এল ক্লাসিকোর ব্যস্ততা পেছনে ফেলে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে চার্টার্ড বিমানে লন্ডনে পৌঁছেছিলেন লামিন ইয়ামাল। স্বপ্ন ছিল ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের। একই প্রত্যাশা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পেও। তবে শেষ পর্যন্ত দুজনকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটি জিতে নেন হ্যারি কেইন।
প্রশ্ন উঠেছে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল হয়েও কেন পুরস্কারটি নিজেদের করে নিতে পারলেন না স্পেন ও ফ্রান্সের দুই তারকা?
ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এর আগেও একাধিকবার কাছাকাছি গিয়েছিলেন এমবাপ্পে। ২০১৮ সালে চতুর্থ ও ২০২৩ সালে তৃতীয় হওয়ার পর এবার দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। তবে প্রথম হওয়ার স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি ফরাসি তারকার।
এর অন্যতম কারণ গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপাহীনতা। লা লিগায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো বার্সেলোনার পেছনে থেকে মৌসুম শেষ করেছে মাদ্রিদ। ২০২৪ সালে ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পরও বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি এমবাপ্পে। জাতীয় দলের হয়েও বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ফ্রান্স। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের।
ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে অবশ্য দুর্দান্ত ছিলেন এমবাপ্পে। লা লিগায় ২৫টি এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৫টি গোল করেন তিনি। বিশ্বকাপে আরও ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতিও পান। কিন্তু এত গোলের পরও দলীয় সাফল্যের অভাব তার ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এমবাপ্পের বয়স এখন ২৭ বছর। অন্যদিকে বিজয়ী হ্যারি কেইনের বয়স ৩৩। সামনের মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে বড় শিরোপা জেতাতে পারলে এমবাপ্পের ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে। বিশেষ করে লা লিগা কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি দলের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে পারলে তার দাবির পক্ষে যুক্তি আরও শক্ত হবে।
এমবাপ্পের মতো শিরোপাহীন মৌসুম কাটাতে হয়নি ইয়ামালকে। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি বার্সেলোনার হয়েও লা লিগার শিরোপা জিতেছেন তিনি। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সাফল্যের কারণে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে তাকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল অনেক।
বার্সেলোনার হয়ে গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল করার পাশাপাশি ১৮টি অ্যাসিস্ট করেন ইয়ামাল। তার এমন পারফরম্যান্স দেখে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ড গড়তে পারেন এই স্প্যানিশ তরুণ।
তবে বিশ্বকাপে গোলের হিসাবে পিছিয়ে ছিলেন ইয়ামাল। সৌদি আরবের বিপক্ষে মাত্র একটি গোল করেন তিনি। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল থাকলেও গোলসংখ্যার এই ঘাটতি পুরস্কারের দৌড়ে তার অবস্থানকে দুর্বল করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে অবশ্য বেশ সক্রিয় ছিলেন ইয়ামাল। সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি নিজেও গোলের চেষ্টা করেছেন। তবে ফেরান তোরেসের পরিবর্তে তিনি যদি জয়সূচক গোলটি করতে পারতেন, তাহলে ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে তার সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারত।



