কিডনী আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে একটি। এটি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করে দেয়। যখন কিডনীর ছাঁকনী বা ফিল্টার গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন শরীর থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। শরীর থেকে প্রোটিন বের হওয়ায় এ অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় নেফ্রোটিক সিনড্রোম বলে।নেফ্রোটিক সিনড্রোম আসলে কোন রোগ নয়, এটি কিডনীর সমস্যা লক্ষণ। কিডনীর মধ্যে গ্লোমেরুলাস নামক অতিক্ষুদ্র রক্তনালির গুচ্ছ থাকে, এর কাজ হলো রক্তকে পরিশোধন করা। সুস্থ অবস্থায় কিডনীর ছাঁকনিগুলো শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনকে ধরে রাখে। ছাঁকনিগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হলে প্রোটিন ধরে রাখা সম্ভব হয় না, ফলশ্রুতিতে এসব প্রোটিন প্র¯্রাবের সাথে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। একারণে রক্তে প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে শরীরের নানা সমস্যা দেখা দেয়।কারণনেফ্রোটিক সিনড্রোম বা প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিন বের হওয়ায় অনেক কারণ থাকতে পারে। সেগুলো হলো:* শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন ভুলবশত নিজের সুস্থ কোষকে আক্রমণ করে। যেমন: সিস্টেমিক লুপাস বা অনাক্রমতা রোগ* হেপাটাইটিস-বি ও সি, এইচআইভি রোগের কারণে রোগটি হতে পারে* ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলেও রোগটি দেখা দিতে পারে* দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস কিডনীর ছাঁকনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্থ করে* শিশুদের ক্ষেত্রে মিনিমাল চেঞ্জ ডিজিজ রোগের কারণে এ রোগটি হতে পারে* ব্যথানাশক, প্রদাহনাশক ঔষধের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এটি হতে পারে।লক্ষণ* শরীরে পানি আসা বা ফোলাভাব, বিশেষ করে চোখের চারপাশ, পায়ের পাতা, এবং গোড়ালী ফোলা* অতিরিক্ত প্রোটিন বের হওয়ার কারণে প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হয়* রক্তে প্রোটিন বের হওয়ার কারণে শরীর দ্রুত দূর্বল হতে পারে* খাবারের প্রতি অরুচিভাব* শরীরে অতিরিক্ত পানি জমার ফলে ওজন বেড়ে যাওয়া* সবসময় দূর্বলতা, ক্লান্তি ও অবসাদ থাকে।জটিলতারোগটি দেখা দিলে যথাসম্ভব দ্রুত চিকিৎসা করতে হবে। তা না হলে শরীরে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।* উপযুক্ত সময়ে চিকিৎসা না করালে কিডনী স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কিডনী অকেজো হলে ডায়ালাইসিস বা কিডনী প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে* কিডনী নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়* রক্তে প্রোটিন বের হলে লিভার তা পূরণ করার চেষ্টা করে। ফলে একই সাথে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যায়* শরীর থেকে প্রোটিন বের হলে রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বেড়ে যায়* প্রোটিনের অভাবে রোগী অপুষ্টিতে ভোগে* প্রোটিনের অভাবজনিত কারণে শরীরে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়।
প্রতিকার* নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের অধীনে পরামর্শ মেনে চলতে হবে* খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো* প্রোটিন গ্রহণে সচেতন হতে হবে* ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে* শরীরে অস্বাভাবিক ফোলাভাব দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে* স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে* নিয়মিত ব্যয়াম করতে হবে* সুষম ও মদ্যপান একেবারেই করা যাবে না।
নেফ্রোটিক সিনড্রোম বা প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিন যাওয়া রোগ মানেই আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই এ রোগের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিতে হবে।
মোঃ হুমায়ুন কবীরহোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, গবেষক, স্বাস্থ্য নিবন্ধকার।রেনেসাঁ হোমিও মেডিকেয়ার২৫/৩, নবাব কাঁটারা, নিমতলী, চাঁনখারপুল, ঢাকা- ১০০০।০১৭১৭-৪৬১৪৫০, ০১৯১২-৭৯২৮৯৪।



