শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
১লা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

৪৫ বিসিএসের গেজেটে বাদ অন্তত ৫৬ প্রার্থী, কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না সুপারিশবঞ্চিতরা

৪৫ বিসিএসের গেজেটে বাদ অন্তত ৫৬ প্রার্থী, কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না সুপারিশবঞ্চিতরা...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩:২৯ পিএমসর্বশেষ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩:২৯ পিএম
৪৫ বিসিএসের গেজেটে বাদ অন্তত ৫৬ প্রার্থী, কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না সুপারিশবঞ্চিতরা

৪৫তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের প্রায় ১১ মাস পর চূড়ান্ত সুপারিশের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকারি কর্ম-কমিশন (পিএসসি)।

গত বছরের নভেম্বরে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

কিন্তু গত বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে ১ হাজার ৭০২ জনের তালিকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আগে সুপারিশ পাওয়া ১০৫ প্রার্থী বাদ পড়েছেন।

বঞ্চিত প্রার্থীদের মধ্যে পিএসসি একজনের সুপারিশ বাতিল করেছে এবং ৪৮ জন প্রার্থী স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেননি। আর ৫৬ প্রার্থী কী কারণে বাদ পড়েছেন, তা জানে না কেউ।

প্রজ্ঞাপনে তাদের বাদ পড়ার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীদের অনেকে জানিয়েছেন, বাদ পড়ার কোনো যুক্তি তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের রেকর্ডও নেই।

এ বিষয়ে জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।

পরশু প্রজ্ঞাপন জারির পর গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বাদ পড়া প্রায় ৩০ প্রার্থী বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। আগামী শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে তাদের বিষয়টি সমাধান করে প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তারা।

দাবি আদায় না হলে তারা কঠোর অবস্থানে যাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত একরাম গাজী হৃদয়ের মতে, বিক্ষোভ করা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধেই কোনো ফৌজদারি মামলা নেই।

বঞ্চিতদের অন্তত ১০ প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেসংবাদমাধ্যম। তাদের অনেকেরই সন্দেহ, অতীত রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের বাদ দেওয়া হতে পারে।

যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আশ্বস্ত করেছিলেন, বিসিএস নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো বৈষম্য করা হবে না।

গত ১ অক্টোবরে ৪৯ বিশেষ বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশে ৪৬ প্রার্থী বাদ পড়ার পর আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেছিলেন। বাদ পড়াদের অধিকাংশকে পরে নতুন করে প্রজ্ঞাপন দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

৪৫ বিসিএসে চূড়ান্ত সুপারিশবঞ্চিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলে ইফফাত অনিক জানান, হলে সিট পাওয়ার জন্য তাকে বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) করতে হয়েছিল।

'আমি নিজে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন যে রাজনৈতিক কারণে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না। তাহলে আমাকে কেন বাদ দেওয়া হলো,' প্রশ্ন রাখেন তিনি।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সাজ্জাদ হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শামস উদ্দিন সাজ্জাদও বাদ পড়েছেন। দুজনই একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান।

সাজ্জাদ সাংবাদিকদের বলেন, 'জুলাই আন্দোলনের সময় আমি আমার রাজনৈতিক পরিচয় তোয়াক্কা না করে রাজপথে নেমেছিলাম। এখন কেন আমাকে সেই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বাদ দেওয়া হলো? আমার পরিবারের অন্য কেউও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়।'

তবে বাদ পড়া সব প্রার্থীরই যে রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, তা নয়।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য নন্দী জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত নন। 'আমাকে কেন বাদ দেওয়া হলো, বুজতেই পারছি না,' বলেন তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নূর-ই আলম মিয়াজী জানান, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন তিনি। বাদ পড়ার কারণ হিসেবে তিনি মনে করছেন, সরকারি একটি সংস্থা তাকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এমন তথ্য তিনি জানতে পেরেছেন বলে জানান।

অন্য বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে ইতোমধ্যে সরকারি চাকরি করছেন এমন দুই প্রার্থীর সঙ্গেও কথা বলেছেসংবাদমাধ্যম। এই দুজনও ৪৫ বিসিএসের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়েছেন।

৪৫ বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ইফতেখারুল ইসলাম ইতোমধ্যে ৪৮ বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মরত আছেন। 'আমার নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। আমার পরিবারের কেউ সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন,' বলেন তিনি।

নূর-ই আলম নামের আরেক প্রার্থী ৪৪ বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে আনসার ক্যাডারে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, 'আমি যদি ৪৪ বিসিএসে নিয়োগ পেতে পারি, তাহলে ৪৫ বিসিএসে বাদ পড়ি কীভাবে।'

যোগাযোগ করা হলে জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, প্রচলিত বিধিবিধান মেনেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

'কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। আগেও দেখেছেন আমরা প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নীতি অনুসরণ করেছি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি,' বলেন তিনি।

নতুন করে আর কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে কি না জানতে চাইলেও তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। তবে বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ