সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

রাজুর বর্ণনায় ‘আঙ্কেলের’ সঙ্গে যোগাযোগ করে তাজমীন, কে সে?

রাজুর বর্ণনায় ‘আঙ্কেলের’ সঙ্গে যোগাযোগ করে তাজমীন, কে সে?...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৭ পিএমসর্বশেষ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৭ পিএম
রাজুর বর্ণনায় ‘আঙ্কেলের’ সঙ্গে যোগাযোগ করে তাজমীন, কে সে?

কক্সবাজার থেকে ফিরে কুমিল্লার বাসায় ঢুকতে না পেরে শেষ রাতে এক ‘আঙ্কেলের’ সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল নিহত স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমীন। কিন্তু কে সেই রহস্যময় ‘আঙ্কেল’?

সে কি সত্যিই কোনো পরিচিত স্বজন, নাকি ঘাতক অটোরিকশাচালকই কৌশলে এই পরিচয়ে তাকে ফাঁদে ফেলেছিল—চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

একইসঙ্গে হত্যার আগে কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা, তা নিশ্চিত হতে তার সোয়াব ও ব্যবহৃত পোশাক সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লায় জান্নাতুন তাজমীন হত্যার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাজমীনের সঙ্গে পরিচয় হয় রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামে এক তরুণের। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাজমীন কক্সবাজারে গিয়ে রিয়াজের সঙ্গে অবস্থান করেছিল। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রিয়াজকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে হত্যাকাণ্ডের রাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে রাজু। তার ভাষ্যমতে, গত বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা শহরের বাসায় ফিরে সদর ফটক বন্ধ পায় তাজমীন। মা-বাবাকে ফোনে না পেয়ে সে এক ‘আঙ্কেলের’ সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তার বাসায় যাওয়ার কথা জানায়। এ সময় রিয়াজ কিশোরীকে ভিডিও কল দিলে তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পায় এবং বকাঝকা করে। এরপর কিশোরী কল কেটে দিয়ে মেসেজে জানায় যে সে সকালে বাসায় ফিরবে। রিয়াজের ধারণা, মেয়েটি যাকে ‘আঙ্কেল’ বলছিল, সে আসলে কোনো স্বজন নয়, ছদ্মবেশী অটোরিকশাচালকই হতে পারে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে ফেরা ওই কিশোরী নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে নামে। সেখানে তাকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। কিন্তু সে কিশোরীকে বাসায় না নিয়ে লালমাই উপজেলার একটি নির্জন কৃষিজমিতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।

হত্যার পর কিশোরীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি দামি আইফোন হাতিয়ে নিয়ে অন্য একটি অটোরিকশায় পালিয়ে যায় ঘাতক সুমন। গত বৃহস্পতিবার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার কৃষিজমি থেকে কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সুমন মিয়া গত শনিবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মেয়েটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালমাই থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, ভুক্তভোগীর সোয়াব, ব্যবহৃত ফোন ও পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত সিআইডির ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। তদন্তে কোনো ফাঁক রাখা হবে না।

জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ওই কিশোরী কক্সবাজারে কার সঙ্গে গিয়েছিল এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কার কার ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লালমাই থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, ভিকটিমের সোয়াব ও পোশাক ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিকে পাঠানোর কাজ চলছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুরো ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ