শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
২৪শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

ফিচার ও বিচিত্র

শিক্ষাঙ্গনে ঐক্য: ভিন্নমত নিয়ে আলোচনায় শিক্ষার্থীদের ভাবনা

পাঠকমেলার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের চা-চক্রে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ঐক্য ও বিভাজনের কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তারা historical দৃষ্টিতে ঐক্যের গুরুত্ব এবং বর্তমানে পারস্পরিক বোঝাপড়া, পাঠচর্চা ও মুক্ত আলোচনার প্রসারকে সমাধানের পথ হিসেবে তুলে ধরেন।

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ এএমসর্বশেষ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ এএম
শিক্ষাঙ্গনে ঐক্য: ভিন্নমত নিয়ে আলোচনায় শিক্ষার্থীদের ভাবনা

পাঠকমেলার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের চা-চক্রে 'শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের ঐক্য' শীর্ষক আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা ক্যাম্পাসে ঐক্য ও বিভাজনের কারণগুলো তুলে ধরেন। সংকটের সময়ে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে দাঁড়ালেও সময়ের সাথে সাথে তাদের মধ্যে দূরত্ব, মতপার্থক্য ও বিভাজন তৈরি হয়ে যায়—আলোচনায় ঘুরেফিরে আসে এই প্রশ্ন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার অনেক উদাহরণ রয়েছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণআন্দোলনে অভিন্ন লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের এক কাতারে এনেছে। কোনো সংকট বা অধিকার আদায়ের প্রশ্নে তখন ব্যক্তিগত ও মতাদর্শগত পার্থক্য অনেকটাই আড়ালে চলে যায়। কিন্তু আন্দোলন বা সংকটের সময়কার সেই ঐক্য সবসময় স্থায়ী হয় না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভিন্নতা ও দূরত্বও সামনে আসতে শুরু করে।

পাঠকমেলার সদস্যদের আলোচনায় এর কয়েকটি কারণ উঠে আসে। অভিন্ন লক্ষ্য শেষ হয়ে গেলে সামনে আসে ব্যক্তিগত মত, নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা ও সাংগঠনিক পার্থক্য। কে নেতৃত্ব দেবে, কার মতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, কিংবা সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হবে—এসব বিষয়েও তৈরি হতে পারে মতবিরোধ। পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা এবং ছোটখাটো মতপার্থক্যও ধীরে ধীরে বড় দূরত্ব তৈরি করতে পারে।

আলোচনায় আরো উঠে আসে, শিক্ষাঙ্গনে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও মতবিনিময়ের জায়গা সংকুচিত হয়ে গেলে বিভাজন সহজেই তৈরি হয়। একে অপরের কথা শোনা, ভিন্নমত বোঝার চেষ্টা এবং যুক্তির মাধ্যমে মতবিনিময়ের অভ্যাস থাকলে অনেক বিরোধই বড় আকার নেওয়ার আগেই সমাধান করা সম্ভব। তবে ঐক্য মানে সবার একই মত পোষণ করা নয়; বরং মতপার্থক্যকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে পরস্পরের কথা শোনা, যুক্তি দিয়ে আলোচনা করা এবং সম্মান বজায় রাখাই সুস্থ শিক্ষাঙ্গনের ভিত্তি। ভিন্ন চিন্তার মানুষদের একই পরিসরে নিয়ে আসার সক্ষমতাই একটি সংগঠনের শক্তি।

পাঠকমেলার সদস্যদের আলোচনায় উঠে আসে—শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠচর্চা ও মুক্ত আলোচনার পরিসর যত বাড়বে, পারস্পরিক বোঝাপড়ার সুযোগও তত তৈরি হবে। সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাঠচক্রগুলো বই পড়া বা লেখালেখির জায়গা, চিন্তার আদান-প্রদান ও ভিন্ন মতের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ারও একটি ক্ষেত্র হতে পারে।

সেই অর্থে পাঠকমেলার এই চা-চক্রও হয়ে উঠেছিল নিজেদের শিক্ষাঙ্গন, সহপাঠী এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে ভাবনার একটি ছোট পরিসর। একটি সাধারণ আড্ডা থেকে উঠে এসেছে বৃহত্তর একটি প্রশ্ন—ভিন্নমত থাকলেও কীভাবে একসঙ্গে থাকা যায়? আর সেই উত্তর খুঁজতে হলে হয়তো শুরু করতে হবে একে অপরের কথা মন দিয়ে শোনা থেকেই।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ