পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বৃহস্পতিবার সকালে পিরোজপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বরাদ্দ নেই বলে প্রশাসন দায় এড়াচ্ছে, যা জনগণের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পুরোপুরি ব্যর্থতাকেই তুলে ধরে।
মাসুদ সাঈদী উল্লেখ করেন, ডেঙ্গুর এই সংকট শুধু পিরোজপুরে নয়, গোটা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে, তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, বরিশাল বিভাগের মধ্যে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্তে পিরোজপুর শীর্ষে অবস্থান করছে, যা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি বলেন, জনগণের অসাবধানতার পাশাপাশি প্রশাসনেরও একটি জোরালো ও কার্যকর ভূমিকা রাখা দরকার ছিল; কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। জেলা প্রশাসন কিংবা পৌর প্রশাসন—উভয় কর্তৃপক্ষকেই ডেঙ্গু নিধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রাস্তাঘাটের সার্বিক বিষয়ে বারবার জানানো হয়েছে, কিন্তু তাদের একটাই গতানুগতিক জবাব—‘বরাদ্দ নেই’। বরাদ্দ চেয়ে প্রশাসন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কতটুকু দৌড়ঝাঁপ করেছে এবং সেক্ষেত্রে তিনি কোনো সহযোগিতা নিয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তারা তাকে কিছু না জানিয়ে নিজেরা কিছু করেছে কিনা, কোথায় কী আবেদন করেছে, তা তার জানা নেই।
দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, জনগণের প্রধান দাবি ও প্রত্যাশা হলো নিজ এলাকা ও রাস্তাঘাট সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে; কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য অবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া জরুরি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পেলেই কেবল মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও সমস্যা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারবেন। আশা করি, একটি সুপরিকল্পিত পৌরসভা গড়ে তুলতে যা যা করণীয়, নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই তা আন্তরিকতার সঙ্গে করবেন।
কর্মসূচিতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জহিরুল হকসহ জেলা ও পৌর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে পিরোজপুরে সাত দিনব্যাপী এ পরিচ্ছন্নতা ও প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।


