বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

ছেলের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে লাঠির আঘাতে প্রাণ হারালেন মা

ছেলের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে লাঠির আঘাতে প্রাণ হারালেন মা...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৪৭ পিএমসর্বশেষ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম
ছেলের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে লাঠির আঘাতে প্রাণ হারালেন মা

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় যৌতুকের জন্য দেওয়া জমির দখল ও ফসল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে মিনা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে ঘাতকদের লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই মা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত মিনা বেগম একই এলাকার জামিনুর রহমানের স্ত্রী।

আটককৃতরা হলেন- একই উপজেলার উত্তর সোনাখুলি গুচ্ছগ্রাম এলাকার আমেতুল্লাহ মুন্সির ছেলে সামছুল হক (৬৫), আয়নাল হকের ছেলে সবুজ (২৮), আয়নাল হকের স্ত্রী ছবিরন (৫০) এবং আয়নাল হকের মেয়ে রাহেনা বেগম (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মিনা বেগমের ছেলে মিলনের (২৬) সঙ্গে আয়নাল হকের মেয়ে মোছা. হামিদা বেগমের (২২) বিয়ে হয়। বিয়ের কাবিন ও যৌতুকের একটি অংশ হিসেবে বন্ধকি একটি জমি চাষাবাদের জন্য জামাই মিলনকে দেন শ্বশুর আয়নাল হক। তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই ওই জমির দখল, চাষাবাদ এবং সাংসারিক নানা বিষয় নিয়ে জামাই ও শ্বশুরালয়ের লোকজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে সালিশে বসেন। সেখানে উভয়পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় যে, বিরোধীয় জমির বর্তমান ধান কাটা শেষ হলে পরবর্তীতে বসে বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে।

মঙ্গলবার বিকালে গবাদিপশুর খাদ্য (ছুট ধানগাছ) কাটার জন্য মিলনের ছোট ভাই মস্তো মিয়া (১৪) ওই জমিতে যায়। এ সময় আয়নাল হক ও তার ছেলে সবুজসহ কয়েকজন মিলে মস্তোর ওপর চড়াও হয় এবং মারধর শুরু করে। মস্তোর চিৎকারে তার মা মিনা বেগম সন্তানকে বাঁচাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় হামলাকারীরা মিনা বেগমের ওপরও চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন মিনা বেগম।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা ছামিদুল ইসলাম (৩৫) ও গোলাম মোস্তফার (৪৫) ভাষ্যমতে, মিনা বেগমের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও আটককৃতরাসহ ৫-৭ জন জমির ধান কাটতে থাকে। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা ধান কাটারত অবস্থায় চারজনকে হাতেনাতে আটক করেন। খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত চারজনকে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে যৌতুকের জমি ও ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ