যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শিরালি মদনপুর গ্রামের মাদক কারবারি মুকুল হোসেন হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন।
টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নূর আলম পান্নু।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—শিরালি মদনপুর গ্রামের মুন্তাজ আলী, তার ছেলে টিপু এবং ইন্তাজ আলীর দুই ছেলে দিপু ও রাশেদ আলী।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, নিহত মুকুল হোসেন মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে আটটি মামলা ছিল। এসব কর্মকাণ্ড ও সাইকেল চুরির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের মুন্তাজ আলীর পরিবারের সঙ্গে মুকুলের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
এর জেরে ২০২১ সালের ২৯ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিরালি মদনপুর গ্রামের কবরস্থানের কাছে দুর্বৃত্তরা মুকুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা আমিন মোড়ল বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মণিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আটজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন এবং এজাহারভুক্ত দুজনকে অব্যাহতির আবেদন জানান।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি মুন্তাজ আলী, তার ছেলে টিপু এবং দুই ভাইপো দিপু ও রাশেদ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর চার আসামি মাজেদা খাতুন, সাদেক আলী, জাফর ও রায়হান ওরফে কাসেদকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত চার আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।



