সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

মনোবাসনা পূরণে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আসেন নারী-পুরুষ

মনোবাসনা পূরণে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আসেন নারী-পুরুষ...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ এএমসর্বশেষ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ এএম
মনোবাসনা পূরণে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আসেন নারী-পুরুষ

যশোর শহর থেকে প্রায় ১৯ কিমি. দূরে বারোবাজারে রয়েছে ঐতিহাসিক গাজী কালু চম্পাবতীর মাজার। এখানে প্রায় প্রতিদিনই আসেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্ত-অনুরাগীরা। বেশিরভাগই তাদের মনোবাসনা পূরণে করেন ‘মানত’। সেই মনোকামনা পূরণে মাজার অভ্যন্তরে থাকা বটগাছসহ অন্যান্য গাছের ডালে বেঁধে রাখেন পলিথিনের টুকরো, লাল-নীল-সাদা সুতো।

মনোবাসনা পূরণ করতে কিংবা পূরণ হলে মাজার অভ্যন্তরে করেন রান্নাবান্নার আয়োজন। সেখানে থাকা লোকজনসহ নিজেরা সারেন এক বেলার আহার। অনেকেই জানিয়েছেন, ‘আল্লাহর ওলি’ গাজী কালু চম্পাবতীর উসিলায় পূরণ হয়েছে তাদের বাসনা।

শুক্রবার দুপুরে এই মাজার অভ্যন্তরে কথা হয় লাভলী বেগম (৫৩) নামের একজন নারীর সঙ্গে। নারায়ণগঞ্জ পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাসান আলীর স্ত্রী লাভলী বলেন, ১০ দিন আগে লোকমুখে শুনে এই মাজারে আসি। দীর্ঘদিন ধরে শরীরে জ্বালাপোড়া, হাঁটতে পারতাম না। এখানে পৌঁছানোর কয়েকদিন পর শরীরের জ্বালাপোড়া অনেক কমেছে; এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করছি, আলহামদুলিল্লাহ। দু-একদিনের মধ্যে স্বামী এলে চলে যাব।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বাগডাঙ্গা পাশপাতিলা এলাকার মনোহর দের স্ত্রী পড়শী দে জানান, কোমরের ব্যথায় খুব কষ্ট পেতেন। ডাক্তার-কবিরাজে কাজ না হওয়ায় মাজার থেকে মাটি নিয়ে যান। সেটি ব্যবহারে ব্যথা নেই। নিজের গাভীর দুধ আর বাগানের কলা নিয়ে এসেছেন ‘বাবার মাজারে মানত’ দিতে।

অনুরূপ ঝিনাইদহ সদরের বানিয়াকান্দা এলাকার মো. ইসমাইলের স্ত্রী ছবি খাতুন তার ৫ মাস বয়সি সন্তান ইসমাইলের ‘মুখে ভাত’ দিতে এনেছেন। মাজারের খাদেম আবুল কাশেম মাজারের পাশে বসিয়ে শিশুটির মুখে ভাত তুলে দিয়ে তার মনোকামনা পূরণ করেন।

সন্তানদের যেন কোনো ‘বালা-মুসিবত’ না স্পর্শ করে, সেকারণে ১০ বছর আগেও মেয়ে স্নিগ্ধার মুখে ভাত দিয়েছিলেন এখানেই।

রোগ-বালাই থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার তেমন কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না থাকলেও প্রতিদিন এই মাজারে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষজন আসে, একবেলা আহার সেরে ফিরে যায়।

রোগ-বালাই সেরে যাওয়া বা মানুষের আশা পূরণ হয় কিনা— এমন প্রশ্ন করা হলে এই মাজারের খাদেম আবুল কাশেম বলেন, এসব কথা বলতে পারব না। তবে, একসময় আমি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছিলাম। কোনো কিছু ধরতে পারতাম না, বাবার উসিলায় এখন আমি সুস্থ। যদি কেউ উপকার নাই পাবে, তাহলে কেন তারা আসে।

তিনি জানান, বছরে এখানে দুবার ওরস হয়। ভাদ্র মাসের শেষ বৃহস্পতিবার আর ফাল্গুন মাসের শেষ বৃহস্পতিবার। এবার ভাদ্র মাসে বৃষ্টি থাকায় লোকসমাগম হাজার তিরিশেক হয়েছিল। অন্যান্য সময় ভক্ত-আশেকানদের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায়।

যশোর-ঝিনাইদহ সড়কে যশোর শহর থেকে ১৯ কিমি. দূরে বারোবাজারের অবস্থান। এটি বর্তমানে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়ন। বারোবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে ডানে পাকা সড়ক দিয়ে মাত্র এক কিমি. দূরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে বাদুরগাছা গ্রামে মাজারটি অবস্থিত।

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ঐতিহাসিক বারোবাজার অঞ্চলে যেসকল আধ্যাত্মিক সাধক ইসলাম প্রচারে অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্যে গাজী, কালু, চম্পাবতী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এদের সঠিক পরিচয় নিরূপণ করতে গিয়ে ঐতিহাসিকগণ নানা মত পোষণ করেছেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ