গাজীপুর সদর উপজেলার মেম্বার বাড়ি এলাকায় এএমসি নীট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানায় লে-অফ ঘোষণার প্রতিবাদে এবং কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের ময়মনসিংহগামী লেনে প্রায় ২০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবি সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে তারা মেম্বার বাড়ি এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহগামী লেনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, পর্যাপ্ত উৎপাদনকাজ না থাকা এবং বয়লারের সমস্যার কারণে গত ১০ অক্টোবর থেকে কারখানাটির গার্মেন্টস ও কাটিং বিভাগে (ইউনিট-২) কর্মরত প্রায় ৫৮৫ জন শ্রমিকের জন্য লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সোমবার সকালে তারা কারখানার প্রধান ফটকের পাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন ও কারখানার ঝুট ব্যবসায়ীরা তাদের বাধা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের ময়মনসিংহগামী লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় তাদের দাবি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিকেরা জানান, হঠাৎ করেই কারখানায় দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) কারখানার সামনে লে-অফ ঘোষণার নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়। তবে লে-অফ ঘোষণার আগে তাদের পাওনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
শ্রমিকদের দাবি, কারখানাটি পরবর্তী সময়ে চালু হবে কিনা, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। ফলে তারা কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অন্য কোনো কারখানায় চাকরি খুঁজবেন, নাকি বর্তমান কারখানা চালুর অপেক্ষায় থাকবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন তারা।
শ্রমিকরা আরও বলেন, প্রত্যেকেরই পরিবার রয়েছে। ঘরভাড়া, খাবারসহ সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হয় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন। তাই দ্রুত কারখানা খুলে দিয়ে তাদের কাজে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি করার দাবি জানান তারা।
সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহাবুর রহমান বলেন, সোমবার সকালে মেম্বার বাড়ি এলাকায় অল্প কিছু সময়ের জন্য শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় বড় ধরনের যানজট বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি।



