বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

ধর্ম ও জীবন

কী ছিল সেই স্ট্যাটাসে, যে কারণে আবরার ফাহাদকে প্রাণ দিতে হয়েছিল

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে তার হলের কক্ষে ডেকে এনে ভারতবিরোধী ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘেঁটে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পেটায়, পরে আরও নির্যাতন চলে এবং অবশেষে তার মৃত্যু হয়। তার আগে তিনি লেখেন, '৪৭-এ দেশভাগের পর পশ্চিমাঞ্চলে সমুদ্রবন্দর ছিল না...'সহ আরও অনেক কথা।

ন
নাজমুল ইসলাম· বিশ্লেষক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ৫:২৬ পিএমসর্বশেষ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ৫:২৬ পিএম
কী ছিল সেই স্ট্যাটাসে, যে কারণে আবরার ফাহাদকে প্রাণ দিতে হয়েছিল

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র আবরার ফাহাদ কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়ি থেকে হল ফিরেছিলেন। রাত ৮টায় তাকে শেরেবাংলা হলের দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে পাঠায় বুয়েট ছাত্রলীগের তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন নেতা।

ডেইলি বরিশাল-কে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা, তার মোবাইল ফোন ঘেঁটে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে ভারতবিরোধী স্ট্যাটাস ও মতাদর্শের প্রমাণ পাওয়ার পর ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে নির্মমভাবে পেটাতে শুরু করে তারা। পরে চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী এসে আরেক দফা নির্যাতন চালায় তার ওপর।

রাতভর পৈশাচিক নির্যাতনে একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েন আবরার। পরে তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কী ছিল আবরার ফাহাদের সেই ভারতবিরোধী স্ট্যাটাসে, যা তিনি শাহাদাতবরণের মাত্র দুইদিন আগে লিখেছিলেন? তিনি লিখেছিলেন, '৪৭-এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোনো সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিয়েছিল। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সেই মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

আবরার ফাহাদ লিখেছিলেন, ‘কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চায় না, সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দেব।

তিনি আরও লেখেন, ‘কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে, অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে, সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।

আপনার কথা ভুলিয়া যাও।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ন

নাজমুল ইসলাম

বিশ্লেষক

রাজনৈতিক রিপোর্টার, বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ