খেজুর আমাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিচিত একটি ফল। রোজা ভাঙার সময় থেকে শুরু করে নাশতা কিংবা দিনের বিভিন্ন সময়ে অনেকেই নিয়মিত খেজুর খান। স্বাদ ও মিষ্টতার পাশাপাশি এতে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ফলে দ্রুত শক্তি জোগানোর পাশাপাশি সুষম খাদ্যতালিকায়ও খেজুরের জায়গা রয়েছে।
তবে পুষ্টিগুণের এই ফলটি কখন খেলে শরীর সবচেয়ে বেশি উপকার পেতে পারে, তা নিয়ে রয়েছে নানা মত ও প্রশ্ন। সকালে খালি পেটে খাওয়া ভালো, নাকি দিনের অন্য কোনো সময়ে? রাতে ঘুমানোর আগে খেলে কি কোনো বাড়তি উপকার পাওয়া যায়? আবার খেজুর পানিতে ভিজিয়ে খাওয়ার প্রচলন থাকলেও এর পুষ্টিগুণে আদৌ কোনো পার্থক্য হয় কি না, সেটিও অনেকের কৌতূহলের বিষয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে খেজুর খাওয়ার সময় ও পদ্ধতি নিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘খেজুর খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক সময় নেই। তবে কয়েকটি সময়ে খেলে এর উপকারিতা অনেকটা বেড়ে যায়।
ব্যায়ামের আগে: খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। ব্যায়ামের ৩০-৬০ মিনিট আগে ২-৪টি খেজুর খেলে দীর্ঘ সময় শরীর সক্রিয় থাকে। যারা নিয়মিত জিম বা ওয়ার্কআউট করেন, তাদের জন্য খেজুর হতে পারে প্রাকৃতিক এনার্জি বুস্টার।
ভোরে খালি পেটে: সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে শরীর দ্রুত শক্তি পায়। এটি অন্ত্র পরিষ্কার রাখে, পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় করে এবং হৃদ্যন্ত্র ও লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে। দিনের শুরুটা হালকা ও শক্তিদায়ক করতে খালি পেটে খেজুর খাওয়া দারুণ উপকারী।
রাতের খাবারের পরে বা ঘুমের আগে: খেজুরে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে রাতে অকারণে ক্ষুধা বা স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। ঘুমের আগে কয়েকটি খেজুর খেলে এটি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক হিসেবে কাজ করে, আবার হজমেও সহায়তা করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেকোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেহাড়কে শক্তিশালী করেরোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়মস্তিষ্ক ও হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখেঅ্যালঝাইমার ও ক্যানসারের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায়ত্বক ও চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আনেডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিস রোগীরাও চিকিৎসকের পরামর্শে খেজুর খেতে পারেন। এতে থাকা পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমাতে ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ভারী খাবারের পরপরই: হজমে সমস্যা, পেটে গ্যাস বা ফাঁপা ভাব তৈরি হতে পারে।
ডায়রিয়া হলে: খেজুরে থাকা সোর্ভিটল পাতলা পায়খানা বাড়িয়ে দিতে পারে।
অ্যালার্জি বা আইবিএস রোগীদের জন্য: উচ্চ ফ্রুক্টোজ হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে।
খেজুর খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় না থাকলেও সকালে খালি পেটে, ব্যায়ামের আগে কিংবা রাতে ঘুমের আগে খেলে এর গুণাগুণ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। তবে সব খাবারের মতোই খেজুর খেতেও পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি। নিয়মিত কয়েকটি খেজুর শরীরকে যেমন প্রয়োজনীয় শক্তি জোগাবে, তেমনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াবে।



