জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে পদত্যাগ করা উচিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে এখন পর্যন্ত জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আঞ্চলিক সমন্বয় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি এখন শুধুমাত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন-তিনি সর্বমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এ বিষয়ে আমরা সংসদে কথা বলেছি, সংসদের বাইরেও কথা বলেছি এবং পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েছি যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে এই আমলে কী পরিমাণ জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে এবং খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, এই সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বারবার বলে এসেছে যে, নির্বাচনি সরকার এলেই আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ঠিক হবে; কিন্তু আমরা দেখলাম আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ আরও খারাপ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার বড় একটা অন্তরায় বিএনপি নিজেই। তাদের দলীয় কোন্দল, অন্তঃকোন্দল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারিত্বের কারণে প্রশাসন একপ্রকার নিরুপায় বিএনপির কাছে। বিএনপি কুক্ষিগত করে ফেলেছে। ফলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে না, এতে মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাংবাদিকদের আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে এবং প্রায় ৩০ জনের মতো মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার জন্য। বেশিরভাগই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, যে গণতন্ত্রের অঙ্গীকার নিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, তারা পুরোনো কায়দায় এবং ফ্যাসিবাদের মতো কর্তৃত্ববাদীর কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে।
চলমান শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের শুরু থেকেই এনসিপি শ্রমিকদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। আমরা বলেছি-শ্রমিকদের আন্দোলনটি ন্যায্য। কারণ ১২ হাজার ৫০০ টাকায় এই মুহূর্তে কারও পক্ষে জীবনযাপন সম্ভব নয়। জাতীয় পে-স্কেল বৃদ্ধি করার পর সবার জীবনে এর প্রভাব পড়েছে। কারণ গ্যাসের দাম, জ্বালানির দাম, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। ফলে শ্রমিকদের এই দাবিটা যৌক্তিক ছিল; কিন্তু শ্রমিকদের এই যৌক্তিক দাবিটি সরকার কর্ণপাত করেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটাকে কোনোভাবে শ্রমিক আন্দোলন হিসেবে বলতে চান না। এটাকে দুর্বৃত্তের নাশকতা ও অশান্তির কথা বলছে। আমরাও এটা বলছি যে ফ্যাসিস্টরা এই আন্দোলনের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে, সহিংসতার চেষ্টা করছে-তারা বাংলাদেশের শত্রু। কিন্তু তাদের এই সুযোগটা তো সরকারই করে দিয়েছে। সরকার যদি শুরুতেই শ্রমিকদের সঙ্গে বসে আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের দাবিটা মেনে নিত-তাহলে এখন এই পর্যায়ে যেত না, একজন শ্রমিকেরও লাশ আমাদের দেখতে হতো না।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে যে দমন-পীড়ন নীতি সরকার নিয়েছে, এই পদ্ধতিতে শ্রমিক আন্দোলন ঠেকানো যাবে না। তিনি অনতিবিলম্বে শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়ে শ্রমিকদের আস্থায় নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার এবং পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানান।
নাহিদ বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট দেখিয়ে বরাবরের মতো অজুহাত দেখাচ্ছে। তিনি ‘এই সরকারকে অজুহাতের সরকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ডক্টর আতিক মুজাহিদ এমপি, ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনা, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. কামরুল ইসলাম দর্পণ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসাইন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সাঈদ লিয়ন প্রমুখ।






