সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

এক মণ মটর ডালে ২০ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা, খরচ ৩০ লাখ টাকা

এক মণ মটর ডালে ২০ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা, খরচ ৩০ লাখ টাকা...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৯ এএমসর্বশেষ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৯ এএম
এক মণ মটর ডালে ২০ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা, খরচ ৩০ লাখ টাকা

এক মণ মটর ডাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে ২০ ফুট উচ্চতার বিশাল দুর্গাপ্রতিমা। দৃষ্টিনন্দন ও ব্যতিক্রমী এ প্রতিমা নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক সাজসজ্জা মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের ঘোষপাড়া শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ধাম দুর্গামন্দিরে তৈরি হচ্ছে এই প্রতিমা। দীর্ঘ তিন মাসের পরিশ্রমে ছয়জন শিল্পীর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার অনন্য রূপ।

এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন ঘিরে স্থানীয় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যয়বহুল ও জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গাপূজার আয়োজনের মধ্যে শরীয়তপুরের পূজামণ্ডপগুলোও প্রতি বছর বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। পূজা উপলক্ষে স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপগুলো সাজানো হয় বর্ণিল আলোকসজ্জা ও বৈচিত্র্যময় প্রতিমায়।

এবার জেলায় ১০২টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। এর মধ্যে নড়িয়ার ঘোষপাড়া শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ধাম দুর্গামন্দিরে মটর ডাল দিয়ে তৈরি প্রতিমা দেখতে এখনই মানুষ ভিড় করছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর উপর একের পর এক মটর ডাল আঠা দিয়ে বসিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ২০ ফুট উচ্চতার প্রতিমা। প্রতিমার পুরো শরীরজুড়ে ডালের নিখুঁত বিন্যাসে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নান্দনিক কারুকাজ। ডাল বসানোর মূল কাজ শেষ করে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা। খুলনার পাইকগাছা থেকে আসা প্রধান প্রতিমাশিল্পী রাজিব সরদার গত পাঁচ বছর ধরে এ মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। প্রায় ২৫ বছর ধরে এ পেশায় যুক্ত এই মৃৎশিল্পী এবারই প্রথম মটর ডাল দিয়ে প্রতিমা তৈরির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন।

প্রধান কারিগর রাজিব সরদার বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। সাধারণত মাটি, খড় ও রঙের ব্যবহারে প্রতিমা ফুটিয়ে তোলা হয়। তবে এবার দর্শনার্থীদের জন্য নতুন কিছু করার ভাবনা থেকেই মটর ডাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিই। কাজটি বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। প্রতিটি ডাল আলাদা করে নিখুঁতভাবে বসাতে হচ্ছে। প্রায় তিন মাস ধরে আমরা ছয়জন কাজ করছি। আশা করছি, এই ব্যতিক্রমী রূপ দর্শনার্থীদের মন জয় করবে।

আরেক প্রতিমাশিল্পী বিধান মণ্ডল বলেন, একটি একটি করে ডাল প্রতিমার গায়ে বসাতে হয়। কোনো ডাল সরে গেলে বা ঠিকমতো না বসলে তা আবার নতুন করে ঠিক করতে হয়। আমরা দিনরাত পরিশ্রম করছি। কাজটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হলেও প্রতিমার চূড়ান্ত রূপ দেখে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।

মন্দিরে কাজ দেখতে আসা দর্শনার্থী ইতি ঘোষ বলেন, এই মন্দিরে প্রতি বছরই নতুনত্ব রাখার চেষ্টা করা হয়। গত বছর যেমন অন্যরকম ছিল, এবার মটর ডাল দিয়ে তৈরি প্রতিমাও দারুণ হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিমার কারুকাজ ও মুখের গঠন চমৎকার হয়েছে।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি লালা ঘোষ বলেন, আমরা প্রতিবছরই ব্যতিক্রমী কিছু করার চেষ্টা করি। গত বছর ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরি করেছিলাম। এবার সেই ধারাবাহিকতায় মটর ডাল দিয়ে প্রতিমা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে অন্তত এক মণ মটর ডাল লাগছে। প্রতিমা নির্মাণ ও আলোকসজ্জাসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ