রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

লাইফস্টাইল ও জীবনধারা

পরিপাটি রান্নাঘর, সুস্বাদু খাবার আর মানসিক প্রশান্তি: রান্না কীভাবে কমাতে পারে আপনার মানসিক চাপ?

পরিপাটি রান্নাঘর, সুস্বাদু খাবার আর মানসিক প্রশান্তি: রান্না কীভাবে কমাতে পারে আপনার মানসিক চাপ?...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৪ এএমসর্বশেষ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২৪ এএম
পরিপাটি রান্নাঘর, সুস্বাদু খাবার আর মানসিক প্রশান্তি: রান্না কীভাবে কমাতে পারে আপনার মানসিক চাপ?

রান্নাঘর শুধু খাবার তৈরির জায়গা নয়, এটি হতে পারে মানসিক প্রশান্তি, সৃজনশীলতা ও আনন্দের এক ছোট্ট আশ্রয়। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা, অফিসের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তার পর নিজের পছন্দের খাবার তৈরি করতে গিয়ে অনেকেই একধরনের স্বস্তি অনুভব করেন। বিশেষ করে রান্নাঘরটি যদি থাকে পরিচ্ছন্ন, গোছানো ও সুন্দরভাবে সাজানো, তাহলে রান্নার অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে আরও আনন্দদায়ক।

কিন্তু বিষয়টি কি শুধুই ব্যক্তিগত অনুভূতি, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও? মনোবিজ্ঞান, পরিবেশগত আচরণবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিষয়ক গবেষণায় এমন বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়, যা ব্যাখ্যা করে কেন একটি পরিপাটি রান্নাঘর এবং নিজের হাতে রান্না করা খাবার মানুষের মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

কল্পনা করুন, আপনি সন্ধ্যায় পছন্দের কোনো খাবার তৈরি করতে রান্নাঘরে ঢুকলেন। কিন্তু সিঙ্কে পড়ে আছে সকালের থালাবাসন, কাউন্টারে ছড়িয়ে আছে মসলা, সবজির খোসা ও অন্যান্য জিনিস। প্রয়োজনীয় ছুরি বা কাটিং বোর্ড খুঁজে পেতেও সময় লাগছে। রান্না শুরু করার আগেই আপনার মধ্যে বিরক্তি তৈরি হতে পারে।

এর পেছনে রয়েছে পরিবেশগত মনোবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা-Environmental Stress বা পরিবেশজনিত মানসিক চাপ।

অগোছালো পরিবেশে একসঙ্গে অনেক দৃশ্যমান বস্তু থাকলে মস্তিষ্ককে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। এতে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে এবং মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের University of California, Los Angeles (UCLA)-এর Center on Everyday Lives of Families পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, বাড়ির পরিবেশে অতিরিক্ত জিনিসপত্র ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাপের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে মায়েদের ক্ষেত্রে বাড়ির বিশৃঙ্খলা এবং মানসিক চাপের মধ্যে সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল।

অর্থাৎ, রান্নাঘরের অগোছালো অবস্থা সবার ক্ষেত্রে একই মাত্রায় চাপ তৈরি করবে এমন নয়, তবে পরিচ্ছন্ন ও গোছানো পরিবেশ দৈনন্দিন কাজকে তুলনামূলক সহজ করে তুলতে পারে।

রান্নার প্রতিটি ধাপে রয়েছে পরিকল্পনা, মনোযোগ, হাতের কাজ এবং সৃজনশীলতার সমন্বয়। কোন সবজিটি আগে কাটতে হবে, কতটুকু মসলা দিতে হবে, কখন আঁচ কমাতে হবে কিংবা কোন উপকরণটি খাবারের স্বাদ বাড়াবে-এসব সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই একটি নির্দিষ্ট কাজে মনোযোগ দেয়।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, কোনো কাজে মনোযোগ দিয়ে সম্পৃক্ত থাকা এবং বাইরের দুশ্চিন্তা থেকে সাময়িকভাবে মন সরিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতাকে Mindful Engagement বা সচেতন সম্পৃক্ততার সঙ্গে তুলনা করা যায়।

রান্নার সময় সবজি কাটার শব্দ, মসলার ঘ্রাণ, ফুটন্ত খাবারের বুদ্‌বুদ, রঙের পরিবর্তন এবং খাবারের স্বাদ পরীক্ষা করার মতো বিষয়গুলো একাধিক ইন্দ্রিয়কে সক্রিয় রাখে। ফলে দৈনন্দিন চিন্তা থেকে মনোযোগ সরিয়ে বর্তমান কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়া সহজ হতে পারে।

তবে রান্না করলেই যে মানসিক চাপ বা উদ্বেগ দূর হয়ে যাবে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই। বরং এটি অনেকের জন্য স্বস্তিদায়ক অবসর, মনোযোগের অনুশীলন এবং আনন্দদায়ক দৈনন্দিন অভ্যাস হয়ে উঠতে পারে।

২০১৮ সালে Health Education & Behavior সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা পর্যালোচনায় রান্নার মনোসামাজিক প্রভাব নিয়ে ১১টি গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় রান্নার কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা, সামাজিক যোগাযোগ ও জীবনমানের উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ধরুন, আপনি প্রথমবারের মতো নিজের হাতে রেস্টুরেন্টের আদলে চিকেন পাস্তা, বিরিয়ানি কিংবা পছন্দের কোনো ডেজার্ট তৈরি করলেন। রান্না শেষ হওয়ার পর যখন দেখলেন খাবারটি দেখতে সুন্দর হয়েছে এবং স্বাদও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়েছে, তখন নিজের মধ্যে একধরনের তৃপ্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

মনোবিজ্ঞানে একে Sense of Accomplishment বা কোনো কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার অনুভূতি বলা হয়।

মানুষ যখন নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো কাজ শেষ করতে পারে, তখন তার আত্মবিশ্বাস ও নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। রান্নার ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য।

বিশেষ করে নতুন রেসিপি শেখা, খাবারের উপকরণ নির্বাচন করা, নিজের মতো করে স্বাদ তৈরি করা এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়া- এসব অভিজ্ঞতা দৈনন্দিন জীবনে আনন্দ যোগ করতে পারে।

রান্নার আনন্দ উপভোগ করতে হলে রান্নাঘরের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। রান্নাঘর যদি অপরিচ্ছন্ন থাকে, তাহলে সেখানে কাজ করার সময় বারবার অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

পরিচ্ছন্ন রান্নাঘর মানে শুধু ঝকঝকে টাইলস কিংবা দামি কিচেন ক্যাবিনেট নয়। বরং প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট জায়গা থাকা, প্রয়োজনীয় উপকরণ সহজে খুঁজে পাওয়া এবং রান্নার জায়গাটি স্বাস্থ্যসম্মত রাখা।

একটি গোছানো রান্নাঘর কাজের অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা কমাতে পারে, মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং নতুন রেসিপি চেষ্টা করার আগ্রহ তৈরি করতে পারে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ