শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
১লা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

বিনোদন

জনপ্রিয় অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড একজন নির্মম যৌন শিকারী

জনপ্রিয় অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড একজন নির্মম যৌন শিকারী...

স
সুমাইয়া আক্তার· বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫৫ পিএমসর্বশেষ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫৫ পিএম
জনপ্রিয় অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড একজন নির্মম যৌন শিকারী

যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় অভিনেতা ও কমেডিয়ান রাসেল ব্র্যান্ড (ছবির ডানে)।

যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় অভিনেতা ও কমেডিয়ান রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারকাজ অবশেষে শুরু হয়েছে।

লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে শুরু হওয়া এই চাঞ্চল্যকর মামলার প্রথম শুনানিতে প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন যে, রাসেল ব্র্যান্ড এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ছয়জন নারীর ওপর নির্মম যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন এবং তাকে একজন নিষ্ঠুর যৌন শিকারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে ৫১ বছর বয়সি রাসেল ব্র্যান্ড তিন দফায় ধর্ষণ, তিনটি যৌন নিপীড়ন এবং একটি অশালীন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে সংঘটিত এসব অভিযোগে ছয়জন নারী ভুক্তভোগী রয়েছেন, যারা একে অপরকে চেনেন না। প্রসিকিউটরদের মতে, ব্র্যান্ড এই অপরাধগুলো হোটেল রুম, কর্মক্ষেত্র, বারের টয়লেট এবং নিজের বাড়িতে ঘটিয়েছিলেন এবং সে সময় তার যৌন চাহিদার কোনো সীমা না থাকায় নারীদের তিনি কেবল নিজের প্রয়োজন মেটানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন।

প্রসিকিউটর রিয়েল কার্মি-জোনস জুরিদের জানান, ব্র্যান্ড বুদ্ধিদীপ্ত ও আকর্ষক হলেও ভীষণ হিসাবী ও কুচক্রী ছিলেন। শুনানিতে ভুক্তভোগী নারীদের অভিযোগের বিবরণ তুলে ধরে জানানো হয় যে, ১৯৯৯ সালে লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনের সময় বোর্নমাউথ শহরের একটি হোটেল রুমে এক নারীকে ধর্ষণ করেছিলেন ব্র্যান্ড।

এ মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন ব্র্যান্ডের সাবেক বন্ধু মার্ক পিনেইরো। তিনি জানান, ওই কথিত ঘটনার পরের দিন ব্র্যান্ড তাড়াহুড়ো করে শহর ছেড়ে চলে যান এবং তখন পুলিশি সাইরেন শুনলে গাড়ির জানালার নিচে লুকিয়ে পড়তেন।

এ ছাড়া ২০০১ সালে এক নারীকে তার অফিসের পুরুষদের টয়লেটে টেনে নেওয়ার চেষ্টা, ২০০৪ সালে লন্ডনের একটি বারের টয়লেটে আরেকজনকে ধর্ষণ, ২০০৪ বা ২০০৫ সালে একটি রেডিও স্টেশনে এবং ২০০৯ সালে তার শো-তে আসা ২১ বছরের এক তরুণী ফ্যানকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এমনকি ২০০৯ সালে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের সময়ও এক নারীর ওপর তিনি অসদাচরণ করেছিলেন।

অপরাধের শিকার নারীরা অপরাধবোধ, লজ্জা এবং সমাজ কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ভয়ে সে সময় বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেননি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে বেনামী অভিযোগ প্রচার হওয়ার পর তারা পুলিশে অভিযোগ করেন।

জামিনে থাকা রাসেল ব্র্যান্ড আদালতে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের জানান যে, তিনি উদ্বিগ্ন হলেও একটি ভালো রায়ের ব্যাপারে আশাবাদী। অন্যদিকে, ব্র্যান্ডের আইনজীবী ইয়ান উইন্টার আড়াই দশকেরও বেশি পুরনো ঘটনাগুলোর স্মৃতির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

২০০০-এর দশকের শুরুতে মূলধারার গণমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় ওঠা রাসেল ব্র্যান্ড পরবর্তীতে হলিউডের সিনেমাতেও অভিনয় করেন এবং পপ তারকা কেটি পেরিকে বিয়ে করেছিলেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূলধারাপন্থি মিডিয়া থেকে সরে গিয়ে তিনি ফ্লোরিডায় বসবাস শুরু করেছেন এবং পডকাস্টিংয়ে মনোযোগ দিয়েছেন। প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে তার এই বিচারকাজ চলার কথা রয়েছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
স

সুমাইয়া আক্তার

বিনোদন প্রতিবেদক

বিনোদন ও জীবনযাপন বিভাগের প্রতিবেদক।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ