মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

তাজমীনের কথিত প্রেমিক রাজুকে আনা হচ্ছে কুমিল্লায়

তাজমীনের কথিত প্রেমিক রাজুকে আনা হচ্ছে কুমিল্লায়...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫৩ পিএমসর্বশেষ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম
তাজমীনের কথিত প্রেমিক রাজুকে আনা হচ্ছে কুমিল্লায়

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমীন (১৫) হত্যা মামলার সন্দেহভাজন কথিত প্রেমিক রিয়াজুদ্দিন রাজুকে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে কুমিল্লা ডিবির একটি টিম কক্সবাজার পৌঁছে সদর থানা থেকে তাকে হেফাজতে নেয়। সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে তাকে কুমিল্লা ডিবি কার্যালয়ে হাজির করা হবে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার হোটেল-মোটেল জোনসংলগ্ন চন্দ্রিমা উদ্যান এলাকা থেকে রিয়াজুদ্দিন রাজুকে কৌশলে আটক করে পুলিশ।

সূত্র জানায়, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাজমীনকে ফুসলিয়ে কক্সবাজারে নিয়ে আসা এবং এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য প্রেক্ষাপট তৈরিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন রাজু চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজমীনের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে রাজুর ডাকে সাড়া দিয়েই ওই কিশোরী বাড়ি থেকে বের হয়ে কক্সবাজারে যায়। সেখানে একটি হোটেলে ‘স্বামী-স্ত্রী’ পরিচয় দিয়ে তাজমীনকে রাখা হয়েছিল বলে তথ্য মিলেছে।

গত বুধবার (৭ অক্টোবর) কক্সবাজার থেকে বাসে করে তাজমীন কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়। ওই রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে নেমে শহরের রেসকোর্সের বাসায় ফিরতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।

অভিযোগ রয়েছে, পথিমধ্যে অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করে। এ ঘটনার পরদিন সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তবে তাজমীনকে ঘর ছাড়তে প্ররোচিত করা এবং তাকে কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়ার পেছনে রাজুর কী ভূমিকা ছিল কিংবা এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা—সেই বিষয়ে তাকে কুমিল্লা ডিবি কার্যালয়ে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, কক্সবাজার থেকে রাজুকে কুমিল্লায় এনে তাজমীনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ