সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে ইন্ধন ও দেশি-বিদেশি চক্রান্ত আছে, দাবি পুলিশের

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে ইন্ধন ও দেশি-বিদেশি চক্রান্ত আছে, দাবি পুলিশের...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৪৭ পিএমসর্বশেষ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে ইন্ধন ও দেশি-বিদেশি চক্রান্ত আছে, দাবি পুলিশের

ঢাকার সাভার-আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে ইন্ধন ও দেশি-বিদেশি চক্রান্ত আছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আজ সোমবার বিকেলে শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল এলাকায় আল মুসলিম গ্রুপের সামনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন।

‘কোনোমতেই তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে যা যা দরকার আইনের মধ্যে থেকে সবকিছুই পুলিশ করবে।

অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী এবং ইন্ধনদাতাদের সম্পর্কে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের কাছে ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। যারাই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি জানান, গ্রেপ্তারদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা যে রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্দোলন চলাকালে হেলমেট ও মুখে মাস্ক কিংবা কাপড় বেঁধে কিছু ব্যক্তিকে অংশ নিতে দেখা গেছে। তাদের কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করেছি এবং আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে।

তিনি বলেন, ‘এই যে হেলমেট বাহিনী, আপনারা গত ১৭ বছরে দেখেছেন হেলমেট বাহিনী কারা ছিল, আমরা সেই হেলমেট বাহিনী সম্পর্কে আমরা অবগত আছি, আমরা কাজ করছি।

পুলিশ সুপার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, সাংবাদিকদের সংগ্রহে থাকা ভিডিও ফুটেজ এবং পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

তার দাবি, আন্দোলনরত শ্রমিকদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে কিছু ব্যক্তি সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটাচ্ছেন। তাদের প্রকৃত শ্রমিক হিসেবে বিবেচনা করছে না পুলিশ।

তিনি বলেন, ‘আসলে যারা ভাঙচুর করছেন তারা শ্রমিক নন। কারণ শ্রমিকেরা কখনো তার অরগানাইজেশন, তার গার্মেন্টস ভাঙচুর করে না।

পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে কিছু দুষ্কৃতকারী দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব কারখানা বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর কর্তৃপক্ষ নিজেদের সিদ্ধান্তে ছুটি ঘোষণা করেছে। নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

শামীমা পারভীন বলেন, আগের দিন শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা হলেও সোমবার সকাল থেকে ঢাকা জেলা পুলিশ পুরো এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। আশুলিয়া, ইপিজেড ও সাভারের বিভিন্ন পোশাক কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

তার দাবি, পুলিশের তৎপরতার কারণে এদিন কোনো পোশাক কারখানায় হামলার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি।

তিনি জানান, শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ এবং পোশাক কারখানার মালিকদের সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মালিকদের কারখানা খোলা রাখার এবং শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলেন, তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে শ্রমিকদের জীবিকা ও তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জড়িত। একইসঙ্গে দেশের অর্থনীতিতেও খাতটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ফলে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি।

আন্দোলন ঘিরে এ পর্যন্ত কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার জানান, ঢাকা জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ, আশুলিয়া ও সাভার থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে একাধিক ইউনিট অভিযান পরিচালনা করায় গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যার মধ্যে সব ইউনিটের তথ্য একত্র করে গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা সাংবাদিকদের জানানো সম্ভব হবে।

বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে চাইলেও বাইরের কিছু ব্যক্তি তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন শ্রমিকদের কোনো উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শ্রমিক ভাইবোনেরা, আপনারা কোনো ধরনের কুচক্রী মহলের ফাঁদে পা দেবেন না, যারা উসকানি দিচ্ছে, সেই উসকানিদাতাদের ফাঁদেও পা দেবেন না। কারণ এটাই আপনাদের রুটি-রুজি। আপনারা কর্মে ফিরে আসুন, কাজ করুন। নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।

আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়া প্রসঙ্গে ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আপনারা জানেন, আজ আইনশৃঙ্খলার অবস্থা অনেক ভালো ছিল। আর যেটা দুষ্কৃতকারীদের কথা বললেন, আমি আমার বক্তব্যের প্রথমেই বলেছি তাদের প্রতি আমাদের শূন্য সহিষ্ণুতা।

তিনি আরও বলেন, ‘যারাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে বা ইন্ধন দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চলমান শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে একটি পক্ষ শিল্পাঞ্চলে বড় ধরনের পরিকল্পনা করেছিল উল্লেখ করে পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও বড় পরিকল্পনা ছিল। তবে আগাম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান ও গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ায় সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।

তিনি বলেন, সাভার, আশুলিয়া, ইপিজেড ও হেমায়েতপুর এলাকায় অনেক পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। অতীতে যেভাবে শিল্পকারখানায় ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, এবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে সে ধরনের পরিস্থিতি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তারা আন্দোলনের পেছনে উসকানিদাতাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনেন।

পুলিশের ভাষ্য, সরকার শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আন্তরিকতা দেখিয়ে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এরপরও ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত থাকায় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অন্য কোনো মহলের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।

এ সময় পুলিশ সুপার দাবি করেন, দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত কাজ করছে বলে তাদের ধারণা। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ