চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলায় তিন বছর বয়সি শিশু হালিমা আক্তারকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি আসমা আক্তার (২০)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ। শিশু হালিমা ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার দাতমারা ইউনিয়নের নিচিন্তা গ্রামের বেকারিওয়ালা নাছির উদ্দীনের মেয়ে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনায় অন্যতম আসামি আসমা আক্তার চট্টগ্রাম আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সময় ছোট শিশুটি তাকে ঢিল ছুড়ত ও কামড় দিত। এতে বিরক্ত হয়ে তিনি শিশুটিকে হত্যা করেন। হত্যার পর রাতের অন্ধকারে লাশটি নিহতের বাড়িতে রেখে আসার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে এর আগেই পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে নাশতা শেষে বাড়ি থেকে বের হয় শিশু হালিমা। বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। শিশুটির বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ ফুট পূর্বে প্রতিবেশী আব্দুল আওয়ালের ঘর থেকে আলনার পেছনে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় রাত ৯টায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন রোববার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে হালিমাকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রতিবেশী আব্দুল আওয়াল (৬৫), তার মেয়ে আসমা আক্তার (২০) ও রবিউল (১৬) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নিহত শিশুর বাবা নাছির উদ্দীন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে ভুজপুর থানায় মামলা করেন।
পরে রোববার (১১ অক্টোবর) তাদের আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে আসমা আক্তার হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
নিহত শিশুর বাবা নাছির উদ্দীন বলেন, তার কোনো ক্ষোভ থাকলে আমাদের বলতে পারত। আমার তিন বছরের শিশু কী বোঝে? আমরা এ ঘটনায় জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ বলেন, ঘটনার দিন দেখেছি, শিশু হালিমাকে নির্মমভাবে হত্যা করে আলনার পেছনে কাপড়ে মুড়িয়ে রেখে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।



