ঘর পরিষ্কার রাখার জন্য প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। বরং ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে ঘরকে পরিচ্ছন্ন, ব্যবহারযোগ্য ও স্বস্তিদায়ক রাখা সম্ভব। গবেষণায় অগোছালো পরিবেশের সঙ্গে মানসিক সুস্থতার নেতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেলেও ঘর গোছালেই সব মানসিক সমস্যা দূর হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে দৈনন্দিন কাজ সহজ করতে এবং ঘরে স্বস্তি অনুভব করতে গোছানো পরিবেশ সহায়ক হতে পারে।
ঘর গোছানোর অভ্যাস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
২০১৬ সালে Journal of Environmental Psychology সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত জিনিসপত্রে ভরা ও বিশৃঙ্খল ঘর নিজের বাড়ি সম্পর্কে ইতিবাচক অনুভূতি এবং মানসিক সুস্থতার সঙ্গে নেতিবাচকভাবে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, বাড়িকে নিজের জন্য স্বস্তিদায়ক ও আপন মনে করার ক্ষেত্রে পরিবেশের গুরুত্ব রয়েছে।
তবে ঘর গোছানোকে মানসিক সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করার একটি কার্যকর অভ্যাস হতে পারে।
দিনের শুরুতে বিছানা গুছিয়ে নেওয়ার মতো ছোট একটি কাজ শেষ করলে নিজের পরিবেশ সম্পর্কে কিছুটা নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি পাওয়া যেতে পারে। পুরো ঘর একসঙ্গে গোছানোর চাপ না নিয়ে ছোট কাজ দিয়ে শুরু করুন।
একদিনে পুরো বাড়ি পরিষ্কার করার বদলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে একটি ছোট অংশ গোছান। একদিন টেবিল, অন্যদিন আলমারি কিংবা পরের দিন রান্নাঘরের একটি অংশ পরিষ্কার করতে পারেন। এতে কাজের চাপ ভাগ হয়ে যায়।
চাবি, মানিব্যাগ, চার্জার ও জরুরি কাগজপত্রের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করুন। ব্যবহার শেষে জিনিস আগের জায়গায় রাখলে খোঁজাখুঁজির ঝামেলা কমবে এবং দৈনন্দিন কাজ সহজ হবে।
যেসব জায়গা প্রতিদিন বেশি ব্যবহার করেন, সেগুলো আগে গোছান। রান্না শেষে বাসনপত্র পরিষ্কার করা, খাবার ঢেকে রাখা এবং কাজ শেষে টেবিলের অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
ব্যবহার হয় না এমন জিনিস জমিয়ে রাখলে ঘর অল্প সময়েই অগোছালো হয়ে যেতে পারে। ধীরে ধীরে জিনিস বাছাই করুন। ব্যবহারযোগ্য জিনিস অন্যকে দান করতে পারেন, আর অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ক্ষেত্রে পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে পারেন।
জানালা দিয়ে আলো-বাতাস আসতে দিন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং পছন্দের ছোট গাছ বা সাধারণ সাজসজ্জা ব্যবহার করুন। সুন্দর ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে দামি আসবাব কিংবা বিলাসবহুল বাড়ির প্রয়োজন নেই।
ছোট শিশু আছে, অফিসের কাজের চাপ বেশি কিংবা পরিবারের একাধিক সদস্য একই ঘর ব্যবহার করেন- এমন পরিস্থিতিতে ঘর সব সময় ছবির মতো সাজিয়ে রাখা বাস্তবসম্মত নয়। ঘর পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারযোগ্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু প্রতিটি জিনিস নিখুঁতভাবে সাজানো না থাকলে নিজেকে দোষারোপ করার প্রয়োজন নেই।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নেওয়া, প্রতিদিন অল্প সময় ব্যয় করা এবং কোন জিনিসগুলো সত্যিই প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা বেশি কার্যকর হতে পারে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা কিংবা দৈনন্দিন কাজ করার আগ্রহ কমে গেলে শুধু ঘর গোছানোর ওপর নির্ভর করবেন না। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মানসিক সমস্যার কারণে ঘর গোছানো কঠিন হয়ে পড়লেও নিজেকে দোষ না দিয়ে সহায়তা চাওয়া জরুরি।
ঘর গোছানো মানে শুধু মেঝে পরিষ্কার করা কিংবা আসবাব সাজিয়ে রাখা নয়, নিজের দৈনন্দিন জীবনকে একটু সহজ ও স্বস্তিদায়ক করে তোলাও এর অংশ। গবেষণায় অগোছালো পরিবেশের সঙ্গে নেতিবাচক অনুভূতি ও কম মানসিক সুস্থতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তুলুন।
মনে রাখবেন, সুন্দর ঘর মানেই দামি আসবাব নয়। বরং এমন একটি পরিবেশ, যেখানে দিনের শেষে ফিরে এসে আপনার মন কিছুটা হলেও শান্তি খুঁজে পায়।



