কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের তদন্ত তার ব্যবহৃত আইফোনের সূত্র ধরে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে। অটোরিকশাচালক মো. সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে এবং হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তারা অনেকটাই নিশ্চিত।
বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগৎপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগও জব্দ করা হয়েছে। নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। তিনি কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল আলীম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে তার কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে সে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নামার দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।
তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সুমনের খালাশাশুড়ি ও বোনজামাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান ডেইলি বরিশাল-কে জানান, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে। আটক অটোরিকশাচালককে জিজ্ঞাবাদের পর বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাজমিনের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে আরও একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। শনিবার সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
আনিসুজ্জামান আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া আইফোনের তথ্য, কললিস্ট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গ্রেপ্তার সুমনকে জিজ্ঞাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাতে একাধিক ব্যক্তির নাম ও কললিস্টের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এই তথ্যগুলোর ভিত্তিতে আরও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশ আরও জানায়, সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার খালাশাশুড়ি ও বোনজামাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।



