শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
১লা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

সাতক্ষীরায় ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

সাতক্ষীরায় ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১০ পিএমসর্বশেষ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১০ পিএম
সাতক্ষীরায় ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আজ শুক্রবার ভোরে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন—উপজেলার নাজিরঘের এলাকার মোক্তার হোসেন (৫৩) ও আসাদুল মোল্যা (৪৬)।

গত মঙ্গলবার দুই দফা হামলা চালিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৫)। এ ঘটনায় তার বড়ভাই আবদুল জলিল গতকাল রাতে মামলা করেন।

স্থানীয় 'তৌহিদী জনতার' নেতা ফজলুল হক আমিনীকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহতের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ও রাতে দুই দফা শামীমের ওপর হামলা চালানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আবদুস সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন শামীম। বিষ পানে আত্মহত্যার চেষ্টার পর চিকিৎসার জন্য তাকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। সেদিন অভিযুক্ত ফজলুল হক আমিনী শামীমের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করেন এবং লোকজনকে জড়ো হওয়ার উসকানি দেন। এরপর একদল লোক চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে শামীমের ওপর প্রথম দফায় হামলা চালায়।

তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় রাত ৯টার দিকে দ্বিতীয় দফায় তার ওপর হামলা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত ১০টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওয়াহিদুজ্জামান শামীম মাদ্রাসা থেকে কামিল পাসের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ৮ বছর ও ৭ মাস বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে তার। কয়েকদিন আগে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তার চিকিৎসা চলছিল।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মানুষ কুমার মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, 'শামীমকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায় তিনি আগেই মারা গেছেন।'

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফজলুল হক আমিনী সাংবাদিকদের বলেন, 'হামলার দুই দিন আগে ইসলাম ধর্ম নিয়ে শামীমের বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্যের একটি অডিওক্লিপ তার প্রতিবেশীরা সংগ্রহ করে আমাকে পাঠায়। এরপর তৌহিদী জনতা এক হয়ে চিকিৎসকের চেম্বারে শামীমকে মারধর করে।'

তিনি বলেন, 'পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ধর্ম অবমাননার খবর আরও ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জড়ো হয়ে হামলা চালায়।'

আমিনী বলেন, দ্বিতীয় দফার হামলার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।

ওসি এইচ এম শাহীন বলেন, 'প্রধান আসামি আমিনীর ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য, ডিজিটাল প্রমাণ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ