

তারিখঃ২৪.১০.২০২৫ইং
মোঃ আবু কাওছার মিঠু
রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ

সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে হরিনাপাটি গ্রামবাসীর মানববন্ধন

0

 

  1. সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ২নং রঙ্গারচর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী হরিনাপাটি গ্রামটি এখন সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে চরম ঝুঁকির মুখে। ক্রমাগত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, মসজিদ ও অন্যান্য স্থাপনা। ইতোমধ্যেই অসংখ্য পরিবার গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

ভাঙন আতঙ্কে গ্রামজুড়ে বিরাজ করছে এক নীরব বিভীষিকা। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই নদীর তাণ্ডবে ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বাদ জুমা সুরমা নদীর তীরে সপ্তমবারের মতো মানববন্ধন আয়োজন করেন হরিনাপাটি গ্রামবাসী। মানববন্ধনে অংশ নেন গ্রামের শতাধিক মানুষ।

সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্দুল খালিকের সভাপতিত্বে এবং সমাজসেবক ফাহিমের সঞ্চালনায় আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব আছদ্দর আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল খালিক, মো. আযর আলী, মো. আহাদ আলী, শাবাজ মিয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও মহাপরিচালকের কাছে আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু আজও আমাদের গ্রাম ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র কিছু এলাকায় সামান্য জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তাতে কার্যকর কোনো ফল পাওয়া যায়নি।”

তারা আরও বলেন, “আমাদের বাপ-দাদার আমলের ঐতিহ্যবাহী বড় মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মক্তব, বাজার ও এলজিইডি সড়ক এখন নদীর খাই-খাই অবস্থায়। যেকোনো সময় নদী এগুলো গ্রাস করতে পারে।”

গ্রামবাসীর দাবি— অবিলম্বে সরেজমিন পরিদর্শন করে স্থায়ীভাবে ব্লক বসিয়ে ভাঙন রোধে উদ্যোগ নেওয়া হোক।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই পারে হরিনাপাটিকে নদীগর্ভে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করতে।

বাবুগঞ্জ শিক্ষা কর্মকর্তার বিদায়ী সংবর্ধনা ও বিশেষ সমন্বয় সভা

বরিশালের বাবুগঞ্জে শিখন ঘাটতি দূরীকরণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধান শিক্ষকদের এক বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময়ে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলিজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা আসফিয়া রহমানকে ওই বিদায়ী সংবর্ধনা ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা সরোয়ার হোসেন ও মোঃ অহিদুল ইসলাম। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা অনিতা রানী দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদায়ী সাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আসফিয়া রহমান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ক্ষুদ্রকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ আহমেদের সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খায়রুন নাহার, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর হোসনে আরা, রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য আবদুর রাজ্জাক বাচ্চু, বাবুগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনা বেগম, দেহেরগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, উত্তর দেহেরগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনতি রানী দাস, খানপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা কনা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আবুল কাশেম, উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি আল-আমিন সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রাসেল প্রমুখ।

সাবেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আসফিয়া রহমানের বদলিজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান মানপত্র পাঠ করেন মুশুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীমা নার্গিস। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ওই শিক্ষক সমন্বয় ও সংবর্ধনা সভায় বিদায়ী অতিথিকে এসময় ফুলেল শুভেচ্ছাসহ সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত অতিথির হাতে ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন প্রধান অতিথি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অতিথিরা। শিক্ষার মানোন্নয়নে ওই সমন্বয় সভা ও বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের একটি মিলনমেলায় পরিনত হয়। #

মাদ‌ক বি‌রোধী আন্দোল‌নের নেতা এনাম তালুকদা‌রকে নি‌য়ে ষরযন্ত্র নিন্দা প্রতিবাদ

মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার খাঁঞ্জাপুর অঞ্চলের সমাজকর্মী এনামুল তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা বনানোয়াট ও মিডিয়া-ভিত্তিক সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, খাঁঞ্জাপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন মেম্বর ও বিএনপি সাংগঠনিক নেতা আদম আলী তালুকদারের কনিস্টপুত্র ও যুবদল সক্রিয় নেতা এনামুল তালুকদারের বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট নামীয় একটি গোষ্ঠী ভুয়া প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।

এনামুল তালুকদার জানান, তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি ভুরঘাটা এলাকায় মাদক বিক্রেতা ‘দিদার ফকির’ তাদের ওপর হামলার হুমকি ছাড়ে; এক পর্যায়ে তাদের হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগে চাপা‌তি নিয়ে বাড়িতে আসার খবরও পাওয়া যায় বা‌ড়িঘর কোপায় , এই  অপরা‌ধে দিদা‌রের না‌মে  গৌরনদী ম‌ডেল থানায় মামলা হয় ।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদক সিন্ডিকেটের অনুকূলে থাকা কয়েকজন পরিচিত ‘সাংবাদিক’ ও ফেসবুক-ভিডিও করে প্রচার করা লোকজন তার নামে মিথ্যা এবং আজগুবি নিউজ ছড়িয়েছে। রিহ্যাব কমানো চরিত্রের কয়েকজন এবং রনি কাজী নামধারী ওই গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসব প্রকাশনার উদ্দেশ্য হচ্ছে মাদকবিরোধী আন্দোলনকে নীরব করানো ও মাদক পরিবেশন অব্যাহত রাখা।

এবিষ‌য়ে র‌নি কাজী জানান,আমি সংবাদ ২৪ এ কাজ ক‌রি, ওই নারীর অ‌ভি‌যো‌গের ভি‌ত্তি‌তে সংবাদ প‌রি‌বেশন ক‌রে‌ছি মাত্র । আমি কো‌নো অ‌নৈতিকতার সা‌থে সম্পৃক্ত নই ।

এনামুল তালুকদার এই মিথ্যা প্রতিবেদন নিন্দা ও প্রতিবাদ জা‌নি‌য়ে সংবাদ‌কে প্রত‌্যাখান করে বলেন, যারা এই কুচক্রীতায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টিগ্রহণ কামনা করেছেন।

বরিশালের তিনটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন ৩০ জন প্রার্থী।

0

কালের ধারা নিউজ ডেস্কঃ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের তিনটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন নিতে অন্তত ৩০ জনের বেশি প্রার্থী আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আর পুরো বরিশাল বিভাগের ৬টি সংসদীয় আসনে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০-এরও বেশি। বিষয়টি নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপির হাইকমান্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছে দলীয় কেন্দ্রীয় সূত্র।

সূত্রটি জানায়, বরিশালের প্রতিটি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা প্রার্থীদের ডেকে তাদের মতামত নিচ্ছেন এবং মাঠপর্যায়ের অবস্থাও খতিয়ে দেখছেন।

তবে এই বিপুল আগ্রহে কোনো বিভ্রান্তি বা ভীতির কারণ দেখছেন না বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন,
“বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। সেই হিসাবে প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে দল থেকে যখন প্রতিটি আসনের একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে, তখন এসব গ্রুপিং বা বিভাজন আর থাকবে না। সবাই কেন্দ্রের নির্দেশনা মেনেই নির্বাচনে অংশ নেবেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, কেউই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলের ক্ষতি করবে না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনই সবচেয়ে জরুরি। সাধারণ ভোটাররাও দীর্ঘদিন ধরে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ পাননি। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে তারা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারবেন।”